ডিম্বাশয়ের ক্যানসার কি বংশগত? ছবি: সংগৃহীত।
শরীরের ভিতরে অনেক রোগই নীরবে বাসা বাঁধে। ডিম্বাশয়ের ক্যানসার বা ওভারিয়ান ক্যানসারও তেমনই একটি রোগ, যার লক্ষণ অনেক সময়ে স্পষ্ট ভাবে ধরা পড়ে না। কিন্তু অনেকের মনে একটি প্রশ্ন ঘোরে, এই ক্যানসার কি বংশগত হতে পারে? অর্থাৎ পরিবারে কারও এই রোগ থাকলে পরবর্তী প্রজন্মের কারওর আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে? বিস্তারিত আলোচনা করলেন ক্যানসার চিকিৎসক সন্দীপ গঙ্গোপাধ্যায়।
সব ডিম্বাশয়ের ক্যানসার বংশগত নয়। তবে একটি নির্দিষ্ট অংশের সত্যিই জিনগত কারণে হতে পারে। চিকিৎসক বলছেন, ‘‘১০০ জনের মধ্যে ২০ জন রোগীর ওভারিয়ান ক্যানসার বংশগত কারণে হয়।’’ বিশেষ করে পরিবারের মধ্যে যদি মা, দিদি বা দিদিমা-ঠাকুরমার ডিম্বাশয়ে ক্যানসারের ইতিহাস থাকে, তা হলে ঝুঁকি কিছুটা বাড়তে পারে। এর সঙ্গে মূলত জড়িত থাকে শরীরের কিছু জিনের পরিবর্তন। যেমন, বিআরসিএ-১ এবং বিআরসিএ-২ নামে দু’টি জিন। এই জিনগুলিতে ত্রুটি থাকলে ডিম্বাশয়ের ক্যানসারের সম্ভাবনা তুলনামূলক ভাবে বেশি দেখা যায়।
চিকিৎসক জানাচ্ছেন, কারও বংশে এই রোগের বীজ রয়েছে কি না, তা শনাক্ত করা সম্ভব। সন্দীপের কথায়, ‘‘আমাদের কাছে ওভারির ক্যানসারের রোগী এলে, তাঁদের রক্তপরীক্ষা করাই। উদ্দেশ্য একটাই, তাঁদের রক্তে বিআরসিএ জিনটা অস্বাভাবিক কি না, তা জানা। অস্বাভাবিক হলে, তাঁদের আমরা টার্গেটেড থেরাপি করাই। পাশাপাশি, তাঁদের আত্মীয়দের মধ্যেও এই রক্তপরীক্ষা করানো হয়। রোগীর পরিবারের কারওর রক্তে এই জিনে কোনও অস্বাভাবিকত্ব পাওয়া গেলে আগে থেকেই পদক্ষেপ করা যায়। তাই এই জেনেটিক টেস্ট খুবই দরকারি। পরিবারের লোকজনকে সুস্থ রাখার জন্য এই পরীক্ষাটি করানো উচিত।’’
পরিবারে যদি ডিম্বাশয়ের ক্যানসারের ইতিহাস থাকে, তা হলে নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষা করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দু’ভাবেই নিজেকে ও নিজের পরিবারকে সুস্থ রাখা যায়। তার মধ্যে সবচেয়ে জরুরি, জিনগত পরীক্ষা। এতে ঝুঁকি আছে কি না, তা আগে থেকে বোঝা যায়।