কী ভাবে আমলকি খাবেন? ছবি: সংগৃহীত।
রোজের ডায়েটে আমলকি রাখা ভীষণ উপকারী। আর তা খাওয়াও যায় অনেক ভাবে। কাঁচা চিবিয়ে খান বা রস করে, উপকার পাবেন দুই পদ্ধতিতেই। শরীরে ভিটামিন সি-এর ঘাটতি মেটাতে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে আমলকির জুড়ি নেই। পেয়ারা, কাগজিলেবু, কমলালেবু, আম, আপেলের চেয়েও বেশি ভিটামিন সি রয়েছে আমলকিতে। তাই রোগ-প্রতিরোধ শক্তিকে শক্তিশালী করে তুলতে রোজ একটা করে আমলকি খাওয়া যেতেই পারে। আবার অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টে ভরপুর হওয়ায় শরীরের টক্সিন বার করে দিতেও সাহায্য করে এই ফলটি। আরও অনেক রোগের পথ্য হিসেবেও আমলকি খাওয়ার পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদেরা। পুষ্টিবিদদের মতে, রোজ আমলকির আচার বা স্যালাড খেলেও একই উপকার পাওয়া যায়। তবে কোন উপায় আমলকি খাওয়া সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যকর?
আমলকির রস: স্বাস্থ্যসচেতন অনেকেই সকাল সকাল খালি পেটে আমলকির রস খান। যাঁরা সরাসরি ফলটি খেতে পছন্দ করেন না, তাঁদের ক্ষেত্রে রস খেয়ে নেওয়াটা বেশ সুবিধাজনক। তবে, যখন আমলকি রস করে খাওয়া হয়, তখন ফলটির বেশির ভাগ ফাইবারই নষ্ট হয়ে যায়। ফলে আমলকির রস থেকে ভিটামিন ও খনিজ উপাদান পেলেও, শরীর এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান থেকে বঞ্চিত হয়, যা হজম এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্যরক্ষায় সাহায্য করে।
গোটা আমলকি: রোজ একটা করে গোটা আমলকি খাওয়া বেশ স্বাস্থ্যকর। আমলকির রস খেলে শরীরে ফাইবার য়ায় না, তবে গোটা ফল চিবিয়ে খেলে শরীরে ফাইবারেরও ঘাটতি হয় না। তবে আমলকির টক ভাব আর কষা স্বাদ অনেকের ভাল লাগে না। অনেকের আবার বেশি মাত্রায় আমলকি খেলে হজমের সমস্যাও হয়।
আমলকির আচার বা মজানো আমলকি: আমলকির আচার তৈরি করতে হলে আমলকিকে বেশ কিছু দিন মজতে দেওয়া হয়। আমলকির আচার বানিয়ে খেলে শরীরে ভিটামিন সি, ফাইবারের পাশাপাশি প্রোবায়োটিকও শরীরে যায়। গেঁজে ওঠার মাধ্যমে তৈরি আচার খেলে পেটে ভাল ব্যাক্টেরিয়ার সংখ্যা বৃদ্ধি হয়। এই ব্যাক্টেরিয়াগুলি অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভাল রাখতে সাহায্য করে। তাই আমলকির আচার বানিয়ে খেলে শরীরের বেশি উপকার হয়।
খুব সহজেই কী ভাবে আমলকি মজাবেন?
প্রথমে আমলকিগুলি ভাল করে ধুয়ে, শুকিয়ে নিন। এ বার ছুড়ি দিয়ে আমলকির গায়ে চিরে দিন। এ বার একটি কাচের শিশিতে জল নিয়ে তাতে আমলকিগুলি দিয়ে দিন। তার সঙ্গে মিশিয়ে দিন পরিমাণ মতো নুন, চিনি। মিশ্রণটি ঢেকে তিন দিন রোদে রেখে দিন। তিন দিন পরেই আমলকিগুলি মজে যাবে ভাল ভাবে।