Eye Care Tips

৫ দিন চোখের ব্যায়াম করেই অর্ধেক পাওয়ার কমিয়ে ফেলেছেন হৃতিক! আদৌ কি সম্ভব, কী বলছেন চিকিৎসক?

হৃতিক সমাজমাধ্যমে জানিয়েছেন যে, তাঁর চোখের পাওয়ার প্রায় অর্ধেক হয়ে গিয়েছে। চোখের ব্যয়ায়াম করেই কি পাওয়ার কমিয়ে ফেলা সম্ভব?

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৩:৫৩
Share:

হৃতিকের মতো চোখের অসুখ কি সত্যিই সারে? ছবি: সংগৃহীত।

চোখ নিয়ে বেশ কিছু বছর ধরেই সমস্যায় ভুগছিলেন হৃতিক রোশন। বছর দশক আগেকার কথা, হৃতিকের বয়স তখন ৪২, চোখে তখন অভিনেতা ঝাপসা দেখছেন। চিকিৎসককে তিনি জিজ্ঞেস করেছিলেন যে, তাঁর পাওয়ার কি স্বাভাবিক ভাবে বা প্রাকৃতিক উপায়ে কমানো সম্ভব কি না। চিকিৎসক হৃতিকের কথায় হেসে বলেছিলেন, ‘‘চোখ কোনও পেশি নয় যে, তুমি জিমে গিয়ে ট্রেনিং করলে আর সেটি ঠিক হয়ে যাবে। চোখের নম্বর এক বার বেড়ে গেলে তা প্রাকৃতিক উপায়ে কমানোর উপায় নেই।’’

Advertisement

ঠিক দশ বছর পর হৃতিক সমাজমাধ্যমে জানিয়েছেন যে, তাঁর চোখের পাওয়ার প্রায় অর্ধেক হয়ে গিয়েছে। অভিনেতা বলেন, ‘‘আমি ওয়াশিংটন ডিসিতে ৫ দিন ধরে চোখের ব্যায়াম করেছি। প্রতি দিন প্রায় ৪ ঘণ্টা করে চোখের পেশির ব্যায়াম করানো হয়েছে আমায়। আর অবাক হয়েছি যে, ৫ দিনেই আমার চোখের পাওয়ার প্রায় অর্ধেক হয়ে গিয়েছে। হ্যাঁ একদম ঠিক শুনেছেন।’’

প্রাকৃতিক উপায়ে কি চোখের পাওয়ার কমানো সম্ভব?চিকিৎসকদের মতে, চোখের পাওয়ার প্রাকৃতিক উপায় কমবে কি না তা বেশ কিছু বিষয়ের উপর নির্ভর করে। রোগীর বয়স, তাঁর কোনও ক্রনিক সমস্যা আছে কি না, রোগীর যাপন পদ্ধতি, রোগী চোখের উপর কতটা চাপ দেন— এই সমস্ত বিষয়ের নিরিখেই রোগীর পাওয়ার কমবে কি না তা বলা যায়। চক্ষুচিকিৎসক নিলয়কুমার মজুমদার বলেন, ‘‘এখন অনেক রকম টেকনিক বেরিয়েছে, কিন্তু সেগুলি কতটা কার্যকর হবে তা রোগীর উপর নির্ভর করে। রোগীর পরিস্থিতি না দেখে সেটা বলা যায় না। অনেক সময় ডিজিটাল স্ক্রিনিং কমিয়ে, চোখের বিভিন্ন ব্যায়াম করিয়ে দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটানো হয় বটে, তবে সে ক্ষেত্রে চোখের পাওয়ার কমেছে, তেমন কিছু বলা যায় না। এ ক্ষেত্রে পরিবর্তন়টা হয় কার্যগত, গঠনগত পরিবর্তন হওয়াটা ততটাও সহজ নয়। ভারতে অন্তত ৫ দিন ব্যায়াম করে চোখের পাওয়ার কমে যাওয়ার মতো ট্রিটমেন্ট হয়েছে বলে শুনিনি।’’

Advertisement

চিকিৎসক নিলয়ের সঙ্গে একমত চক্ষুচিকিৎসক কবিতা রাও। তিনি বলেন, ‘‘প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে মায়োপিয়া, হাইপারোপিয়া, অ্যাস্টিগমেটিজম এবং বয়স-সম্পর্কিত পরিবর্তন, যেমন প্রেসবায়োপিয়ার সমস্যা রাতারাতি ব্যায়াম করে কমে যেতে পারে না। এই সব সমস্যা চোখের গঠন এবং স্বাভাবিক বার্ধক্য প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত। ক্লিনিকে আমরা প্রায়শই কনভারজেন্স ইনসাফিসিয়েন্সি, অ্যাকোমোডেটিভ স্প্যাজম, ডিজিটাল আই স্ট্রেন বা ড্রাই আই-এর সমস্যায় ভুক্তভোগী রোগীদের দেখতে পাই, তাঁদের পাওয়ার প্রায়ই ওঠানামা করে। এই সমস্যাগুলির ট্রিটমেন্ট করলে দৃষ্টিশক্তির উন্নতি হয়, কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে, চোখের পাওয়ার অর্ধেক কমে যায়।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement