ছবি : সংগৃহীত।
কিডনি স্টোনের সমস্যায় অনেকেই ঘরোয়া সমাধান হিসাবে কুলত্থ কলাইয়ের জল খান। কিডনিতে জমা অক্সালেট ক্রিস্টাল যাকে স্টোন বলা হয়, তা মারাত্মক যন্ত্রণাদায়ক। অনেক ক্ষেত্রেই সেই যন্ত্রণা থেকে মুক্তির জন্য অস্ত্রোপচার করাতে হয়। তবে স্টোন খুব বেশি বড় না হলে অনেকেই এই ঘরোয়া সমাধানে প্রতিকারের চেষ্টা করেন। অনেক ক্ষেত্রে তা যে কাজ করে, তার প্রমাণও পাওয়া গিয়েছে। আসলে এটি কার্যকরী দু’টি কারণে— এক, এর অ্যান্টি-লিথোজেনিক ক্ষমতা পাথরের ক্যালসিয়াম অক্সালেট ক্রিস্টালগুলিকে ভেঙে ছোট করতে এবং গলিয়ে দিতে সাহায্য করে। দুই, এর ডাইইউরেটিক ক্ষমতা প্রস্রাবের মাধ্যে শরীর থেকে স্টোন বার করে দিতে সাহায্য করে। তবে এর বাইরে নিয়মিত কুলত্থ কলাই ভেজানো জল খেলে আরও নানা ধরনের উপকার পাওয়া যায়।
ওজন নিয়ন্ত্রণে: এতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার এবং প্রোটিন থাকে। এটি মেদ ঝরাতে এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখতে সাহায্য করে।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে: কুলত্থ কলাই রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। এটি ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স কমাতে সাহায্য করে।
কোলেস্টেরল কমাতে: এটি রক্তে ‘খারাপ’ কোলেস্টেরল বা এলডিএল কমাতে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক।
ত্বকের সমস্যায়: ডাল বাটা বা কলাই ভেজানো জল ত্বকের র্যাশ, ব্রণ এবং রোদে জ্বলে যাওয়া রং স্বাভাবিক করতে পারে।
ঠাণ্ডা লাগার সমস্যায়: জ্বর বা সর্দি-কাশিতে কুলত্থ কলাইয়ের গরম স্যুপ খেলে শরীরে আরাম পাওয়া যায় এবং কফ পরিষ্কার হয়।
ঋতুস্রাবের সমস্যা হলে: মেয়েদের অনিয়মিত ঋতুস্রাবের সমস্যা বা অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ নিয়ন্ত্রণেও এটি সহায়ক।
কী ভাবে খাবেন?
২৫-৫০ গ্রাম কুলত্থ কলাই সারারাত জলে ভিজিয়ে রাখুন।
সকালে সেই জল ফুটিয়ে অর্ধেক করে নিন।
ছেঁকে নিয়ে খালি পেটে সেই জলটি পান করুন।
চাইলে ছেঁকে নেওয়া ডাল রান্না করেও খেতে পারেন।
সতর্কতা
এই কলাই কিছুটা ‘উষ্ণ’ প্রকৃতির। তাই যদি হাইপার-অ্যাসিডিটি বা আলসার থাকে তবে এটি খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। তা ছাড়া অন্তসঃসত্ত্বা মহিলাদের ক্ষেত্রেও এটি এড়িয়ে চলাই ভাল।