চোখের বার্ধক্য ঠেকাবে, বয়সকালেও দৃষ্টি থাকবে প্রখর। ছবি: ফ্রিপিক।
বয়স বাড়লে দৃষ্টিজনিত নানা সমস্যা শুরু হয়। কারও হয় রেটিনার সমস্যা, কারও পড়ে ছানি। বয়সকালে দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হতে শুরু করে। কারণ, বার্ধক্য আসে চোখের কোষগুলিতেও। সেগুলির যত ক্ষয় হয়, ততই দৃষ্টিশক্তি দুর্বল হতে থাকে। তার উপর ডায়াবিটিস, উচ্চ কোলেস্টেরল বা উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা থাকলে তো কথাই নেই। চোখে তার প্রভাব পড়ে ভালমতোই। বয়সকালে চোখের যাবতীয় সমস্যার সমাধান করতে এক নতুন রকম চিকিৎসাপদ্ধতি নিয়ে গবেষণা চলছে। সেটি শুধু চোখের রোগ সারাবে তা নয়, এর কাজ হবে চোখের বার্ধক্য রুখে দেওয়া। বয়সকালেও চোখের কোষের পুনরুজ্জীবন ঘটিয়ে দৃষ্টিশক্তি প্রখর করবে।
বোস্টন-ভিত্তিক বায়োটেকনোলজি কোম্পানি ‘লাইফ বায়োসায়েন্সেস’ নতুন এক চিকিৎসাপদ্ধতি নিয়ে গবেষণা করছে। এর নাম ‘এআর-১০০’। এই থেরাপিটির প্রথম প্রয়োগ হচ্ছে মানুষের উপরে। প্রাথমিক ভাবে গ্লকোমা ও বয়সজনিত কারণে অপটিক স্নায়ুর সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের উপর এই চিকিৎসাপদ্ধতির প্রয়োগ করা হচ্ছে। গবেষকেরা জানিয়েছেন, আক্রান্তদের চোখের পরীক্ষা করে কয়েক ধাপে চিকিৎসাটি হচ্ছে। যাঁদের চোখে এখনও অবধি থেরাপিটি করা হয়েছে, তাঁদের চোখের ক্ষতিগ্রস্ত কোষের পুনর্গঠন হয়েছে। গবেষকদের আশা, রোগীর বয়স যতই হোক না কেন, এই থেরাপিটির প্রয়োগে চোখের কোষ পুনরুজ্জীবিত হয়ে দৃষ্টিশক্তি আরও প্রখর করে তুলবে। ষাটোর্ধ্ব বা সত্তরের বেশি বয়সির চোখও যৌবনের মতো দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাবে। এমনকি দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হতে বসেছে, এমন রোগীর দৃষ্টিও ফিরে আসবে বলেই দাবি করা হয়েছে।
কী কী রোগের নিরাময় হবে নতুন থেরাপিতে?
বয়সকালে দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যাওয়া বা ছানি পড়ার সমস্যা হবে না। যাঁর চোখে ছানি পড়েছে, তিনি যদি এই থেরাপিটি করান, তা হলে কাটাছেঁড়া বা অস্ত্রোপচার ছাড়াই ছানি নির্মূল হবে।
গ্লকোমা নির্মূল হবে। চোখের এই রোগ বয়সকালে যেমন হয়, তেমনই কমবয়সেও হতে পারে। চোখের যে অংশ দিয়ে ফ্লুইড বা তরল প্রবাহিত হয়, সেই রাস্তা বন্ধ হয়ে গেলে তা কোনও একটি স্থানে জমতে শুরু করে। এর ফলে চোখের অপটিক নার্ভে বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়। যাকে ‘ইন্ট্রাঅকুলার প্রেশার’ বলা হয়। চাপ বাড়তে থাকলে দৃষ্টিশক্তি ক্রমশ ক্ষীণ হতে থাকে, যা পরবর্তী কালে অন্ধত্ব ডেকে আনে। এই থেরাপিতে রোগ নিরাময় করার চেষ্টা হবে।
বয়স ৫০ পার হলেই ‘ম্যাকুলার ডিজেনারেশন’ (এমডি)-র ঝুঁকি বাড়ে অনেকের। এতে রেটিনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ডায়াবিটিস থাকলে রোগটির ঝুঁকি আরও বাড়ে। দেখা গিয়েছে, যাঁরা ডায়াবিটিসের জন্য এমন ওষুধ খাচ্ছেন যাতে ‘জিএলপি-১ রিসেপটর’ বা ‘সেমাগ্লুটাইড’ জাতীয় উপাদান রয়েছে, তাঁদের বয়সজনিত ম্যাকুলার ডিজেনারেশন রোগটি বেশি হচ্ছে। ডায়াবেটিক ম্যাকুলার এডিমাতেও ভুগছেন অনেকে। এতে দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ হচ্ছে কারও, আবার কারও দৃষ্টিশক্তি একেবারেই চলে যাচ্ছে। ‘এআর-১০০’ থেরাপিতে এই রোগও নির্মূল করা সম্ভব হবে বলেই দাবি করা হয়েছে।