শসা খাওয়ার সঠিক নিয়ম কী? ছবি: সংগৃহীত।
প্রবল রোদ উঠুক বা মেঘলা দিনের ভ্যাপসা গরম, শরীরে তৎক্ষণাৎ স্বস্তি এনে দিতে পারে এক টুকরো শসা। গরমে আরামদায়ক কিছু খেতে ইচ্ছে করলে হাত চলে যায় শসার দিকে। হালকা, জলে ভরা শসা শরীরকে ঠান্ডা রাখে। এই কারণেই শসা যেন গরমের সময়ে অঘোষিত নায়ক। কিন্তু জানেন কি, শসা খাওয়ার ক্ষেত্রেও অনেকেই সাধারণ ভুল করে বসেন? আর সেই ভুলেই সম্পূর্ণ পুষ্টিগুণ শরীরে পৌঁছোয় না।
পুষ্টিবিদদের মতে, শসা খাওয়ার আগে খোসা পুরোপুরি ছাড়িয়ে ফেলা উচিত নয়। অনেকের ধারণা, খোসা ছাড়ালে শসা পরিষ্কার হয় এবং খেতেও সুস্বাদু হয়। কিন্তু আদপে শসার অন্যতম পুষ্টিকর অংশ সেই খোসা।
শসা খাওয়ার আগে খোসা পুরোপুরি ছাড়িয়ে ফেলা উচিত নয়। ছবি: সংগৃহীত
খোসায় কী থাকে?
শসার খোসা পুষ্টির ভাণ্ডার। এতে থাকে অদ্রবণীয় ফাইবার, অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, ভিটামিন কে, ভিটামিন এ, পটাশিয়াম, সিলিকা এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ খনিজ। এই উপাদানগুলি হজম ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে, শরীরের কোষকে সুরক্ষা দেয় এবং ত্বকের স্বাস্থ্যেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অদ্রবণীয় ফাইবার মলত্যাগে সাহায্য করে, হজমক্ষমতা উন্নত করে। অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট শরীর থেকে প্রদাহ কমানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। শসার এই পুষ্টিকর অংশ ছাড়িয়ে খেলে সব্জির পুষ্টিগুণ অনেকটাই কমে যায়। ফাইবার কমে যায়, অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টের পরিমাণ কমে যায়, হজমক্ষমতা কমে যায়, পড়ে থাকে শুধু জল। অর্থাৎ, আপনি যে শসা স্বাস্থ্যকর ভেবে খাচ্ছেন, সেটির গুণ আর আগের মতো নেই।
তা ছাড়া অনেকে শসা কাটার পরে অনেক ক্ষণ রেখে দেন। এতে এর জলীয় অংশ কমে যায় এবং সতেজতাও নষ্ট হয়। তাই কেটে সঙ্গে সঙ্গে খাওয়াই সবচেয়ে ভাল।
তবে বাজারের শসার গায়ে কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ লেগে থাকার ঝুঁকি থাকে। তাই খোসাটি ভাল করে বার বার ধুয়ে নিতে হবে খাওয়ার আগে। তবে যদি দেখেন, শসার খোসা অতিরিক্ত মোটা ও তেঁতো, সে ক্ষেত্রে শসা ছাড়িয়ে খাওয়াই ভাল। নয়তো অতিরিক্ত পুষ্টিগুণ পাওয়ার জন্য শসার উপরে অল্প সৈন্ধব লবণ ছড়িয়ে খাওয়া যায়। গরমের সময়ে শরীরে জলাভাব দেখা গেলে এই লবণই ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করবে।