হেপাটাইটিস বাসা বাঁধতে পারে শিশুর শরীরেও, কী কী লক্ষণ চিনবেন? ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।
হেপাটাইটিসের সংক্রমণ কেবল প্রাপ্তবয়স্কদের নয়, শিশুদের জন্যও মারাত্মক। পাঁচ বছরের নীচে শিশুদের সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি থাকে। যদিও এখন হেপাটাইটিস প্রতিরোধের জন্য ওষুধ এসে গিয়েছে এ দেশেও, তবুও শিশুদের সাবধানে রাখতেই হবে। খামখেয়ালি আবহাওয়ায় হেপাটাইটিসের জীবাণুদের বাড়বাড়ন্ত হয়। দূষিত জল, অস্বাস্থ্যকর খাবার থেকেও রোগ দ্রুত ছড়ায়।
কতটা বিপজ্জনক হেপাটাইটিস?
হেপাটাইটিস-এ এবং ই সংক্রমিত হয় দূষিত খাদ্য ও পানীয়ের মাধ্যমে। আর হেপাটাইটিস-বি, সি এবং ডি সংক্রমিত হয় রক্তের মাধ্যমে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা হু -এর তথ্য বলছে, সারা বিশ্বে প্রতি বছর মোট ১০ কোটিরও বেশি মানুষ হেপাটাইটিস রোগে আক্রান্ত হন। কিশোর-কিশোরী এবং প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে, এই সংক্রমণের উপসর্গ অনেক বেশি মারাত্মক হতে পারে। চিন্তার কারণ হেপাটাইটিস বি ও হেপাটাইটিস সি। কারণ এই দুই ভাইরাসই ছড়াতে পারে সংস্পর্শ থেকে। মূলত রক্তের মাধ্যমেই হেপাটাইটিস সি ছড়ানোর ভয় থাকে। ফলে বহু থ্যালাসেমিয়া এবং হিমোফিলিয়া রোগী এর শিকার হন। তা ছাড়া ইঞ্জেকশনের সিরিঞ্জ থেকেও সংক্রমণ ছড়ায়। হেপাটাইটিসের ভাইরাস এক বার শরীরে প্রবেশ করলে সেখানেই ঘাপটি মেরে বসে থাকে এবং ধীরে ধীরে ডালপালা মেলে লিভারকে ছারখার করতে শুরু করে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলে ক্রনিক হেপাটাইটিস। এই অসুখ ক্রনিক হয়ে গেলে লিভারের জটিল রোগ লিভার ক্যানসারও দেখা দিতে পারে। ক্রনিক হেপাটাইটিসের ক্ষেত্রে হেপাটোসেলুলার কার্সিনোমা হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে।
ছোটদের কী কী লক্ষণ চিনবেন?
হেপাটাইটিসের ভাইরাস শরীরে ঢুকলে বিলিরুবিনের মাত্রা অস্বাভাবিক হারে বাড়তে থাকে, একে চিকিৎসার পরিভাষায় বলে ‘হাইপারবিলিরুবিনেমিয়া’। তখন চোখ, ত্বক হলুদ হতে থাকে। প্রস্রাবের রং গাঢ় হলুদ হয়, হালকা জ্বর থাকে। শিশুর পেটের উপরের ডান দিকে ব্যথা হতে পারে, সেই সঙ্গেই বমি ভাব থাকে।
সতর্ক থাকতে
বাড়িতে রান্না করা হাল্কা খাবার দিন। তরল খাবার বেশিখাওয়াতে হবে।
শরীরে জলের ঘাটতি হলে চলবে না। শিশুকে পর্যাপ্ত জল পান করাতে হবে।
ভুলেও রাস্তার কাটা ফল বা ফ্রুট স্যালাড খাওয়াবেন না। বাড়িতেই টাটকা ফলের রস বানিয়ে দিন।
এক বছর এবং তার বেশি বয়সি শিশুদের হেপাটাইটিসের টিকা দিয়ে রাখতে হবে। হেপাটাইটিস সি বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই নিঃশব্দে থাবা বসায়। রোগ ছড়ানোর অনেক পরে ধরা পড়ে। তাই সময় থাকতে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া জরুরি।