Suvendu Adhikari on Tree Plantation

রাজ্য জুড়ে এক কোটির বেশি গাছ লাগাবে সরকার, শুক্রবারই ছ’লক্ষ বৃক্ষরোপণ! ঘোষণা শুভেন্দুর

বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে কলকাতার নলবনে আয়োজিত ‘একটি গাছ মায়ের নামে’ কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখান থেকেই তিনি বৃক্ষরোপণের বার্তা দিয়েছেন।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬ ১১:৪৯
Share:

বৃক্ষরোপণের বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

রাজ্য জুড়ে এক কোটি ১০ লক্ষ গাছ লাগানোর কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে কেন্দ্রীয় সরকার আয়োজিত একটি কর্মসূচিতে শুক্রবার তিনি যোগ দিয়েছিলেন। সেখান থেকেই বৃক্ষরোপণের কথা জানিয়েছেন। শুক্রবার থেকে সরকারের এই উদ্যোগ চালু হচ্ছে। শুধু শুক্রবারই রাজ্য জুড়ে ছ’লক্ষ গাছের চারা লাগানো হবে বলে জানিয়েছেন শুভেন্দু।

Advertisement

বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে কলকাতার নলবনে আয়োজিত কর্মসূচির নাম ছিল ‘একটি গাছ মায়ের নামে’। শুভেন্দু জানান, নিজের মাকে উৎসর্গ করে তিনি গাছ লাগিয়েছেন। শুধু কলকাতা নয়, রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায়, স্কুল-কলেজে, পার্কগুলিতে এই ধরনের কর্মসূচি চলছে। যে ছ’লক্ষ গাছ শুক্রবার লাগানো হচ্ছে, তা মূলত ফলের গাছ। পরিবেশরক্ষায় বৃক্ষরোপণের উপযোগিতাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। জানিয়েছেন, শুধু গাছ লাগানো নয়, চারা থেকে সেগুলিকে মহীরুহে পরিণত করার দায়িত্বও নেবে সরকার। জনগণকে, বিশেষ করে ছাত্রছাত্রীদের এই কাজে এগিয়ে আসার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

ছোটদের পাঠ্যক্রমে বৃক্ষরোপণের উপযোগিতার কথা আরও বেশি করে অন্তর্ভুক্ত করাতে চায় সরকার। যাতে স্কুল স্তর থেকেই এ বিষয়ে সচেতনতার প্রসার হয়। তার জন্য পাঠ্যক্রমের মূল্যায়ন করা হবে। শুভেন্দু জানান, কলকাতা এবং শহরতলি পরিচ্ছন্ন রাখতেও বিশেষ কিছু পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। তাঁর কথায়, ‘‘বারাসত থেকে সোনারপুর-বারুইপুর পর্যন্ত বৃহত্তর কলকাতাকে যদি আকাশপথে দেখা যায়, শুধু কংক্রিটের জঙ্গল। কর্মসংস্থান, রুটিরুজির জন্য শহরের ব্যাপ্তি বাড়বে, স্বাভাবিক। কিন্তু বিগত সময়ে এ নিয়ে কোনও পরিকল্পনা করা হয়নি। প্রকৃতির সঙ্গে অনেক অন্যায় হয়েছে। আমাদের এখন তার খেসারত দিতে হচ্ছে। আগামী দিনে আমরা এ বিষয়ে আরও যত্নবান হব।’’

Advertisement

কিছু দিন আগে স্বচ্ছতা অ্যাপ চালু করা হয়েছিল। তার কথাও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, ‘‘কোথাও নোংরা পড়ে থাকলে অ্যাপের মাধ্যমে জানালেই সেই জায়গা পরিষ্কার করে দেওয়া হবে দু’ঘণ্টার মধ্যে। আপাতত ১০টি শহরে এটা চালু হয়েছে। রাজ্যের সব পুরসভায় তা পৌঁছে দেওয়া সরকারের লক্ষ্য। এ ছাড়া, কালীঘাট, দক্ষিণেশ্বর, তারাপীঠ, কোচবিহারের মদনমোহন মন্দির, জলপাইগুড়ির জল্পেশ-সহ বিভিন্ন মন্দিরের বাইরের পরিবেশকে সুন্দর করে সাজানোর দায়িত্ব আমাদের নিতে হবে।’’ দার্জিলিঙের টাইগার হিল, দক্ষিণবঙ্গের সমুদ্রতটের সৌন্দর্যায়নের বার্তাও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পুরুলিয়া, তরাই-ডুয়ার্সে অবাধে অরণ্যনিধন, জঙ্গলমহলে বনদফতরের জমি হাতবদলকে তিনি ‘বিপজ্জনক পরিস্থিতি’ বলে উল্লেখ করেছেন। জানিয়েছেন, সর্বত্র স্বচ্ছতাকে অগ্রাধিকার দিয়ে পরিবেশ রক্ষায় পশ্চিমবঙ্গকে দেশের এক নম্বর করে তোলাই হবে সরকারের লক্ষ্য। শুভেন্দু আরও জানান, রাজ্যে বহু মানুষ অর্থের অভাবে এখনও কয়লা ও কাঠ পুড়িয়ে রান্না করেন। এতে পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে। তাঁদের ইলেকট্রিক চুল্লির ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য পরিবেশ দফতরকে নিজস্ব তহবিল কাজে লাগাতে বলেছেন শুভেন্দু।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement