নেমারের (বাঁ দিকে) সঙ্গে কার্লো আনচেলোত্তি। ছবি: এক্স।
১৯৯৪ সাল। ১৭ জুলাই। আমেরিকার রোজ় বোল স্টেডিয়াম। ৯৪,০০০ দর্শকের সামনে রবার্তো বাজ্জিওর সেই কুখ্যাত পেনাল্টি মিস্। যে ভুল শেষ করে দিয়েছিল ইটালির বিশ্বকাপ জেতার স্বপ্ন। শুধু ইটালির নয়, স্বপ্ন শেষ হয়ে গিয়েছিল কার্লো আনচেলোত্তিরও। ইটালি দলের সে দিনের সহকারী কোচ এখন ব্রাজ়িলের দায়িত্বে। ৩২ বছর আগে যে ব্রাজ়িলের কাছে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল, সেই ব্রাজ়িলের ট্রফি খরা কাটানোর দায়িত্ব তাঁর হাতে। সেই আমেরিকার মাটিতেই। ৩২ বছর পরে। ২০২৬ সালের ১৯ জুলাই কি বিশ্বকাপ হাতে তুলতে পারবেন তিনি?
১৯৮২ সালে বিশ্বকাপ জিতেছিল ইটালি। কিন্তু চোটের কারণে বিশ্বকাপের দলে সুযোগ পাননি আনচেলোত্তি। ১৯৮৬ সালে দলে ছিলেন। কিন্তু চোটের কারণেই প্রথম একাদশে সুযোগ পাননি এই মিডফিল্ডার। ১৯৯০ সালে সেমিফাইনালে ইটালির হার বেঞ্চে বসে দেখতে হয়েছিল তাঁকে। চার বছর পর সেই ইটালির সহকারী কোচ হিসাবেই ফাইনালে ওঠা। কিন্তু রানার্স হয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয় তাঁকে। কে ভেবেছিল, সেই আনচেলোত্তি ভবিষ্যতে ক্লাব ফুটবলে বিশ্বের সেরা কোচদের একজন হবেন।
ইউরোপের সেরা পাঁচটি দেশের লিগ তিনি জিতেছেন। রেকর্ড পাঁচ বার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছেন। আনচেলোত্তি অবশ্য লম্বা লিগের থেকে নক আউট প্রতিযোগিতায় বেশি সফল। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সাফল্য সে কথাই বলে। সম্ভবত সেই কারণেই ছয় দশক পরে বিদেশি কোনও কোচকে দলের দায়িত্ব দিয়েছে ব্রাজ়িল।
গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
ইটালির ফুটবলার হলেও ব্রাজ়িলের ফুটবলের ভক্ত আনচেলোত্তি। ১১ বছরের আনচেলোত্তি ১৯৭০ সালে ইটালির হাতে বিশ্বকাপ দেখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সে বার পেলে, গার্সন, রিভেলিনো, কার্লোস আলবার্তোদের ব্রাজ়িল দলকে দেখে চমকে গিয়েছিলেন আনচেলোত্তি। পরে বলেছিলেন, “ব্রাজ়িলের ফুটবলারদের প্রতিভা দেখে আমি অবাক হয়েছিলাম।”
কোচ হিসাবে ব্রাজ়িলের বহু ফুটবলারের সঙ্গে কাজ করেছেন আনচেলোত্তি। এসি মিলানে কাকা, কাফু, রোনাল্ডিনহো, রিভাল্ডো, রোনাল্ডো, চেলসিতে ডেভিড লুইজ়, র্যামিরেজ়, পিএসজি-তে থিয়াগো সিলভা, রিয়াল মাদ্রিদে মার্সেলো, ক্যাসেমিরো, এডের মিলিটাও, রদ্রিগো, ভিনিসিয়াস জুনিয়রকে সামলেছেন তিনি। সেই কারণেই হয়তো অব্রাজ়িলীয় কোচদের মধ্যে তিনিই ব্রাজ়িলের ফুটবলকে সবচেয়ে ভাল ভাবে চেনেন।
আনচেলোত্তির দল সাজানোর ক্ষেত্রেও বৈচিত্র রয়েছে। ক্যাসেমিরো, নেমারকে ফিরিয়েছেন। তাঁর দলে ১১ জন ফুটবলারের বয়স ৩০ বছরের বেশি। আবার দুই কিশোর ফুটবলারও রয়েছেন। অর্থাৎ, অভিজ্ঞতা ও তারুণের মেলবন্ধন ঘটিয়েছেন। তিনি চান, ব্যক্তিগত প্রতিভা নয়, একটি দল হিসাবে বিশ্বকাপে খেলুক ব্রাজ়িল।
তবে কিছু সমস্যাও রয়েছে ব্রাজ়িলের সামনে। আক্রমণ ও মিডফিল্ড, কোথায় তিনি জোর দেবেন, সেটা আনচেলোত্তির কাছে কঠিন পরীক্ষা। কাফু বা রবার্তো কার্লোসের বিকল্প এখনও পায়নি ব্রাজ়িল। রোনাল্ডোর পরে আদর্শ স্ট্রাইকারও পাওয়া যায়নি। রদ্রিগো বা উইলিয়ান দলে নেই। ফলে নেমারের উপর বেশি ভরসা করতে হবে আনচেলোত্তিকে। কিন্তু তিন বছর ব্রাজ়িলের হয়ে খেলেননি নেমার। কয়েক দিন আগেও চোটে ছিলেন। ফলে তাঁর কাছে যা চাইছেন, তা আনচেলোত্তি পাবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
আনচেলোত্তির সামনে অনেক প্রশ্ন। সেই সব প্রশ্নের জবাব দ্রুত খুঁজতে হবে তাঁকে। ব্রাজ়িল মনে করেছে, এই পরিস্থিতিতে আনচেলোত্তির থেকে ভাল কোচ তারা পেত না। আনচেলোত্তি কী মনে করেন? ক্লাব ফুটবলে সেরাদের দলে তিনি অনেক আগেই নাম লিখিয়েছেন। এ বার সময় বিশ্বফুটবলে সেরাদের দলে ঢোকা। ৩২ বছর আগে যাদের কাছে হেরে বিশ্বকাপ অধরা থেকে গিয়েছিল, তাদের হাত ধরেই স্বপ্নপূরণের চেষ্টা করছেন ইটালীয় আনচেলোত্তি।