দেশ হোক বা বিদেশ— একলা ভ্রমণের চল বাড়ছে ক্রমশই। একাধিক ভ্রমণ সংক্রান্ত তথ্য-পরিসংখ্যানেই উঠে আসছে বিশ্ব জুড়ে মহিলাদের ভ্রমণ তালিকায় জায়গা করে নিচ্ছে বালি, জর্জিয়া, ভিয়েতনাম, তাইল্যান্ডের মতো দেশ। ভারতেও হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, পণ্ডিচেরির মতো জায়গায় একলা ভ্রমণার্থীদের সংখ্যাই বেশি।
একলা ঘোরার যেমন আনন্দ আছে, তেমনই আছে দায়-দায়িত্বও। তা নিয়েই ভূরি ভূরি পোস্ট এখন সমাজমাধ্যম জুড়ে। তা দেখে শুনেই কেউ মানস ভ্রমণে খুশি হচ্ছেন, কারও আবার ঘুমিয়ে থাকা যাযাবর মন মেলছে ডানা। অনেক মহিলাই চাইছেন ভয়, দ্বিধা সরিয়ে বেরিয়ে পড়তে। তবে তাঁদের অনেকেরই প্রশ্ন, শুরুটা হবে কী করে? প্রথম বারই তো দূর রাজ্যে বা দূর দেশে যাওয়ার সাহস-অর্থ জুটিয়ে ফেলা যায় না। তা হলে শুরুটা হবে কী করে? আপনি যদি কলকাতাবাসী হন, ভ্রমণতালিকায় রাখতে পারেন ৩ স্থান।
ফুটিয়ারি
তিন দিক পাহাড় ঘেরা জলাধার, ফুটিয়ারি নদীর উপর বাঁধ দিয়ে তৈরি এই জলাধারই ফুটিয়ারি ড্যাম নামে পরিচিত। পুরুলিয়ার তিলাবনি পাহাড়ের কোলেই তার অবস্থান। জলাধারকে ঘিরে রেখেছে সিন্দুরপুরের মতো পাহাড়। বিস্তীর্ণ নীল জলরাশি, তার গা বেয়ে উঠে গিয়েছে টিলা। চারধার সবুজ ঘেরা। এক কথায়, দু’টি দিন নিজের সঙ্গযাপনের জন্য এই স্থান আদর্শ।
ঘুরে আসুন ফুটিয়ারি জলাধার থেকে। ছবি:সংগৃহীত।
নানা সময়ে ফুটিয়ারির প্রেমে পড়েছেন পরিচালকেরাও। একাধিক বাংলা ছবির শুটিং-ও হয়েছে এখানে। যতই এই জায়গার ছবি ছড়িয়েছে, ততই তার রূপের টানে পর্যটকদের আনাগোনা বেড়েছে। এখান থেকে ঘুরে নিতে পারেন মুরুগুমা জলাধার, জয়চণ্ডী পাহাড়ও। কোথাও যেতে না চাইলে আশপাশের আদিবাসী গ্রামগুলিও ঘুরে দেখতে পারেন।
কী ভাবে যাবেন?
ট্রেনে চলুন পুরুলিয়া জংশন। সেখান থেকে গাড়িতে ফুটিয়ারি। পুরুলিয়া স্টেশন থেকে দূরত্ব ২৫ কিলোমিটার। যেতে ঘণ্টাখানেক সময় লাগবে।
কোথায় থাকবেন?
ফুটিয়ারি জলাধারের গায়েই থাকার জায়গা রয়েছে।
কাফেরগাঁও
পাহাড়-মেঘের ঠিকানায় চলুন। অপেক্ষা করছে কাফেরগাঁও। ছবি:সংগৃহীত।
পাহাড় যদি ভালবাসা হয়, তবে চলুন কাফেরগাঁও। কালিম্পং বা কাফেরগাঁও কিন্তু হতে পারে গন্তব্য। উত্তরবঙ্গ একলা ভ্রমণার্থীদের জনপ্রিয়। বিশেষত পাহাড়ি গ্রামের হোম স্টে-তে থাকা, পাহাড়ি মানুষের আতিথেয়তা সুন্দর অভিজ্ঞতা হতে পারে। পাইন ঘেরা এই জনপদ যেন নিজের সঙ্গ যাপনের জন্যই তৈরি। মেঘ-কুয়াশার আড়াল বড় রহস্যময়। আর সে সব সরে গিয়ে রোদ উঠলে, উঁকি দেয় কাঞ্চনজঙ্ঘা। জীবনের গতি যেন এখানে থমকে গিয়েছে। ব্যস্ততার ঊর্ধ্বে এক অলসযাপনের গল্প বলে পাহাড়ি এই গ্রামটি।
কী ভাবে যাবেন
বাস ধরে শিলিগুড়ি পৌঁছতে যেতে পারেন। ট্রেনে গেলে চলুন নিউ জলপাইগুড়ি। সেখান থেকে গাড়িতে বাকি পথ। গন্তব্য যদি কাফেরগাঁও হয়, তা হলে নিউ জলপাইগুড়ি থেকে সরাসরি গাড়া ভাড়া করতে পারেন। তবে একলা যাওয়ার জন্য খরচ বেশি মনে হলে কালিম্পং পর্যন্ত শেয়ার গাড়িতেও পৌঁছনো যায়। শিলিগুড়ির পানিট্যাঙ্কি মোড় থেকে শেয়ার জিপ ছাড়ে। কালিম্পং থেকে হোম স্টে পর্যন্ত গাড়ি ভাড়া করে যেতে বড়জোড় ঘণ্টা ২ লাগবে।
কোথায় থাকবেন
কালিম্পংয়ে হোটেল, হোম স্টে আছে। কাফেরগাঁওতে আছে কাঠের হোম স্টে।
মুর্শিদাবাদ
হাজারদুয়ারিও থাকুক ভ্রমণতালিকায়। ছবি:সংগৃহীত।
নবাবের শহর মুর্শিদাবাদও কিন্তু হতে পারে একলা ভ্রমণের গন্তব্য। হাজারদুয়ারি, বড় ইমামবাড়া, জাহানকোষা কামান, মোতি ঝিল— দর্শনীয় স্থান নেহাত কম নয়। তবে এই শহরে শুধু নবাবি জমানার নিদর্শন নয়, ছড়িয়ে রয়েছে মন্দির, বনিক সম্প্রদায়ের রাজকীয় কোঠি, রাজবাড়ি, টেরাকোটার মন্দির, জৈন মন্দিরও। এই শহরের পরতে পরতে রয়েছে ইতিহাস, সংস্কৃতি। মুর্শিদাবাদ কিন্তু সিল্কের শাড়িরও আড়তও বটে। বহরমপুর ছাড়াও ঘুরে নিন আজিমগঞ্জ, জিয়াগঞ্জ। নানা মানের হোটেল পেয়ে যাবেন।
কী ভাবে যাবেন
ট্রেনে সরাসরি চলুন মুর্শিদাবাদ স্টেশন। যেতে পারেন বহরমপুর। আজিমগঞ্জ থেকেও মুর্শিদাবাদ ভ্রমণ শুরু করা যায়। এই জেলায় দ্রষ্টব্য অনেক। যে অংশটি বেছে নিতে চান, সেটি মাথায় রেখে গন্তব্য স্থির করাই ভাল।