ত্বকেই ধরা পড়ে পিসিওএসের লক্ষণ। ছবি: সংগৃহীত।
অনিয়মিত ঋতুস্রাব, খাওয়াদাওয়া নিয়ন্ত্রণে রেখেও ওজন বেড়ে যাওয়া, ঋতুস্রাব চলাকালীন তলপেটে অসহ্য যন্ত্রণা— অনেক মেয়ের শরীরে এই উপসর্গগুলি দেখা যায়। এই রোগের পোশাকি নাম পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিন্ড্রোম, সংক্ষেপে পিসিওএস। এই অসুখে মহিলাদের শরীরে হরমোনের তারতম্য ঘটে। সমস্যা বাড়তে থাকলে তা কিন্তু ক্রমেই বন্ধ্যাত্বের দিকে চলে যেতে পারে। পিসিওএসকে জব্দ করার একমাত্র উপায় সুস্থ ও নিয়ন্ত্রিত জীবন যাপন। এই রোগ শরীরে বাসা বাঁধলে তার প্রভাব পড়ে ত্বকের উপরেও। কোন কোন লক্ষণ দেখে সতর্ক হবেন, বলে দিলেন চর্মরোগ চিকিৎসক কৌশিক লাহিড়ী।
১) শরীরে বিভিন্ন হরমোনের মাত্রা ওঠানামা করলে, মুখের উপরেও তার প্রভাব পড়ে। ব্রণর সমস্যা বেড়ে যায়। মুখে সেবাম নিঃসরণের হারও বেড়়ে যায়। ফলে ত্বক অতিরিক্ত তৈলাক্ত হয়ে পড়ে। সাধারণত চোয়াল, থুতনি, গলার উপর, পিঠে বা ঘাড়ে যদি ব্রণ হয়, তা হলে সতর্ক হোন।
২) শরীরে অপ্রয়োজনীয় লোমের আধিক্য হলেও সতর্ক হোন। ঠোঁটের উপর, চিবুক, বুক, নাভির নীচে, উরুতে মোটা লোমের আধিক্য হলে তা পিসিওএসের উপসর্গ হতে পারে। খুশকির সমস্যা খুব বেড়ে যাওয়াও পিসিওএসের লক্ষণ হতে পারে।
৩) মাথার চুল হঠাৎ করে পড়তে শুরু করলেও তা হতে পারে রোগের লক্ষণ। কপাল বা মাথার সামনের দিক পাতলা, মাঝখানের অংশ চওড়া হয়ে যাওয়া, চুলের ঘনত্ব কমে যাওয়া— এ সব উপসর্গকে অবহেলা করবেন না ভুলেও।
৪) গলা, বগল, কুঁচকি কিংবা স্তনের নীচের ত্বক মোটা কালো ভেলভেটের মতো হতে শুরু করলে সেই সমস্যাকে বলে অ্যাকানথোসিস নিগ্রিক্যানস। এই সমস্যাও পিসিওএসের দিকে ইঙ্গিত করে।
৫) গলায় বা বগলে ছোট ছোট ঝুলন্ত মাংসপিণ্ড বা স্কিন ট্যাগের সমস্যা দেখা দিলেও সতর্ক হওয়া দরকার।
চিকিৎসকের মতে, শুধু ত্বক দেখেই পিসিওএস সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায় না। তবে উপরে উল্লেখিত উপসর্গগুলির মধ্যে দু’টি বা তিনটি উপসর্গ একসঙ্গে দেখা দিলে আদৌ তা পিসিওএস কি না তা যাচাই করা দরকার।