ইনকন্টিনেন্স কী কী কারণে হয়? ছবি: সংগৃহীত।
১০ থেকে ১৫ মিনিট অন্তর প্রস্রাবের বেগ আসে। বাড়িতে থাকলে তো বটেই, ঘুরতে গেলেও বার বার রাস্তায় শৌচাগারের খোঁজ করতে হয়। দিনে দিনে এই মূত্র ধরে রাখতে না পারার অভ্যাস আরও খারাপ জায়গায় পৌঁছে যায়। হাঁচতে কিংবা কাশতে গেলেও পোশাক ভিজে যায়। বয়সজনিত কারণে তো বটেই, অনেক সময়ে মাঝবয়সিরাও ইনকন্টিনেন্স বা প্রস্রাব ধরে রাখতে না পারার সমস্যায় ভোগেন। অনেকেই লজ্জা পেয়ে চিকিৎসকের কাছে গিয়ে এমন সমস্যার কথা খুলে বলতে পারেন না। সঠিক চিকিৎসা ও কিছু নিয়ম মেনে চললে এই সমস্যার হাত থেকে সহজেই নিস্তার পাওয়া সম্ভব। ইনকন্টিনেন্স সাধারণত দু’ধরনের হয়, আর্জ ইনকন্টিনেন্স এবং স্ট্রেস ইনকন্টিনেন্স।
আর্জ ইনকন্টিনেন্স: এ ক্ষেত্রে হঠাৎ করে প্রস্রাবের বেগ আসে, কয়েক মিনিটের মধ্যে শৌচালয়ে না গেলে প্রস্রাব বেরিয়ে আসে। এর পিছনে মূল কারণ হল মূত্রথলির ভিতরের ডেট্রুজ়র পেশির সংকোচন। অনেক সময় মূত্রনালিতে সংকোচন বা ওভার অ্যাক্টিভ ব্লাডারের কারণে এই সমস্যা হয়। এ ছাড়া ওবেসিটি থাকলে, ডায়াবিটিস থাকলে কিংবা ধূমপায়ীদের মধ্যেও এই সমস্যা দেখা যায়। এই সমস্যা থেকে রেহাই পেতে হলে জীবনধারায় বদল আনতে হবে। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
স্ট্রেস ইনকন্টিনেন্স: প্রসব অথবা মেনোপজের পরে অনেক মহিলাই স্ট্রেস ইউরিনারি ইনকন্টিনেন্স (এসইউআই) রোগে আক্রান্ত হন। এই ধরনের সমস্যায় হাঁচি, কাশি, জোরে হেসে ওঠা, কিংবা লাফিয়ে ওঠার সময়ে তলপেটে চাপ বাড়তে থাকে। এমন কোনও অবস্থায় সংশ্লিষ্ট রোগী তাঁদের অজান্তেই প্রস্রাব করে ফেলেন। বেশ কিছুটা সময়ের পরে এই বিষয়টি তাঁদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এ ক্ষেত্রে মূত্রথলির পেশি ঠিক থাকে, কিন্তু শ্রোণিদেশের পেশি দুর্বল হয়ে পড়ে।
স্ট্রেস ইউরিনারি ইনকন্টিনেন্সের ক্ষেত্রে মহিলাদের প্রত্যেক মহিলার দিনে অন্তত এক বার সময় বার করে কেগেল ব্যায়াম করা উচিত। শ্রোণিদেশের পেশির বিভিন্ন ব্যায়াম একত্রে 'কেগেল এক্সারসাইজ়' নামে পরিচিত। হাত-পা ও শরীরের অন্যান্য অংশের পেশির মতোই পেলভিক মাসলের শক্তিও যাতে বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে অটুট থাকে, মূত্রথলির কর্মক্ষমতা বজায় থাকে।
কী ভাবে করবেন?
মাটিতে চিত হয়ে সোজা ভাবে শুয়ে পড়ুন। দুই পা ফাঁক করে রাখুন, হাত দু’টি শরীরের দু’পাশে সোজা করে রাখুন। এ বার শরীরের নিম্নভাগ (বুকের নীচ থেকে নিতম্ব পর্যন্ত) উপরের দিকে উঠিয়ে দিন। এ বার ১৬ গুনতে হবে। শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক থাকবে। হয়ে গেলে ধীরে ধীরে শরীর নীচে নামিয়ে দিন। প্রত্যেক দিন ৭-৮ সেট করলেই যথেষ্ট।
এ ছাড়া কেগেলের সবচেয়ে সহজ ব্যায়াম কোনও জায়গায় বসে বা শুয়ে দম ধরে রাখা ও ছাড়ার মাধ্যমেই করা যায়। প্রস্রাবের বেগ নিয়ন্ত্রণ করার মতো করে পেলভিক মাসলগুলি শক্ত করে ধরে রাখতে হবে ও ছেড়ে দিতে হবে। মূত্রথলি খালি রয়েছে, অবশ্যই এমন সময়ে এটি করতে হবে।
কেগেল ব্যায়াম করার আগে দক্ষ ফিটনেস প্রশিক্ষকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। যাঁদের ওজন অত্যধিক বেশি, তাঁরা ওজন না কমিয়ে এই ব্যায়াম করবেন না। এতে কোমরে অতিরিক্ত চাপ পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কোমরে কোনও চোট বা আঘাত থাকলেও এই ব্যায়াম করা উচিত নয়।