অগ্নিকাণ্ডে বেশির ভাগ মৃত্যুই হয় অ্যাসফিক্সিয়েশনে, এটি কী? ছবি: সংগৃহীত।
দিল্লির মালব্যনগরের একটি হোটেলে বুধবার অগ্নিকাণ্ডের জেরে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ২১ জনের। উদ্ধার হওয়া জনা চল্লিশেক মানুষের অবস্থাও সঙ্কটজনক। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, নিহতদের বেশির ভাগেরই মৃত্যু পুড়ে যাওয়ার কারণে হয়নি, বরং বিষাক্ত ধোঁয়া ও গ্যাস ফুসফুসে ঢুকে দমবন্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে। আহত অবস্থায় যাঁদের চিকিৎসা চলছে, তাঁদেরও ফুসফুস ভরে গিয়েছে বিষাক্ত গ্যাসে। সকলেই ‘অ্যাসফিক্সিয়েশন’ নামে এক ভয়াবহ অবস্থার শিকার হয়েছেন।
কী এই অ্যাসফিক্সিয়েশন?
এমন এক বিপজ্জনক শারীরিক অবস্থা, যেখানে শরীর সচল থাকার জন্য পর্যাপ্ত অক্সিজেন পায় না। শ্বাস নেওয়ার পথ অবরুদ্ধ হয়ে যায়, মস্তিষ্কে অক্সিজেন পৌঁছোনোর রাস্তাও বন্ধ হয়ে যায়। অ্যাসফিক্সিয়েশন আসলে অক্সিজেনের অভাবজনিত এক দমবন্ধকর পরিস্থিতি, যা তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে নিয়ে যায়। অনেক সময়ে ধোঁয়ায় বেশি ক্ষণ থাকলে, ফুসফুস ভরে যায় বিষাক্ত গ্যাসে। এই গ্যাসই সারা শরীরে অক্সিজেন পৌঁছনোর রাস্তাটা বন্ধ করে দেয়। ফলে চরম শ্বাসকষ্ট শুরু হয় আক্রান্তের। এমনও দেখা গিয়েছে, অ্যাসফিক্সিয়েশনের কারণে মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে মস্তিষ্কের কোষগুলির মৃত্যু হতে শুরু করে, যা আক্রান্তের প্রাণসংশয়ের কারণ হয়ে ওঠে।
অগ্নিকাণ্ডের ধোঁয়া কতটা বিপজ্জনক?
আগুন যখন দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে থাকে, তখন যে কালো চাপ চাপ ধোঁয়া তৈরি হয়, তাতে একাধিক বিষাক্ত গ্যাস থাকে যেমন, কার্বন ডাইঅক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড, হাইড্রোজেন সায়ানাইড, নাইট্রোজেন অক্সাইড, অ্যামোনিয়া ইত্যাদি। এই সব গ্যাস শ্বাসনালির পথে ফুসফুসে পৌঁছোলে শ্বাসপ্রশ্বাস তো বন্ধ হয়ই, শরীরে বিষ ছড়িয়ে পড়তে থাকে। ফলে অগ্নিদগ্ধ না হয়েও, আক্রান্তের দ্রুত মৃত্যু ঘটতে পারে। দিল্লির চিকিৎসকেরা বলছেন, মালব্যনগরের ওই হোটেলে আগুন থেকে বেঁচে গিয়েছিলেন যাঁরা, তাঁদেরও মৃত্যু হয়েছে বিষাক্ত ধোঁয়ায় অ্যাসফিক্সিয়েশনের কারণেই।
এমন অবস্থায় রোগীর বেশ কিছু লক্ষণও লক্ষণ দেখা দিতে থাকে যেমন—
১) তীব্র শ্বাসকষ্ট ও দমবন্ধ হয়ে আসা
২) অনবরত কাশি, গলা ও বুকে জ্বালাপোড়া অনুভূতি
৩) মাথাব্যথা, ত্বক-ঠোঁট নীল হয়ে আসা এবং মানসিক বিভ্রান্তি
৪) শেষে খিঁচুনি ও জ্ঞান হারিয়ে ফেলা
আক্রান্তকে তৎক্ষণাৎ উদ্ধার করে সিপিআর দিয়ে এবং ভেন্টিলেশন সাপোর্টে না রাখলে, বাঁচানোই সম্ভব হয়ে ওঠে না।