বাতাসের চাপের আকস্মিক তারতম্যে শরীরের কোনও টিসু ড্যামেজ হতে পারে। এই ক্ষতি কান, ফুসফুস-সহ শরীরের কিছু অংশে সরাসরি প্রভাব ফেলে। এরই নাম ব্যারোট্রমা। তবে মানুষ প্রায়ই এমন পরিস্থিতির শিকার হতে পারেন, এমনটা নয়। বিশেষ কোনও পরিস্থিতির প্রভাবে এই ট্রমার শিকার হতে পারেন কেউ।
ব্যারোট্রমায় কানের ক্ষতি
কানের মধ্যে হঠাৎ হাওয়ার ঝাপটা এসে লাগলে বা বায়ুর চাপের কমবেশি হলে ব্যারোট্রমার পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। জোরে কোনও বিস্ফোরণ হলে বা তীব্র হাওয়া সজোর এসে কানের পর্দায় ধাক্কা মারলে অন্তঃকর্ণে এই ট্রমা হতে পারে। ইএনটি স্পেশ্যালিস্ট ডা. অর্জুন দাশগুপ্ত বললেন, “পর্দা ফেটে গেলে তো সেই ব্যক্তি বেঁচে গেলেন। কিছু সময় পরে ওই পর্দা নিজে থেকেই জোড়া লেগে যায়। পর্দাটা ফেটে গেলে কানের একদম ভিতর পর্যন্ত শক ওয়েভটা পৌঁছয় না, ফলে ক্ষতি কম হয়। কিন্তু ড্যামেজ যদি ইনার ইয়ারে হয়ে থাকে, তা হলে ক্ষতি সুদূরপ্রসারী হতে পারে।” ডা. দাশগুপ্ত জানালেন, কানের খুব কাছে বোমা ফাটলে এই ধরনের ক্ষতি হতে পারে। সেনাবাহিনীতে কিংবা পুলিশে কাজ করেন, এ রকম ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এমন উদাহরণ দেখা যায়। স্থানীয় ভাবে বোমা ফাটলেও এই ট্রমা হতে পারে।
কানের ভিতরে শব্দতরঙ্গ প্রবাহের যে সূক্ষ্ম কলকব্জা রয়েছে, আকস্মিক ট্রমার ফলে তা ব্যাহত হতে পারে। ট্রমার ফলে মধ্যকর্ণের যে তিনটি হাড় থাকে, তা ভেঙে গিয়ে অসিকুলার ডিসকন্টিনিউইটি হতে পারে। এর ফলে বধিরতার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। জোরে আওয়াজের ফলে কানে তালা ধরে যাওয়ার মতো সমস্য়া দেখা দিলে ও অনেকক্ষণ ধরে তা ঠিক না হলে সরাসরি চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই ভাল।
চিকিৎসা
ডা. দাশগুপ্ত বলছেন, ব্যারোট্রমা থেকে যদি গুরুতর ক্ষতি হয়ে থাকে, তখন সাধারণত সিটি স্ক্যান করে দেখা হয়, ভিতরে ক্ষতির গভীরতা কতখানি। রক্তপাত হয়েছে কি না, তা-ও দেখা হয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে স্টেরয়েড দিয়ে চিকিৎসা করা হয়। কিছু ক্ষেত্রে সার্জিক্যাল ট্রিটমেন্ট দরকার হয়। চিকিৎসকদের মতে, সর্দি লাগা অবস্থায় যদি কেউ ব্যারোট্রমার সম্মুখীন হন, তা হলে সেই ব্যক্তি আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।
ফুসফুসের ক্ষেত্রে ব্যারোট্রমার প্রভাব
পালমোনোলজিস্ট ডা. অনির্বাণ নিয়োগী জানালেন, ফুসফুসের ক্ষেত্রে ব্যারোট্রমা বিরল। ফুসফুসের অ্যালভিয়োলাসগুলি হাওয়া ভরা বেলুনের মতো। ট্রমা সেগুলিতেই হয়। “কোনও রোগী ভেন্টিলেশন সাপোর্টে আছেন। সেখানে বাহ্যিক প্রেশার কোনও কারণে বেড়ে গেলে ব্যারোট্রমা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে চিকিৎসকেরা সেই প্রেশার নিয়ন্ত্রণ করেন,” বললেন ডা. নিয়োগী। তিনি আরও সতর্ক করে দিলেন, স্কুবা, স্নরকেলিং বা ডিপ সি ডাইভিং-এর মতো ওয়াটার অ্যাডভেঞ্চারের ক্ষেত্রে। এই জাতীয় অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টসে সাবধান থাকতে হবে এ বিষয়ে। জলের নীচের চাপ হঠাৎ বেড়ে গেলে ফুসফুসের উপরে সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে। সে ক্ষেত্রে ধাপে ধাপে এগোতে হবে। “সর্দিকাশি হয়ে থাকলে এই ধরনের ওয়াটার স্পোর্টস না করাই ভাল। ধীরে ধীরে গভীরে নামা বা ওঠা দরকার, যাতে জলের চাপ হঠাৎ শরীরে না পড়ে,” বললেন ডা. নিয়োগী। তবে তিনি এ-ও জানালেন, ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত হবে, ব্যারোট্রমার এমন পরিস্থিতি সহজে তৈরি হয় না।
কান এবং ফুসফুস ছাড়াও সাইনাসের ক্ষেত্রে ব্যারোট্রমার প্রভাব পড়তে পারে। নাক দিয়ে রক্ত পড়া, মুখের পেশিতে চাপ পড়া, মাথা যন্ত্রণা, শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দেয় এ ক্ষেত্রে। বেশির ভাগ সময়েই স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ, নেজ়াল স্প্রে-র মাধ্যমে ব্যারোট্রমার চিকিৎসা করা সম্ভব। কিছু গুরুতর ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের সাহায্য নিতে হতে পারে। ব্যারোট্রমা স্থায়ী ক্ষতি করতে পারে, তবে এই সম্ভাবনা বিরল।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে