হার্টের রোগীরা কি রোজ গোটা ডিম খেতে পারেন? ছবি: সংগৃহীত।
উচ্চ রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরলের সমস্যা থাকলে ডিমের কুসুম বা হলুদ অংশটি বাদ দিয়ে খান অনেকেই। তবে খাবারের তালিকায় ‘আনসাং হিরো’-র দলে থাকা এই ডিমের কুসুমের পুষ্টিগুণ অনেক। তেমনটাই মত পুষ্টিবিদদের। ডিমের কুসুম খাওয়া খারাপ, এমন ধারণার কোনও যুক্তিই নেই।
উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা কিংবা কোলেস্টেরলের সমস্যা থাকলেও রোজ একটি গোটা ডিম খাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। চিকিৎসক এসএ মল্লিকের মতে, ‘‘ডিম খেলে শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যায়, এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই। তবে ডিম খেলে যে কোলেস্টেরলটা বাড়ে সেটি হল এইটডিএল অর্থাৎ ভাল কোলেস্টেরল। এ ছা়ড়া ডিম খেলে এলডিএল কোলেস্টেরলের লার্জ পার্টিকলের মাত্রাও শরীরে বেড়ে যায়। তবে এই পার্টিকল শরীরের পক্ষে ততটাও খারাপ নয়। আমরা সারা দিনে ৩০০ মিলিগ্রামের মতো ডায়েটারি কোলেস্টেরল খেতে পারি। একটি ডিমে থাকে ১৬৭ মিলিগ্রাম, তাই দু’টি ডিম নিশ্চিন্তে খেতে পারেন।’’
ডিম খেয়ে ওজনও নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। রোজ তিনটি ডিম খেলে শরীরে ১৮ গ্রাম প্রোটিন পৌঁছোয়। চিকিৎসক শুভম বৎস বলেন, ‘‘রোজ তিনটি ডিম খেলে শরীরে পূর্ণ এবং উচ্চ মানের প্রোটিন পৌঁছোয়। এতে থাকা এসেনশিয়াল অ্যামাইনো অ্যাসিড পেশির পুনর্গঠন এবং ফ্যাটের বিপাকের জন্য ভীষণ জরুরি। ডিমের কুসুমে থাকা খোলিন, লিভারের ফ্যাট গলিয়ে লিভারের ডিটক্সিফিকেশনে সাহায্য করে। তাই ডিম লিভারের জন্য বেশ উপকারী। এ ছাড়া ডিমের কুসুমে থাকে লুটিন এবং জ়িজ়্যান্তিন নামক অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট যা চোখের জন্য ভীষণ ভাল। এগুলি বয়সের ছাপ ঠেকিয়ে রাখতেও সাহায্য করে।’’
তাই ডিমের কুসুমে থাকা কোলেস্টেরল নিয়ে চিন্তা না করে বরং পুষ্টিগুণের দিকে নজর দেওয়া যাক। পুষ্টিবিদেরা বলছেন, মাছ কিংবা মাংসের চেয়েও সামগ্রিক ভাবে পুষ্টিগুণ বেশি ডিমে। প্রোটিন, ভিটামিন এবং বিভিন্ন খনিজের উৎস হল এই কুসুমটি। কুসুমে রয়েছে ভিটামিন এ, ডি, ই, বি১, বি২, বি৫, বি৬, বি৯ এবং বি১২। পুষ্টিবিদেরা বলছেন, খুঁজলেও একসঙ্গে এত ভিটামিন অন্য কোনও খাবারে পাওয়া যাবে না। এ ছাড়াও ডিমে রয়েছে জ়িঙ্ক এবং আয়রনের মতো খনিজ, যা প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করে। তাই পূর্ণবয়স্ক, সুস্থ যে কোনও মানুষই প্রতি দিন একটি করে ডিম খেতে পারেন।