প্রি-ডায়াবেটিক পর্বে কি রক্তে শর্করার মাত্রা কমতেও পারে? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
ডায়াবিটিস হওয়ার আগে আসে প্রি-ডায়াবিটিস। এ ক্ষেত্রে রক্তে শর্করার মাত্রা থাকে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি, তবে তা টাইপ ২ ডায়াবিটিসের পর্যায়ে পৌঁছোয় না। ডায়াবিটিসের মতোই প্রি-ডায়াবেটিক পর্বটিও যথেষ্টই উদ্বেগের। ডায়াবিটিসের যাবতীয় উপসর্গ এই পর্ব থেকেই স্পষ্ট হতে থাকে। সাধারণত এই পর্যায়ে চিন্তার কারণ হয়ে ওঠে বিপদসীমায় থাকা শর্করার মাত্রা।
তবে এই পর্যায়ে কি আচমকা শর্করা কমে যাওয়ারও সমস্যা দেখা দিতে পারে? ডায়াবিটিস হলে অনেক সময়ে রক্তে শর্করার মাত্রা কমেও যায়। দ্রুত চিনি বা গ্লুকোজ খেয়ে সেই সময় পরিস্থিতি সামাল দিতে হয়। প্রি-ডায়াবেটিক পর্যায়ে এমন কিছুও হতে পারে কি, এমন প্রশ্ন সমাজমাধ্যমে ঘোরাফেরা করছে। তারই উত্তর দিলেন চিকিৎসকেরা।
থানের একটি হাসপাতালের ডায়াবিটিসের চিকিৎসক বিজয় নেগালুর এক সাক্ষাৎকারে বলছেন, প্রি-ডায়াবেটিকদের রক্তে শর্করার মাত্রা আচমকা নেমে যায় না। তবে কখনও যদি শরীর রক্তে থাকা গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে, এমন কিছু ঘটলেও ঘটতে পারে। প্যাংক্রিয়াস বা অগ্ন্যাশয় ইনসুলিন হরমোন তৈরি করে। এই হরমোনের কাজই হল রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা। কখনও খাওয়ার পরে দ্রুত রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে বেশি ইনসুলিন বার হতে পারে। তার ফলে খাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আচমকা শর্করার মাত্রা কমতেও পারে।
প্রি-ডায়াবেটিকদেরও কখনও কখনও হাত-পা ঝিমঝিম করে কি?
কখনও এমনটা হতে পারে। কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার বেশি খেলে, কখনও ইনসুলিন হরমোন বেশি নিঃসরণ হতে পারে। তার ফলে রক্তে আচমকা শর্করার মাত্রা কমে গেলে, হাত-পা কাঁপা, মাথা ঝিমঝিম করার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে, বলছেন চিকিৎসক বিজয়।
তবে কলকাতার চিকিৎসক অভিজ্ঞান মাঝি বলছেন সম্পূর্ণ অন্য কথা। তিনি জানাচ্ছেন, ডায়াবিটিস হওয়ার আগের পর্যায়ে সাধারণত রক্তে শর্করার মাত্রা বেশির দিকেই থাকে। অগ্ন্যাশয় থেকে ক্ষরিত ইনসুলিন হরমোন যেমন রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে, তেমনই অগ্ন্যাশয় থেকে গ্লুকাগন নামে আরও একটি হরমোন নিঃসরণ হয়, যার কাজ হল রক্তে শর্করার পরিমাণ কমে গেলে তা বৃদ্ধি করা হয়। প্রি-ডায়াবেটিক পর্বে খাওয়া-দাওয়া ঠিক থাকলে, রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যায় না।
রক্তে শর্করার মাত্রা কমে কখন?
অনেকক্ষণ খাওয়া না হলে, যাঁরা ডায়াবেটিসের ওষুধ খান, তার মাত্রা ঠিকঠাক না থাকলে রক্তে শর্করার মাত্রা কমতে পারে। প্রি-ডায়াবেটিক পর্বে যেহেতু ওষুধ খাওয়া হয় না, তাই আচমকা সুগার কমে যাওয়ার ঝুঁকি সাধারণত থাকে না, বলছেন অভিজ্ঞান।
রক্তে শর্করার মাত্রা ঠিক রাখতে কী করা উচিত?
প্রি-ডায়াবেটিক পর্বে পৌঁছে গেলেও, ডায়াবিটিসের ঝুঁকি এড়ানো যেতে পারে জীবনযাপন বদলে। ভুল খাদ্যাভ্যাস, মানসিক চাপ, শারীরচর্চার অভাব ডায়াবিটিসের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। রক্তে শর্করার মাত্রা ঠিক রাখতে হলে পুষ্টিতে ভারসাম্য রাখা জরুরি। খাওয়ার তালিকায় ফাইবার, প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, কার্বোহাইড্রেটে মাত্রা সঠিক হতে হবে। তার সঙ্গে প্রয়োজন পর্যাপ্ত ঘুম, হাঁটাহাটি।