রোগা হওয়ার ডায়েটে কি রাঙাআলু রাখা যায়? ছবি: সংগৃহীত।
ঝোল, তরকারি, চচ্চড়ি হোক বা সেদ্ধ ভাত— পদ যা-ই হোক, তাতে আলু মাস্ট! খাবার তালায় আলু না থাকলে মনটা যেন কেমন করে! এ দিকে দিন দিন ওজন বাড়ছে তাই, আলু আর খাওয়া চলবে না। ওজন ঝরাতে হলে জীবন থেকে এই সব্জিটিকে বাদ না দিলেই নয়। এমন পরিস্থিতিতে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, এ ক্ষেত্রে আলুর বদলে কি রাঙাআলু খাওয়া যেতে পারে?
যাঁরা ওজন ঝরানোর ডায়েটে আছেন তাঁরা আলুর বদলে রাঙাআলু বা মিষ্টি আলু খেতেই পারেন, এমনটাই মত পুষ্টিবিদ শ্রেয়া চক্রবর্তীর। পুষ্টিবিদ বলেন, ‘‘রোগা হওয়ার ডায়েটে মাঝেমধ্যে রাঙাআলু খাওয়া যেতেই পারে। আর আলুর পরিমাণের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। স্বাস্থ্যকর ভেবে বেশি বেশি খেলে কিন্তু চলবে না।’’
এই সব্জিতে ভিটামিন এ, সি- দু’ধরনের ফাইবার, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টের মতো প্রয়োজনীয় বেশ কিছু উপাদান মজুত থাকে। যা সাধারণ আলুতে পাওয়া যায় না। তাই বিশেষ করে শিশু এবং বয়স্কদের রাঙা আলু খাওয়াতে বলা হয়। এ ছাড়া রাঙাআলুতে দু’ধরনের ফাইবার রয়েছে। যার ফলে দীর্ঘ ক্ষণ পেট ভর্তি থাকে। ঘন ঘন খিদে পাওয়ার প্রবণতা কমে। ওজন কমানোর ডায়েটে হালকা খিদে পেলে মাঝেমধ্যে রাঙাআলুর চাট বানিয়ে খাওয়া যেতেই পারে। রাঙাআলুতে রয়েছে বিটা-ক্যারোটিন। যা শরীরে গিয়ে ভিটামিন এ-তে রূপান্তরিত হয়ে যায়। এই ভিটামিন এ আবার চোখের জন্য ভাল।
ডায়াবেটিকরাও কি রাঙাআলু খেতে পারেন?
রাঙাআলুতে যে হেতু ক্যালোরি এবং কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ বেশি, তাই অনেকেরই ধারণা, ডায়াবেটিকেরা এই সব্জি খেতে পারেন না। তবে এ বিষয়ে পুষ্টিবিদ শ্বেতা চক্রবর্তীর মত, “রাঙা আলুর জিআই অনেকটাই কম। সঙ্গে প্রয়োজনীয় ফাইবার এবং খনিজও রয়েছে। তাই স্টার্চ জাতীয় সব্জি হলেও পরিমিত পরিমাণে রাঙা আলু খেলে ডায়াবেটিকদের কোনও সমস্যা হয় না।”