Kul as Detoxifier

লিভার-সহ গোটা শরীর ‘ডিটক্স’ করতে পারে কুল! কী কী গুণ রয়েছে বসন্তের এই ফলের?

প্রচলিত সংস্কার যা-ই বলুক, বিজ্ঞান বলছে মরসুমি কুল খেলে ক্ষতি নেই কোনও। বরং তা শরীরকে প্রকৃত অর্থেই শুচি অর্থাৎ পরিচ্ছন্ন বা ময়লামুক্ত করতে সাহায্য করে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২২ জানুয়ারি ২০২৬ ১৪:০১
Share:

কুল শরীরের কী কী উপকারে লাগে? ছবি : সংগৃহীত।

প্রসাদী ফলের ছাপ এর মতো আর কোনও ফলের গায়ে রয়েছে কি না জানা নেই। কুল হল সেই ফল যা খাওয়ার আগে এ বঙ্গে অন্তত অধিকাংশ মানুষ পাঁজি দেখে নেন। তবে প্রচলিত সংস্কার যা-ই বলুক, বিজ্ঞান বলছে মরসুমি কুল খেলে ক্ষতি নেই কোনও। বরং তা শরীরকে প্রকৃত অর্থেই শুচি অর্থাৎ পরিচ্ছন্ন বা ময়লামুক্ত করতে সাহায্য করে।

Advertisement

সাধারণত মাঘ মাসের মাঝামাঝি সময় থেকেই বাজারে কুল উঠতে শুরু করে। মরসুমি ওই ফল টাটকা অবস্থায় পাওয়া যায় ফাল্গুন-চৈত্র পর্যন্ত। শুকনো কুল অবশ্য তার পরেও দীর্ঘ দিন মেলে আর কুলের আচার পাওয়া যায় সারা বছর। এক পুষ্টিবিদ জানাচ্ছেন শরীরকে ভিতর থেকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে বা বিষমুক্ত করতে অথবা চলতি ভাষায় বললে ‘ডিটক্স’ করতে কুল অত্যন্ত উপকারী।

মুম্বই নিবাসী ওই পুষ্টিবিদের নাম রিচা দোশি। কুল বসন্তের সময়ে গোটা দেশেই পাওয়া যায়। রিচা জানিয়েছেন, কী ভাবে কুল শরীরকে ময়লামুক্ত করে সুস্থ শরীরের পাশাপাশি ত্বকও ভাল রাখতে সাহায্য করে।

Advertisement

অ্যান্টি-অক্সি়ড্যান্টে ভরপুর

কুলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি এবং ফেনোলিক জাতীয় অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট থাকে। যেমন, ক্যাফিক অ্যাসিড, ফেরিউলিক অ্যাসিড ইত্যাদি। এগুলি শরীরে থাকা মুক্ত দূষিত কণা বা ‘ফ্রি র‍্যাডিক্যাল’কে শরীর থেকে দূর করে দেয়। ফলে কোষের ক্ষতি কম হয়। কোষ সুস্থ থাকে। বাড়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও।

রক্ত পরিশ্রুত করে

কুলের রসে কিছু ক্ষার জাতীয় পদার্থ এবং অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট থাকে, যেমন ফ্ল্যাভোনয়েড, স্যাপোনিন, পলিস্যাচারাইড ইত্যাদি। এগুলি সরাসরি রক্ত থেকে টক্সিন বা ক্ষতিকারক উপাদান দূর করতে সাহায্য করে। সেই সঙ্গে রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়া উন্নত করে, যা শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে।

লিভার ডিটক্স

শরীর ডিটক্স করার প্রধান দু’টি প্রত্যঙ্গের একটি হল লিভার। রিচা জানাচ্ছেন, কুলে রয়েছে ট্রিটারপেনিক অ্যাসিড এবং বেরবেরিন যা লিভারকে দূষণমুক্ত রাখে। কুলের রসে থাকা এক ধরনের সাইটোপ্রোটেক্টিভ এজেন্ট লিভারের বাইরে সুরক্ষা আস্তরণ তৈরি করতে পারে, যা অ্যালকোহল থেকে হওয়া ক্ষতির হাত থেকেও লিভারকে বাঁচাতে পারে। কুল লিভারে এনজাইমের মাত্রাও নিয়ন্ত্রণে রাখে। ফলে তা থেকে লিভারের কোষের ক্ষতি হতে পারে না। বিশেষ করে যাঁদের ফ্যাটি লিভারের সমস্যা রয়েছে তাঁদের জন্য কুল উপকারী।

কিডনি ডিটক্স

কিডনিও শরীর থেকে দূষিত পদার্থ দূর করতে সাহায্য করে। পুষ্টিবিদ বলছেন, কুলের অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট কিডনির স্বাস্থ্য ভাল রাখতেও সাহায্য করে। এর ডাইইউরেটিক ক্ষমতা রয়েছে। অর্থাৎ এটি শরীরে জমা জল প্রস্রাবের মাধ্যমে বার করে দিতে সাহায্য করে। ফলে কিডনির কাজে সুবিধা হয়।

হজম প্রক্রিয়ায় সহায়তা

কুলে থাকা ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। পেট পরিষ্কার থাকলে এবং হজম ভাল হলে শরীর স্বাভাবিকভাবেই বিষমুক্ত থাকে।

কাদের সতর্ক হওয়া উচিত?

যাঁদের ডায়াবেটিস আছে, তাঁদের শুকনো টোপা কুল খাওয়ার আগে সচেতন হওয়া উচিত। কারণ তাতে চিনির পরিমাণ অনেক বেড়ে যায়। এছাড়া অতিরিক্ত কুল খেলে পেট ফাঁপা বা হজমের সমস্যা হতে পারে।

দিনে ক’টি কুল খাওয়া যেতে পারে?

কুল শুকনো অথবা কাঁচা দু’ভাবেই খেতে পারেন। তবে দিনে ৬-৭টির বেশি খেলে অনেকের হজমের সমস্যা হতে পারে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement