ছবি: সংগৃহীত।
কাবাব শুনলে জিভে জল আসাটাই স্বাভাবিক! তবে কাবাব শরীরের জন্য কতটা উপকারী বা ক্ষতিকর, সেটা মূলত নির্ভর করে এটি তৈরি করার পদ্ধতি এবং উপকরণের ওপর। সাধারণত কাবাব ক্ষতিকর নয় বরং এটি প্রোটিনের খুব ভাল উৎস। তাই যাঁরা ওজন কমাতে চাইছেন, তাঁরা সুস্বাদু কিছু খেতে চাইলে কাবাব খেতেই পারেন। তবে কিছু কারণে এটি স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতেও পারে।
১। মাংস সরাসরি আগুনে অনেকক্ষণ পোড়ালে এতে হেটেরোসাইলিক অ্যামাইন নামক এক ধরনের রাসায়নিক তৈরি হতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।
২। রেস্তরাঁয় কাবাবের স্বাদ বৃদ্ধি করতে প্রচুর পরিমাণে ডালডা, ঘি বা মাখন ব্যবহার করা হয়, যা ক্যালরি এবং স্যাচুরেটেড ফ্যাট বাড়িয়ে দেয়।
৩। অতিরিক্ত নুন উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
ডায়েট করলে কি কাবাব খাওয়া যাবে?
অবশ্যই খাওয়া যাবে। প্রকৃতপক্ষে, লো-কার্ব বা কিটো ডায়েটে কাবাব একটি আদর্শ খাবার হতে পারে। তবে কিছু নিয়ম মেনে চলা জরুরি।
১. রান্নার পদ্ধতি
ডুবো তেলে ভাজা কাবাব, যেমন: জালি কাবাব বা শামী কাবাব এড়িয়ে চলুন। এর বদলে গ্রিলড, শিক কাবাব বা তন্দুরি কাবাব বেছে নিন। এতে তেল কম থাকে।
২. মাংসের ধরন
চর্বিযুক্ত মাংসের চেয়ে চর্বিহীন মাংসের তৈরি কাবাব খান। যেমন: মুরগির মাংস বা মাছের কাবাব। ওজন কমানোর ডায়েটে ওগুলি বেশি উপযোগী।
৩. স্যালাড
কাবাব খাওয়ার সময় এর সাথে প্রচুর পরিমাণে শসা, লেবু এবং কাঁচা লঙ্কার স্যালাড খান। এটি হজমে সাহায্য করবে এবং ফাইবারও যোগ করবে।
৪. সস ব্যবহারে সাবধান
দোকানের কেনা মেয়োনিজ বা চিনিযুক্ত সস এড়িয়ে পুদিনা পাতার চাটনি বা টক দইয়ের রায়তা ব্যবহার করুন।
সারকথা: কাবাব নিজে ক্ষতিকর নয়, রান্নার প্রক্রিয়াটি একে স্বাস্থ্যকর বা অস্বাস্থ্যকর করে তোলে। সপ্তাহে ১-২ দিন বাড়িতে তৈরি কম তেলের কাবাব ডায়েটের অংশ হিসেবে নির্দ্বিধায় রাখা যেতে পারে।