লেবাননে আবার হামলা। — ফাইল চিত্র।
আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে শান্তি সমঝোতা চুড়ান্ত হয়ে যেতে পারে। সমাজমাধ্যমে শনিবার এই দাবি করলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফ। সেই শান্তি সমঝোতার জন্য ইরানের তরফে অন্যতম শর্ত ছিল লেবাননে শান্তি। যদিও শরিফের এই ঘোষণার পরেই আবার লেবাননে হামলা চালাল ইজ়রায়েল। লেবাননের সরকারি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দেশের দক্ষিণাংশে প্রায় ২০টি এলাকায় বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলে হামলা চালিয়েছে ইজ়রায়েল। লেবাননের টায়ের জেলার মারাক্কেহতে এক জনের মৃত্যুও হয়েছে।
শনিবার এক্সে শরিফ লেখেন, ‘‘শান্তি সমঝোতার কাছাকাছি এসে গিয়েছি। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই চূড়ান্ত হতে পারে। তা সইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে পাকিস্তান। তার পরে প্রযুক্তিগত স্তরে আলোচনা হবে।’’ তার পরেই আমেরিকা এবং ইরানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন শরিফ। তিনি জানান, এই আলোচনার সময় দুই দেশই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিল। পশ্চিম এশিয়ার ‘ভ্রাতৃপ্রতিম’ দেশগুলিকেও ধন্যবাদ দিয়েছেন শরিফ। তিনি লিখেছেন, ‘‘আমরা নিশ্চিত যে, এই ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তি ভবিষ্যতে দীর্ঘস্থায়ী শান্তির ভিত্তি গড়ে তুলবে।’’
এর আগে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আরাঘচি জানিয়েছেন, খুব শীঘ্রই আমেরিকার সঙ্গে শান্তি সমঝোতা চূড়ান্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘‘ইসলামাবাদ মউ সমঝোতাটি শেষের পথে। এক-দু’দিন বা কয়েক দিনেই শেষ হয়ে যাবে। তবে সেটি চূড়ান্ত হওয়ার পরে সই হলেই জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে। আমরা তা নিয়ে আরও আলোচনা করব।’’ আরাঘচি এ-ও জানান, বিভিন্ন প্রান্তে সংঘাতে আনুষ্ঠানিক ভাবে ইতি টানবে ‘ইসলামাবাদ মউ’। এমনকি, লেবাননেও সংঘাত শেষ হবে। মউয়ে স্পষ্টই বলা হয়েছে, তা স্বাক্ষরিত হলে দুই পক্ষই পরস্পরের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করবে।
ইরান যখন সমঝোতা নিয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত করেছে, পাকিস্তান আরও এক ধাপ এগিয়ে তা চুড়ান্ত হওয়ার দিনক্ষণ জানিয়েছে, তখনই লেবাননের দক্ষিণে শনিবার আবার হামলা চালাল ইজ়রায়েল। সেই নিয়ে ইজ়রায়েল আগেই হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছিল। জানিয়েছিল, হিজ়বুল্লাদের নিশানা করে লেবাননে হামলা চালানো হবে। যত ক্ষণ না ইরানের মদতপুষ্ট ওই সশস্ত্র গোষ্ঠী উত্তর ইজ়রায়েলে হামলা চালানো বন্ধ করবে, তত ক্ষণ পাল্টা হানা চলবেই। তার পরেই শনিবার নতুন করে লেবাননে হামলা শুরু করল ইজ়রায়েল।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের মাটিতে ইজ়রায়েলি সেনার হামলার পরেই প্রত্যাঘাত করেছিল তেহরানের মদতপুষ্ট ‘অ্যাক্সিস অফ রেজ়িস্ট্যান্স’। লেবাননের হিজ়বুল্লা, ইরাকের ‘পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস’ (পিএমএফ) এবং আশাব আল-কাহ্ফ, ইয়েমেনের হুথির মতো সশস্ত্র শিয়া গোষ্ঠী রয়েছে সেই তালিকায়। তাদের বিরুদ্ধে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে ইজ়রায়েলি সেনাও।