ছবি : সংগৃহীত।
ভারতীয়রা মিষ্টি বানান ক্ষীর-ছানা-দুধ দিয়ে। আর পশ্চিমী বিশ্বে ছানা-ক্ষীর ইত্যাদির জায়গা নেয় চিজ়। বিশেষ করে ইউরোপে চিজ় দিয়ে তৈরি নানা ধরনের মিষ্টি পদ খাওয়ার চল রয়েছে। চিজ়কেক সেই তালিকায় সর্বোত্তম। সুস্বাদু এবং মাখনের গন্ধে ভরা বিস্কুটের বেস। তার উপরে নরম চিজ়ের পুরু পরত। সব সুদ্ধ অভেনে ঢুকিয়ে বেক করা হয়। চিজ়ের পরতের গায়ে হালকা বাদামি রং ধরলে তার পরে বার করা হয়। মুখে দিলে আরামে চোখ বন্ধ হয়ে আসা স্বাদের সৃষ্টি সেখান থেকেই। কিন্তু সে মিষ্টি যে প্রাণ ভরে খাবেন, সেই উপায় নেই।
ক্রিম চিজ় এবং চিনির দৌলতে চিজ়কেকে রয়েছে গাদাগুচ্ছের ক্যালোরি, ট্রান্স ফ্যাট এবং শর্করা। তবে স্বাস্থ্যসচেতনেরা সুস্বাদু সমাধান ঠিকই বার করে নেন। চিজ়কেকের ক্ষেত্রেও তা-ই হয়েছে।
ভূমধ্যসাগরীয় দেশগুলিতে লেবেনে নামের এক ধরনের চিজ় খাওয়া হয়। এটি আদতে দই থেকে তৈরি। ইয়োগার্ট চিজ়। আর দই দিয়ে যদি চিজ় বানানো যেতে পারে, তবে চিজ় কেক বানাতেই বা অসুবিধা কোথায়। সেই ভাবনা থেকেই তৈরি হয়েছে ইয়োগার্ট চিজ় কেক। যা হালকা তো বটেই স্বাস্থ্যকরও।
ইয়োগার্ট চিজ়কেক বানানোর পদ্ধতি
উপকরণ—
বেস তৈরি করার জন্য: ডাইজেস্টিভ বিস্কুটের গুঁড়ো এবং সামান্য গলানো মাখন। যদি ডায়েটের জন্য বিস্কুট এড়াতে চান, তা হলে বাদাম আর ওটসের গুঁড়ো এক সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে ওটস আর বাদাম মেশানো হবে ২:১ অনুপাতে।
ফিলিংয়ের জন্য : ২ কাপ জল ঝরানো ঘন টক দই, ২ টেবিল চামচ লো ফ্যাট ক্রিম চিজ় (না-ও দিতে পারেন সে ক্ষেত্রে মেশাতে পারেন ১ টেবিল চামচ মাখন এবং সামান্য নুন), ১/২ কাপ গুঁড়ো চিনি বা স্টেভিয়া বা মিহি করে বেটে নেওয়া খেজুর-কিশমিশ। এ সব কিছু ঘরের তাপমাত্রায় ব্যবহার করতে হবে।
সুগন্ধের জন্য : ভ্যানিলা এসেন্স দিতে পারেন অথবা লেবুর রস বা লেবুর খোসার সবুজ অংশ কোরানো।
সেট করার জন্য: ১ চামচ জেলাটিন বা গরম জলে গুলে নেওয়া আগার-আগার।
প্রণালী:
বিস্কুটের গুঁড়ো অথবা ওটস আর বাদামের গুঁড়ো একসঙ্গে নিয়ে তার সঙ্গে মাখন মিশিয়ে নিন। এ বার ওই মিশ্রণ একটি কেক টিনের নিচে চেপে বসিয়ে ফ্রিজে ৩০ মিনিট রেখে দিলেই তৈরি হয়ে যাবে চিজ় কেকের বেস।
এ বার একটি পাত্রে জল ঝরানো দই, চিনি বা তার বিকল্প হিসাবে যা ব্যবহার করছেন সেটি, ক্রিম চিজ় এবং ভ্যানিলা এসেন্স বা লেবুর রস বা লেবুর খোসা কোরানো দিয়ে খুব ভালো করে ফেটিয়ে নিন যেন কোনও ভাবে দলা পাকিয়ে না থাকে।
মিশ্রণটি তৈরি হয়ে গেলে তার সঙ্গে জেলাটিন বা আগার-আগারের মিশ্রণ মিশিয়ে নিয়ে বিস্কুটের স্তরের ওপর ঢেলে দিন। ফ্রিজে অন্তত ৫-৬ ঘণ্টা বা সারা রাত রেখে দিলেই তৈরি হয়ে যাবে স্বাস্থ্যকর চিজ়কেক।
পরিবেশনের সময় এর উপরে পছন্দমতো ফল বা জ্যাম দিয়ে পরিবেশন করুন।
এই চিজ়কেক কেন স্বাস্থ্যকর?
১. ক্রিম চিজ়ে ফ্যাটের পরিমাণ অনেক বেশি থাকে। দই ব্যবহার করায় ক্যালোরি এবং স্যাচুরেটেড ফ্যাট অনেকটাই কমে আসে।
২. জল ঝরানো ঘন দইয়ে স্বাস্থ্যকর প্রোটিন থাকে প্রচুর পরিমাণে। যা শরীরের জন্য জরুরি।
৩. দই প্রোবায়োটিক খাবার। তাই এটি খেলে হজমের সমস্যাও হবে না। বরং অন্ত্রের স্বাস্থ্যের উন্নতি হবে।
৪. বাড়িতে বানানোর সময় যেহেতু চিনির বদলে মধু বা স্টিভিয়া বা খেজুর বাটা দেওয়া হয়, তাই অতিরিক্ত শর্করাজনিত ক্ষতিও হবে না।