(বাঁ দিকে) উজ্জ্বল বিশ্বাস। মহুয়া মৈত্র (ডান দিকে)।
কৃষ্ণনগর আদালতে তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র আসছেন। এই খবর চাউর হতেই আদালত চত্বরে ডিম-টম্যাটো নিয়ে হাজির হয়ে গিয়েছিলেন বিজেপির কর্মী-সমর্থকেরা। কিন্তু মামলাটির শুনানির হয়নি। মহুয়া কিংবা তাঁর আইনজীবী কেউই আদালতে উপস্থিত হননি। ‘হতাশ’ বিজেপি কর্মীরা ফিরে যান। তার পরেই সমাজমাধ্যমে তাঁদের আদালতে নিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিলেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ।
সমাজমাধ্যমে মহুয়া লিখেছেন, ‘‘আপনারা আমার জন্য অধীর অপেক্ষায় ছিলেন। আপনাদের প্রত্যেকের মুখ দেখা যাচ্ছে। আপনাদের তো দাদারা পাঠিয়েছে, বলেছে, যান, যান হিরোইন হবেন, ডিম-টম্যাটো নিয়ে অপেক্ষা করুন।” প্রাক্তন মন্ত্রীর উপর ডিম-হামলার প্রসঙ্গ টেনে তৃণমূল সাংসদ বলেন, “মহুয়া মৈত্র কিন্তু উজ্জ্বল বিশ্বাস নন। রাজনীতি আমিও করছি, আপনারাও করছেন। রাজনীতি একটি সিস্টেমের মধ্যে চলে। বিধায়ক ছিলাম, এখন সাংসদ হয়েছি। শুভেন্দু অধিকারী এসে আমাদের লোকসভায় মিটিং করেছেন, অনেকে আমাকে পাল্টা মিটিং করতে বা কালো পতাকা দেখাতে বলেছিলেন। কিন্তু আমি ‘না’ করেছি। সবার গণতান্ত্রিক অধিকার আছে মিটিং করার।”
ডিম-টম্যাটো হাতে নিয়ে দাঁড়ানো বিজেপির মহিলা ব্রিগেডের উদ্দেশে মহুয়ার হুঁশিয়ারি, “আপনারা যে আমার জন্য ডিম-টম্যাটো নিয়ে অপেক্ষা করছেন, এটা পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে। এ বার আমি কী করব? আমি কিন্তু এফআইআর করব। আপনারা বলবেন, ‘পুলিশ তো আমাদের। বিজেপির কোনও সমস্যা নেই।’ কিন্তু এফআইআর না নিলে নিম্ন আদালতে যাব, নিম্ন আদালত না নিলে হাই কোর্টে যাব, হাই কোর্টেও যদি না হয় প্রয়োজনে সুপ্রিম কোর্টে যাব। তাই যাঁরা দু’মিনিটের জন্য ডিম নিয়ে হিরোইন হতে এসেছিলেন, তাঁদের কিন্তু আগামী তিন বছর আদালতে হাজিরা দিতে হবে। তখন কিন্তু বিজেপির কোনও দাদারা বাঁচাতে আসবে না।”
জায়গায় জায়গায় বিজেপি তথা জনতার রোষে পড়ছেন তৃণমূল নেতারা। দুর্নীতির অভিযোগে ধৃত তৃণমূলের নেতা-জনপ্রতিনিধির গায়ে ডিম ছোড়া হচ্ছে। সঙ্গে ‘চোর-চোর’ স্লোগান। তাঁর জন্য ডিম-টম্যাটো নিয়ে অপেক্ষারত বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে মহুয়ার বার্তা, তিনি আগামী নির্বাচন পর্যন্ত নিজের লোকসভা এলাকায় সসম্মানে থাকবেন। কেউ হেনস্থা করতে এলে আইনি পথে তার জবাব দেবেন।