(বাঁ দিক থেকে) কেসি বেণুগোপাল, অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি এবং জয়রাম রমেশ। —ফাইল চিত্র।
মধ্যপ্রদেশে রাজ্যসভা নির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থী মীনাক্ষী নটরাজনের মনোনয়ন বাতিল ঘিরে বিতর্ক পৌঁছোল দিল্লিতে। হলফনামায় ফৌজদারি মামলা গোপনের যে অভিযোগে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসার মীনাক্ষীর মনোনয়ন বাতিল করেছেন, তা পুরোপুরি অসত্য বলে নির্বাচন কমিশনে গিয়ে দাবি করল কংগ্রেসের প্রতিনিধিদল। কমিশনের তরফে কোনও সুরাহার আশ্বাস না মেলায় ফের পক্ষপাতদুষ্টতার অভিযোগ তোলা হয়েছে কংগ্রেসের তরফে।
মীনাক্ষীর প্রার্থিপদ বাতিল হওয়ার বিষয়টি নিয়ে বুধবার কংগ্রেসের প্রতিনিধিদল নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে। বৈঠকের পর এআইসিসির সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) কেসি বেণুগোপাল এবং কংগ্রেস সাংসদ অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি সাংবাদিক বৈঠক করেন। সিঙ্ঘভি বলেন, ‘‘মীনাক্ষী নটরাজনের বিরুদ্ধে একটি ফৌজদারি মামলা বিচারাধীন রয়েছে— এই যুক্তি দেখিয়ে নির্বাচন কমিশন তাঁর রাজ্যসভা ভোটের মনোনয়ন বাতিল করেছে, কিন্তু বাস্তবে এমন কোনও মামলা নেই। মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ। কারণ, আইনের দৃষ্টিতে এমন কোনও প্রতিষ্ঠিত ফৌজদারি মামলা আদৌ নেই, যা তিনি প্রকাশ করতে পারতেন।” বেণুগোপাল বলেন, ‘‘কংগ্রেসকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, নির্বাচন কমিশন বিষয়টি খতিয়ে দেখবে।’’
২৩০ আসনের মধ্যপ্রদেশ বিধানসভায় শাসকদল বিজেপির ১৬৩ এবং প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের ৬৬ জন বিধায়ক রয়েছেন। আগামী ১৮ জুন তিনটি রাজ্যসভা আসনে সেখানে ভোট হওয়ার কথা ছিল। জয়ের জন্য কোনও প্রার্থীকে অন্তত ৫৮টি প্রথম পছন্দের ভোট পেতে হত। পরিষদীয় পাটিগণিতের হিসাবে বিজেপির দু’টি এবং কংগ্রেসের একটি আসনে জয় নিশ্চিত ছিল। কিন্তু কংগ্রেস একটি আসনে লড়লেও বিজেপি তিনটি আসনেই প্রার্থী দিয়েছিল। কংগ্রেস আগেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল, তাদের বিধায়কদের কয়েক জনকে ভাঙিয়ে হরিয়ানা-হিমাচল প্রদেশের মডেলে রাজ্যসভা ভোট জয়ের ছক কষছে বিজেপি। রাহুল গান্ধী-মল্লিকার্জুন খড়্গের দল তাই নিজেদের বিধায়কদের কংগ্রেসশাসিত কর্নাটকে পাঠানোর জন্য চার্টার্ড উড়ানের ব্যবস্থা করেছিল। মঙ্গলবার বিকেলে পরিষদীয় দলের সঙ্গে বিমানে সওয়ার হয়েছিলেন নটরাজনও। কিন্তু মনোনয়ন বাতিলের খবর মেলার পরে তাঁদের ফিরিয়ে আনা হয়। এর ফলে বিজেপির তিন প্রার্থী— তরুণ চুঘ, রজনীশ অগ্রবাল এবং মহেশ কেওয়াটের জয় কার্যত নিশ্চিত হয়ে গেল।
বিজেপির তরফে রিটার্নিং অফিসারের কাছে অভিযোগ করা হয়েছিল, ২০২৫ সালের ২০ অগস্ট এ শ্রীলতা নামে এক মহিলা হায়দরাবাদের একটি মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মীনাক্ষী নটরাজন-সহ কয়েক জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-এর একাধিক ধারা প্রয়োগ করা হয়েছিল, যার মধ্যে ছিল ধারা ৩৫৬, ৬১, ৪৫, ৪৬, ৩৫১(২), ৩(৫) এবং ৭৯। ২০২৫-এর ১৭ সেপ্টেম্বর নটরাজনকে একটি নোটিস জারি করে, যাতে তাঁকে হাজির হয়ে জবাব দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে তাঁর আইনজীবী ২৪ অক্টোবর একটি পাল্টা হলফনামা দাখিল করেন, যেখানে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করা হয় এবং অভিযোগটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করা হয়। অভিযুক্ত পক্ষ মামলাটি খারিজ করার আবেদনও জানায়। আবেদনটি এখনও আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। যদিও মীনাক্ষীর দাবি, আদালতের তরফে নোটিস পাঠানো হলেও এখনও কোনও ফৌজদারি মামলা রুজু হয়নি তাঁর বিরুদ্ধে।