মাইক্রোওয়েভে শিশুর খাবার গরম করা কি ঠিক? ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।
মাইক্রোওয়েভ অভেন আসার পর খাবার তৈরি এখন অনেক সহজ। ব্যস্ততম জীবনে ঘর আর বাইরে একসঙ্গে সামলানোর জন্য বাড়িতে মাইক্রোওয়েভ অভেন থাকা জরুরি। সময় বাঁচাতে অনেকেই রান্না করে ফ্রিজে রেখে দেন। প্রয়োজন মতো ফ্রিজ থেকে বার করে গরম করে খেলেই হল। অনেক সময় রাতে আনা বিরিয়ানি, ফ্রায়েড রাইস খাওয়ার পরেও বেঁচে যায়। সেগুলি গ্যাসের চেয়ে মাইক্রোওয়েভে গরম করা বেশি সুবিধাজনক। গ্যাসের সঙ্কটের মাঝে এখন মাইক্রোওয়েভ বাঙালির হেঁশেলে অন্যতম জরুরি সঙ্গী। তবে অনেকের মনেই প্রশ্ন, মাইক্রোওয়েভ অভেনে কি শিশুদের খাবার গরম করা নিরাপদ?
মাইক্রোওয়েভে খাবার গরম করলে নাকি তার পুষ্টিগুণ কমে যায়, এই ধারণা অনেকেরই থাকে। শিশুরোগ চিকিৎসক অর্পণ সাহা বলেন, ‘‘মাইক্রোওয়েভে ৩০ থেকে ৬০ সেকেন্ডের জন্য খাবার গরম গরলে কোনও অসুবিধা হয় না। যদি দু’ থেকে তিন মিনিটের বেশি গরম করা হয়, তা হলে ভিটামিন সি আর ভিটামিন বি কমপ্লেক্স একটু হলেও কমতে পারে। তাই খাবারের পুষ্টিগুণ অনেকটা কমে যায়, এ কথা বলা যায় না।’’ অনেকেই মনে করেন মাইক্রোওয়েভে খাবার গরম করলে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে। চিকিৎসকের মতে, এমন ধারণাও ভুল। মাইক্রোওয়েভ থেকে যে রেডিয়েশন বার হয় তা নন-আয়োনাইজ়িং, যা খাবারে থাকা জলীয় পদার্থকে গরম করে। এই রেডিয়েশন থেকে কোনও রকম রেডিয়োঅ্যাক্টিভিটি বা ক্যানসারের ঝুঁকি নেই।
মাইক্রোওয়েভে শিশুদের খাবার গরম করার আগে কী কী মাথায় রাখবেন?
১) ভুলেও কোনও রকম প্লাস্টিকের বাসনে খাবার গরম করবেন না। কাচের পাত্রই শিশুর খাবার গরম করার ক্ষেত্রে নিরাপদ।
২) খুব বেশি ক্ষণের জন্য খাবার গরম করবেন না। অল্প সময়ের জন্য খাবার গরম করুন। ১৫ থেকে ৩০ সেকেন্ডের জন্য প্রথমে গরম করুন। তার পর কিছু ক্ষণ রেখে আবারও ১৫ থেকে ৩০ সেকেন্ড গরম করুন।
৩) মাইক্রোওয়েভ অভেনে খাবার গরম করার পর ভাল করে মিশিয়ে তার পর শিশুকে খাওয়াবেন। অনেক সময় মাইক্রোওয়েভে খাবার গরম করার সময় কোনও কোনও জায়গায় বেশি গরম গয়ে যায়, কোনও কোনও জায়গা একেবারে ঠান্ডা থাকে। তাই গরম খাবারে যেন শিশুর জিভ পুড়ে না যায়, সে দিকে সতর্ক থাকুন। খাওয়ানোর আগে তার তাপমাত্রা সব সময় যাচাই করে নেবেন।