Tips to Reduce Post Meal Tiredness

ভরপেট খেয়ে পেট আইঢাই, ঝিমুনি! ভূরিভোজের নিয়মে কোন বদল আনলে শরীর থাকবে চাঙ্গা

পঞ্চব্যঞ্জন দিয়ে পেট পুরে খাওয়ার পরেই আইঢাই ভাব, ঝিমুনি আসছে? খাওয়ার নিয়মে ছোট্ট বদলেই এমন সমস্যা এড়ানো যায়। কী সেই কৌশল?

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৮ মার্চ ২০২৬ ১৩:৫৬
Share:

ভরপেট খাওয়ার পরে ঝিমুনি আসে? পেট করে আইঢাই। ভুল খাবারে নয়, রয়েছে কৌশলেই। ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

বিরিয়ানি থেকে চাইনিজ়, কন্টিনেন্টাল থেকে বাঙালি— ভোজের মেনুতে যদি সবই থাকে, কার না মন ফুরফুর করে? সুস্বাদু সব খাবার খেয়ে ফেলার পরেই শুরু হয় অস্বস্তি। পেট আইঢাই, ক্লান্তি, সব শেষে ঝিমুনি ভাব। আলস্য যেন চেপে বসে। ভরদুপুরে ভূরিভোজের পর যদি অফিস করতে হয়, তা হলে তো কথাই নেই!

Advertisement

মনের মতো নানা ব্যঞ্জন দিয়ে ভোজের পরেও কিন্তু শরীর তরতাজা রাখা যায়, বলছেন পেটের রোগের চিকিৎসকেরাই। আসলে খাওয়ার কিছু নিয়ম আছে। চিনি এবং কার্বোহাইড্রেট যুক্ত খাবার যদি বেশি পরিমাণে খাওয়া হয়, তা হলে সমস্যা বাড়বেই। খাওয়ার পরেই দু’চোখ ঘুমে জড়িয়ে আসবে।

নেপথ্যে রয়েছে কারণও। বেশি খাওয়ার পরে শরীরে প্যারাসিম্প্যাথেটিক স্নায়ুতন্ত্র সক্রিয় হয়ে পরিপাকের কাজকে ত্বরান্বিত করে। এই সময়ে ধীরে ধীরে শরীর শিথিল হয়। তা ছাড়া, রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়লে হরমোনের তারতম্যও ঘটে। তার ফলে ঝিমুনি আসে।

Advertisement

তবে পুষ্টিবিদ এবং পেটের রোগের চিকিৎসকেরা বলছেন, হোটেল কিংবা নিমন্ত্রণবাড়ির ভূরিভোজ হোক কিংবা বাড়িতেই এলাহি খাবারের আয়োজন, কী ভাবে খাওয়া হচ্ছে, তার উপর নির্ভর করে খাওয়ার পরে কতটা ঝিমুনি আসবে, পেট আইঢাই করবে কি না।

খাওয়ার কৌশলে ছোট্ট বদল

রকমারি খাবার থাকলে, সকলেই তা চেখে দেখেন। পছন্দ অনুযায়ী কোনওটি বেশি খান, কোনওটি কম। তবে শরীর ঠিক রাখতে হলে সাজানো খাবারের মধ্যে থেকে ফাইবার, প্রোটিন, ফ্যাট কোন খাবারে আছে বুঝে নিতে হবে।

শুরুতে কী?

শুরুটা করা দরকার ফাইবার দিয়ে। ফাইবার শুধু পেট ভরিয়ে দেয় না, খাবার পরিপাকের সময় রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধিতেও বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তাই শুরুটা গরম লুচি, কচুরি বা নান নয়, হওয়া দরকার সাধারণ স্যালাড দিয়েই। বিয়েবাড়ি বা বুফেতে যদি ফল থাকে, জুড়তে পারেন সেই সবও।

দ্বিতীয় এবং শেষ ধাপের খাবার বাছাই

খাবার বাছাইয়ের সময় মানতে হবে সহজ শর্ত ‘এফ-পি-সি’। এফ হল ফাইবার, পি হল প্রোটিন এবং সি হল কার্বোহাইড্রেট, যেটা থাকবে একেবারে শেষে। স্যালাড কিছুটা খেয়ে বা স্যালাডের সঙ্গেই বেছে নিতে পারেন মাছ, মাংসের পদ। তার সঙ্গে চলতে পারে ফ্যাট জাতীয় খাবার। একেবারে শেষে বেছে নিতে হবে কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার।

শরীর ঠিক রাখতে আর কোন শর্ত?

ফাইবার দিয়ে খাওয়া শুরুর আগে গলা ভেজান লেবু জলে। বাড়িতে হলে অ্যাপেল সাইডার ভিনিগার জলে মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে। অনু্ষ্ঠানবাড়ি বা রেস্তরাঁয় এক গ্লাস জলে পাতিলেবুর রস মিশিয়ে খেয়ে নিতে পারেন। অ্যাসিড জাতীয় পানীয় ইনসুলিন সেন্সিটিভিটি বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে। এমন পানীয় রক্তে শর্করার মাত্রা ঠিক রাখতে সাহায্য করে।

তবে খাওয়ার শুরুতে কার্বোনেটেড পানীয়, চিনি দেওয়া মকটেল, মিষ্টি শরবত বাদ দেওয়াই ভাল। খেতে হলে চিনি ছাড়া লেবুর শরবত বা টাটকা ফলের রস চলতে পারে। মকটেল বা চিনি যুক্ত শরবত শরীরের দ্রুত শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি করে। এতে প্রচুর ক্যালোরিও থাকে।

খাওয়ার শেষের নিয়ম

খাওয়া শেষে আলস্য কাটিয়ে ১০ মিনিট হাঁটা খুব জরুরি। হাঁটাহাটি খাবার হজম করতে সাহায্য তো করেই, পাশাপাশি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতেও সাহায্য করে।

প্রতিবেদনটি সচেতনতার উদ্দেশ্যে লেখা। সচেতন ভাবে খাওয়া-দাওয়া শরীর ভাল রাখতে সাহায্য করে। তবে খাওয়ার পর পেট ফাঁপা, বদহজমের মতো সমস্যা বেশি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া দরকার।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement