Air Pollution and Pregnancy

বদলে যাচ্ছে ভ্রূণের জিন? বায়ুদূষণ ক্ষতি করছে কতটা, খতিয়ান দিল এমস

বাতাসের বিষাক্ত ধূলিকণা যে শুধু ফুসফুসের ক্ষতি করছে তা নয়, মায়ের গর্ভে থাকা শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধিতেও থাবা বসাচ্ছে। বাতাসে ভাসমান বিষাক্ত কণা পৌঁছে যাচ্ছে মায়ের প্লাসেন্টা অবধি যা বদলে দিচ্ছে গর্ভস্থ শিশুর জিনের বিন্যাসও।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬ ১২:৪৪
Share:

বাতাসে ভাসমান দূষিত কণা কী কী ক্ষতি করছে গর্ভস্থ শিশুর? ছবি: ফ্রিপিক।

দূষণে পাল্লা যতই ভারী হচ্ছে, ততই কমছে গর্ভস্থ শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশ। বদলে যাচ্ছে জিনের বিন্যাসও। শহরাঞ্চলের দূষিত আবহাওয়ায় মাতৃজঠরে বেড়ে ওঠা শৈশবের ভবিষ্যৎ নিয়ে এমনই শঙ্কার কথা তুলে ধরেছে দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস (এমস)-এর চিকিৎসকেরা। তাতে বলা হয়েছে, দূষণকবলিত অঞ্চলগুলিতে ভ্রূণের মস্তিষ্ক, ফুসফুস এবং যকৃতে দূষিত কণার উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছে। আগামী দিনে তা আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন তাঁরা।

Advertisement

গর্ভেই বদল জিনে!

বাতাসে ভাসমান অতি সূক্ষ্ম দূষিত কণা প্লাসেন্টার ভিতর সেঁধিয়ে যাচ্ছে। এই প্লাসেন্টাই মায়ের শরীর থেকে খাদ্য ও অক্সিজেন ভ্রূণের শরীরে পৌঁছে দেয়। ফলে সেখানে জমে থাকা দূষিত পদার্থ ভ্রূণের শরীরেও ঢুকে যায়। এমসের চিকিৎসকেরা দাবি জানিয়েছেন, দূষিত বাতাসের পিএম ২.৫ এবং পিএম ১০ কণাগুলি এতটাই সূক্ষ্ম যে, তা মায়ের ফুসফুস ও রক্ত হয়ে সরাসরি প্লাসেন্টায় পৌঁছে যায়। সেখানে গিয়ে এটি মূলত তিন উপায়ে ক্ষতিসাধন করে।

Advertisement

১) গর্ভস্থ শিশুর শরীরে থাকা আইজিএফবিপি৩ নামে একটি জিনের কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে যায়। এই জিনই শিশুর বৃদ্ধি ও মানসিক বিকাশ ঘটায়। ফলে জিনটি নষ্ট হতে থাকলে, মায়ের গর্ভেই শিশুর বিকাশ থমকে যায়।

২) বিষাক্ত কণাগুলি রক্তনালির গঠনে বাধা দেয়, ফলে মায়ের থেকে শিশুর শরীরে খাদ্যকণা ও অক্সিজেন পৌঁছতে পারে না ঠিকমতো।

৩) শিশুর মস্তিষ্কে স্নায়বিক গঠনও বাধাপ্রাপ্ত হয়। ফলে শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধকতা নিয়ে জন্মাতে পারে শিশু।

গর্ভস্থ অবস্থায় শিশুর কী কী ক্ষতি হয়?

সময়ের আগে জন্মাতে পারে শিশু, ওজনও স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম হতে পারে।

জন্মের পর পরই শিশু শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত হতে পারে। ভবিষ্যতে সেই শিশুরই সিওপিডি বা হাঁপানিতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বাড়বে।

পর্যাপ্ত পুষ্টির অভাবে মায়ের গর্ভেই শিশুর বৃদ্ধি ঠিকমতো হবে না, ফলে শাররিক প্রতিবন্ধকতা নিয়ে জন্মাতে পারে শিশু।

দূষণের প্রভাবে অন্তঃসত্ত্বার রক্তচাপ বিপজ্জনক ভাবে বেড়ে যেতে পারে, যা মা ও শিশু দু’জনের জন্যই প্রাণঘাতী হতে পারে। মা যদি দূষণকবলিত এলাকায় থাকেন, তা হলে গর্ভপাতের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

ইঁদুরের উপর করা পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, গর্ভে দূষণের শিকার হওয়া শিশুরা পরবর্তী সময়ে স্নায়বিক রোগের শিকার হয়েছে। এতে শিশুর বুদ্ধিমত্তা ও আচরণগত সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement