Parkinson’s at 40

পার্কিনসন্স হানা দিতে পারে ৪০ বছর বয়সেও? আগাম কী কী লক্ষণ দেখে সতর্ক হবেন?

পার্কিনসন্সের মতো জটিল স্নায়বিক অসুখ বাড়ছে বিশ্ব জুড়েই। তবে এই রোগ আগেই শণাক্ত করা গেলে চিকিৎসার সুযোগ থাকে বেশি। কোন লক্ষণ দেখে বুঝবেন, পার্কিনসন্স হতে পারে?

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১১ এপ্রিল ২০২৬ ১৭:৩৬
Share:

কমবয়সেও হতে পারে পার্কিনসন্স, লক্ষণ চেনা জরুরি? ছবি: ফ্রিপিক।

ক্রমাগত মানসিক চাপ, ক্লান্তি থেকে বাড়ছে স্নায়ুর জটিল অসুখ পার্কিনসন্স। স্নায়ুর এই রোগটি চেনা সহজ নয়। তবে আগাম এই রোগ চিহ্নিত করা গেলে চিকিৎসার পরিসরও বেশি থাকে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে অসুখ চিহ্নিত হতেই অনেকটা সময় লাগে। এই রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে হাত-পা কাঁপার প্রবণতা লক্ষ করা যায়। যত দিন যায় ততই তা বাড়তে থাকে। এক সময় দৈনন্দিন কাজকর্ম করাও কঠিন হয়ে পড়ে। পার্কিনসন্স শুধু বয়সকালের অসুখ নয়, তা হতে পারে কমবয়সেও।

Advertisement

দেশের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেল্‌থ থেকে প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, ৪০ বছর বয়সেও হতে পারে পার্কিনসন্স। তার কিছু লক্ষণ আগে থেকেই দেখা দেয়।

পারকিনসন্স কেন হয়, তার সঠিক কারণ অজানা। যদিও চিকিৎসকেরা দাবি করেন, উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা যদি মাত্রা ছাড়িয়ে যায়, তা হলে তা মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষগুলির উপর প্রভাব পড়তে শুরু করে। এক সময়ে মস্তিষ্কের সঙ্কেত পাঠানোর ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যেতে বসে। ধীরে ধীরে পার্কিনসন্সের মতো রোগ জাঁকিয়ে বসে।মস্তিষ্কের ‘সাবস্ট্যান্সিয়া নাইগ্রা’ নামক অংশ থেকে ডোপামিন নামে এক ধরনের রাসায়নিক উপাদান নিঃসৃত হয়ে ভাবনাচিন্তাকে নিয়ন্ত্রণ করে। মন ভাল থাকার পিছনেও এর ভূমিকা আছে‌। মস্তিষ্কের এই অংশ অকেজো হয়ে গেলে, ডোপামিন নিঃসরণ কমে যায়। তখনই পার্কিনসন্সের সূচনা হয়।

Advertisement

কমবয়সে পার্কিনসন্স হলে শুধু হাত-পা কাঁপা নয়, আরও কিছু লক্ষণ দেখা দেয়। যেমন, হাঁটাচলার গতি বদলে যায়। স্বাভাবিক ভাবে হাঁটাচলা করতে সমস্যা হয়। হাত ও পায়ের পেশির আড়ষ্টতা বাড়ে, কাঁধের পেশি শক্ত হয়ে যায়। ফ্রোজ়েন শোল্ডারের সমস্যাও দেখা দেয়। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, পার্কিনসন্সের মূল লক্ষণ প্রকাশের কয়েক বছর আগে থেকেই কোষ্ঠকাঠিন্য এবং ঘুমের মধ্যে খিঁচুনি হওয়ার সমস্যা দেখা দেয়। ঘ্রাণশক্তি কমে যায়। কোনও গন্ধই ঠিকমতো পাওয়া যায় না।

পার্কিনসন্স পুরোপুরি নিরাময়যোগ্য না হলেও, দ্রুত ধরা পড়লে সঠিক ওষুধ, ফিজিয়োথেরাপি এবং জীবনধারায় পরিবর্তনের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনযাপন করা সম্ভব। তাই উপসর্গের সামান্যও দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া জরুরি।

Advertisement

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement