Neck Lump Causes

ঘাড়ের কাছে ফোলা অংশ দেখেই আতঙ্কিত? অতিরিক্ত মাংসপিণ্ডটি বিপজ্জনক কি না বুঝবেন কী ভাবে

ঘাড়ের কাছে ফোলা ভাব? তার সঙ্গে আর কী কী উপসর্গ দেখা দিলে চিন্তার? কখন যাওয়া দরকার চিকিৎসকের কাছে?

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৪ মার্চ ২০২৬ ১৮:০৪
Share:

ঘাড়ের কাছে মাংসপিণ্ড দেখা দিলে কি ভয়ের কারণ? ছবি: সংগৃহীত।

শরীরে কোনও অংশে আচমকা বাড়তি মাংসপিণ্ড তৈরি হলে, প্রথমেই খারাপ কিছুর আশঙ্কা করে বসেন যে কেউ। তার পরে শুরু হয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কাছে নিদান চাওয়া। মাংসপিণ্ড কেন, কী কারণে হল, তা নিয়ে নিজের মতো করে চলতে থাকে বিচার-বিশ্লেষণ। তা থেকেই তৈরি হয় ভয়।

Advertisement

‘লাম্প’ বা শরীরে অতিরিক্ত মাংসপিণ্ড মানেই যে তা বড় অসুখের পূর্ব লক্ষণ, তেমন কিন্তু নয়। অনেক সংক্রমণের কারণে লিম্ফ নোড হতে পারে। আবার ত্বকে সিস্টও হয়। আরও নানা কারণে ঘাড়ের কাছে ফোলা ভাব দেখা দিতে পারে। তাই শুরুতেই এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়া অর্থহীন।

তবে শরীরে এমন কোনও কিছু দেখা দিলে, অবহেলায় তা ফেলে রাখাও বুদ্ধিমত্তার কাজ নয়, জানাচ্ছেন ক্যানসারের চিকিৎসকেরাই। শরীরে মাংসল স্ফীতি হতে পারে নানা কারণেই। একেই বলা হয় লাম্প বা টিউমার। টিউমার হল মানেই যে তা ম্যালিগন্যান্ট, এমনও নয়। লাম্প বা এমন উপবৃদ্ধি হতে পারে নানা কারণে। তা টিউমার না-ও হতে পারে। মাংসল অংশটি বিপদের সঙ্কেতবহ, না কি নয়, তা একমাত্র বলতে পারেন অভিজ্ঞ চিকিৎসকই।

Advertisement

কখন সতর্ক হওয়া দরকার?

ঘাড়ের কাছে তৈরি হওয়া মাংসপিণ্ড যদি ২-৩ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে থাকে, যদি তা শক্ত ও ব্যথাহীন হয় তা হলে তা পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে বলছেন পুণের এক হাসপাতালের ক্যানসার চিকিৎসক তুষার পটেল। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, মাংসপিণ্ডটি যদি নড়াচড়া না করে, তা হলে তা নিয়ে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। বিশেষত, রোগীর বয়স যদি ৪০ এর আশপাশে হয়, বংশে ক্যানসারের ইতিহাস থাকে, তিনি যদি মদ্যপায়ী বা ধূমপায়ী হন, তবে অবশ্যই বিষয়টি ফেলে রাখা উচিত নয়।

কোন লক্ষণ থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়া দরকার

· হঠাৎ করে যদি মাংসপিণ্ড গজিয়ে ওঠে, ঘুসঘুসে জ্বর হতে থাকে।

· ক্লান্তি, অসুস্থতা।

· আচমকা গলার স্বর বদলে যাওয়া।

· ওজন কমতে থাকা।

· হঠাৎ করে খুব ঘাম হওয়া।.

· ২-৩ সপ্তাহ বাদেও ফোলা অংশটি থেকে যাওয়া।

কী ভাবে রোগ নির্ণয় হতে পারে

চিকিৎসক প্রথমেই ফোলা অংশটি পরীক্ষা করবেন এবং রোগীর উপসর্গ জানতে চাইবেন। তাঁর অভিজ্ঞ চোখে বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে ঘাড়ের আলট্রাসাউন্ড করার নির্দেশ দিতে পারেন। পরের ধাপ হল এমআরআই স্ক্যান। এতে আরও ভাল ভাবে মাংসপিণ্ডের অবস্থান বোঝা যাবে। তার পরের ধাপ বায়োপ্সি। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া যায়, সেটি ম্যালিগন্যান্ট কি না। এই পর্বে চিকিৎসক চাইলে পিইটি সিটি-স্ক্যানের পরামর্শও দিতে পারেন। এতে রোগের বিস্তার সম্পর্কে বিশদ জানা যায়।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement