মিষ্টি খাবার দেখলেই খাই খাই। মিষ্টি আড়ালে কোন বিপদ অপেক্ষা করছে? ছবি:সংগৃহীত।
বিকেল বেলা হঠাৎ করেই চকোলেট দেওয়া পেস্ট্রি খাওয়ার ইচ্ছে, কিংবা গরম গোলাপজাম? চোখের সামনে সেই খাবার দেখলেই জিভে জল। তার পরে নরম, ক্রিমের মতো পেস্ট্রি মুখ পুরলেই হল। সেই স্বাদেই মন হয় ফুরফুরে। মেলে সুখ!
এই সুখের আড়ালেই কিন্তু রয়ে যায় বিপদ, এমনটাই মনে করছেন পুষ্টিবিদ থেকে চিকিৎসকেরা। পেস্ট্রিতে থাকে চিনি। আসল কলকাঠি নাড়ে সেটিই। চিনি শরীরে গেলে মস্তিষ্কে বার্তা পৌঁছোয়, ক্ষরিত হয় ডোপামিন। এই হরমোনের দৌলতেই শরীর-মনে থাকে সুখের অনুভূতি। যে খাবারে মেলে সুখ, সেই খাবারের প্রতি জন্মায় ভাললাগা।
চিনি মানেই কি ক্ষতিকর?
শরীরে দ্রুত শক্তি যখন দরকার হয়, তখন প্রয়োজন হয় শর্করার। কারণ, চিনি খুব তাড়াতাড়ি গ্লুকোজে পরিণত হয় এবং রক্তের মাধ্যমে কোষে পৌঁছোয়। অক্সিজেনের উপস্থিতিতে গ্লকোজ ভেঙে শক্তি তৈরি হয়, যা শারীরবৃত্তীয় কাজের চালিকাশক্তি।
শর্করা মানেই ক্ষতিকর তা নয়। তবে চিনিরও রকমফের আছে। পুষ্টিবিদেরা বলছেন, শুধু ডায়াবেটিক নয়, সাদা চিনি এড়ানো উচিত সকলেরই। কারণ, চিনি শুধু রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি করে না, প্রদাহের নেপথ্যেও থাকে এই উপাদানটি।
উপকার না অপকার পাল্লা ভারী কোনটির?
চিনি শরীরে গভীর ভাবে প্রদাহ তৈরি করতে পারে। চিনির উপস্থিতিতে মস্তিষ্কে ডোপামিন নামক সুখী হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যায় বলে, পুরস্কার প্রাপ্তির অনুভূতি হয়। সেই কারণে, মিষ্টি, পেস্ট্রি, মিষ্টি জাতীয় খাবার খাওয়ার প্রতি এত ভাললাগা তৈরি হয়।
· যে সমস্ত চিনি জাতীয় খাবারে উচ্চ মাত্রায় ফ্রুক্টোজ় মেলে সেগুলি আরও ক্ষতিকর। কারণ, ফ্রুক্টোজ় ফ্যাট বা চর্বিতে পরিণত হয়ে লিভারে জমতে শুরু করে। ফলে ফ্যাটি লিভারের সমস্যা দেখা যায়। বাড়তে পারে কোলেস্টেরল। তার ফলে, রক্তবাহী নালিতে প্লাক জমে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি তৈরি হয়।
· মিষ্টির প্রেমে পড়লে ক্ষতি হতে পারে ত্বকেরও। অতিরিক্ত চিনি বা শর্করা কোনও উৎসেচকের সাহায্য ছাড়াই শরীরের প্রোটিন বা চর্বির সঙ্গে যুক্ত হয়। ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা ধরে রাখে কোলাজেন এবং ইলাস্টিন নামক প্রোটিন। চিনির অণু প্রোটিনের সঙ্গে জুড়লে ত্বক স্থিতিস্থাপকতা হারিয়ে ফেলে। বলিরেখা পড়া শুরু হয়, টানটান ভাব কমে যায়।
· অন্ত্রের ক্ষতিকারক ব্যাক্টেরিয়া, ইস্টের খাবার হল চিনি। এটি অন্ত্রে অম্লজাতীয় পরিবেশ তৈরি করে, যা পেটের অসুখের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। তা ছাড়া, ঘেরলিনের মতো খিদে সৃষ্টিকারী হরমোনের ক্ষরণ বাড়িয়ে দেয়, ফলে সারা ক্ষণ খাই খাই ভাব তৈরি হয়। যা আদতে ওজন বৃদ্ধির কারণ হয়ে উঠতে পারে।
বিপদ কোথায়
ইদানীং নানা রকম চিনি যুক্ত পানীয়, খাবার নতুন মোড়কে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। তরুণ প্রজন্ম এমন খাবারের প্রতি ঝুঁকছে। দিনের পর দিন চিনি জাতীয় খাবার খেলে শরীরের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির ঝুঁকি বাড়বেই।
পুষ্টিবিদেরা বলেন, সাদা চিনি হল এম্পটি ক্যালোরি অর্থাৎ এর কোনও পুষ্টিগুণ নেই, শুধুই ক্যালোরির মাত্রা বাড়ায় শরীরে। বদলে ফল থেকে প্রাপ্ত শর্করা, মধু, খেজুরের মিষ্টত্বই নানা ভাবে খাবারে জুড়তে বলছেন পুষ্টিবিদেরা। ক্যালোরির মাত্রা চিনির থেকে কম না হলেও, ভাল মানের গুড় ব্যবহার করা যায় চিনির বদলে। কারণ, গুড়ে সামান্য হলেও খনিজ থাকে।
রক্তে শর্করা বশে রাখার উপায়
সুস্থ থাকতে হলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা প্রয়োজন সকলেরই। সারা দিনে খানিকটা শারীরচর্চা করলে, ফাইবার জাতীয় খাবার খেলে কিংবা খাওয়ার পরে হাঁটলে শর্করার মাত্রা বশে রাখা সম্ভব।