ডায়াবিটিস থাক বা না থাক— রক্তে শর্করার মাত্রা আচমকা বাড়তে পারে যে কোনও ব্যক্তিরই। ডায়াবিটিস না থাকলে সেই ধাক্কা সয়ে যায় শরীর। তবে ডায়াবিটিস থাকলেই বিপদ।
রক্তে শর্করার মাত্রা স্বল্প সময়ে অনেকটা চড়ে গেলে এবং তা স্থায়ী হলে শরীরের ভয়ানক ক্ষতি হতে পারে। এমনটাই বলছেন ডায়াবিটিসের চিকিৎসকেরা। ‘ডায়াবিটিস কিটোঅ্যাসিডোসিস’ ( যে অসুখে কিটোন ভাঙতে শুরু করে)-সহ এমন অনেক কিছুই হতে পারে যা প্রাণঘাতী। রক্তে শর্করার মাত্রা অনেকটাই বেড়ে গেলে নানা রকম উপসর্গে তা প্রকাশ পায়। তার মধ্যে একটি হল ঘন ঘন প্রস্রাব। ডায়াবিটিসের চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে গেলে কিডনির উপর চাপ পড়ে। মূত্রের মাধ্যমে অতিরিক্ত শর্করা বার করে দিতে চায় শরীর। ফলে ঘন ঘন প্রস্রাব পায়। এ ছাড়াও, বমি ভাব, ভীষণ ক্লান্তি, কারও আবার পেটে ব্যথাও হতে পারে রক্তে শর্করার মাত্রা খুব বেশি বৃদ্ধি পেলে।
রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত নামানোর কী কোনও উপায় আছে?
ইনসুলিন: রক্তে শর্করার মাত্রা অনেকটাই বাড়লে এবং দীর্ঘস্থায়ী হলে তা কমানোর জন্য ভাল উপায় হতে পারে ইনসুলিন। এই হরমোনটি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। কারও শরীরে তা ঠিকভাবে কাজ না করলে বাইরে থেকে ইনসুলিন প্রয়োগের দরকার হয়। চিকিৎসকই মাত্রা বুঝে রোগীকে ইনসুলিন নেওয়ার পরামর্শ দেবেন।
ওষুধ: ডায়াবিটিসের ওষুধ খেতে ভুলে গেলেও এমনটা হতে পারে। ডায়াবিটিস হলে ওষুধ খেতে হয় চিকিৎসকের পরামর্শে। অনেক সময় জীবনযাপন নিয়ন্ত্রণ এবং ওষুধের প্রভাবে রক্তে শর্করা বশে এলে, অনেকেই চিকিৎসকের নির্দেশ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করে দেন। এমন পদক্ষেপ বিপত্তি বাড়াতে পারে। আবার নিয়ম করে ওষুধ খাওয়ার কথা থাকলেও, তা না খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে। ওষুধ খেতে ভুলে গেলে, যখনই মনে পড়বে তা খেতে হবে। তবে ডায়াবিটিসের ওষুধ খাওয়ারও নিয়ম আছে। পেট ভর্তি থাকা অবস্থায় ওষুধ খেতে হলে, চিকিৎসকের বলে দেওয়া নিয়ম মেনেই খেতে হবে।
জল খাওয়া: ডায়াবিটিস বশে রাখতে জল খাওয়া জরুরি। রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি থাকলে কিডনি তা রক্ত থেকে ছেঁকে বার করে নেয়। মূত্রের মাধ্যমে তা শরীরে থেকে বেরিয়ে যায়। প্রস্রাব বেশি হয় বলেই জল খাওয়ার দরকার বেশি হয়। শরীরে জল কমলে রক্তে শর্করার মাত্রা আরও বাড়বে। তাই তেষ্টা পেলে খাবার নয়, নিয়ম করে জল খেতে হবে।
শরীরচর্চা: রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে শরীরচর্চাও জরুরি। হাঁটাহাটি ভাল, সঙ্গে যদি যোগব্যায়াম, অ্যারোবিক্স করা যায়, রক্তে শর্করার মাত্রা বশে রাখা সহজ হয়। খাওয়ার পরে ১৫ মিনিট হাঁটলেও রক্তে শর্করার মাত্রা কমিয়ে ফেলা যায়।
ফাইবার-প্রোটিনে জোর: খাবারে কার্বোহাইড্রেট কমিয়ে জুড়তে হবে ফাইবার এবং প্রোটিন। ফাইবার রক্তে শর্করা শোষণের মাত্রা কমিয়ে দেয়। ফলে, খাবারের সঙ্গে ফাইবার এবং প্রোটিন জুড়লেও শর্করা বশে রাখা যাবে।