দাঁত গজাবে ওষুধ খেলেই! গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
বুড়ো বয়সে দাঁত গজাবে? হতেই পারে, তা আশ্চর্যের কী! চিকিৎসা বিজ্ঞানের নিত্যনতুন আবিষ্কারে সবই সম্ভব। আর হয়েছেও তাই। বয়স যতই হোক, দাঁত পড়ে গেলে সে জায়গায় কচি দাঁত গজাবে নিজে থেকেই। ঠিক শিশুর যেমন দুধের দাঁত পড়ে গেলে নতুন দাঁত গজায়, বিষয়টা তেমনই। এর জন্য খেতে হবে একটি ওষুধ। তার পরেই মাড়ি ভেদ করে নতুন দাঁত উঠে আসবে।
মানুষের জীবদ্দশায় একটা নির্দিষ্ট বয়স অবধিই দাঁত গজায়। শিশুর দুধের দাঁত ওঠে ৬ মাস থেকে ৩ বছর বয়স অবধি। এর পর সেই দাঁত পড়ে গিয়ে স্থায়ী দাঁত গজায়। তা-ও প্রায় ১২ থেকে ১৩ বছর বয়স অবধি চলে এই প্রক্রিয়া। এর পরে সাধারণত স্থায়ী দাঁত আর গজায় না। ১৭ থেকে ২৫ বছর অবধি আক্কেল দাঁত গজাবে পারে, এই অবধিই। এর পর মাথা খুঁড়লেও আর নতুন দাঁত গজাবে না। তখন দাঁত পড়ে গেলে ডেন্টাল ইমপ্ল্যান্ট করে নতুন দাঁত বসিয়ে দেওয়া বা বাঁধানো দাঁতই ভরসা। বিশ্বে প্রথম বার জাপানের বিজ্ঞানীরা এই শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়াকে উল্টো দিশায় চালনা করেছেন।
কিয়োতো ইউনিভার্সিটি ও কিতানো হাসপাতালের চিকিৎসকেরা এমন এক ওষুধ আবিষ্কারের পথে যা খেলেই নতুন দাঁত গজাবে যে কোনও বয়সেই। ওষুধটি কাজ করবে একটি বিশেষ প্রক্রিয়ায়। একটি প্রোটিনকে নিষ্ক্রিয় করে ও অন্য এক প্রোটিনকে সক্রিয় করে তোলাই হবে এর কাজ। বিষয়টি বুঝিয়ে বলা যাক। দাঁত পড়ে যাওয়ার পরে মাড়ির ওই অংশে এক বিশেষ প্রোটিন তৈরি হয় যার নাম ‘ইউএসএজি-১’। এর কাজ হল নতুন দাঁত তৈরিতে বাধা দেওয়া। জাপানি গবেষকেরা দেখেছেন, এই প্রোটিনটিকে নিষ্ক্রিয় করে দিলেই নতুন দাঁত গজাতে আর কোনও বাধাই থাকবে না।
তবে বিষয়টি এখানেই শেষ নয়। ‘ইউএসএজি-১’ প্রোটিনকে নিষ্ক্রিয় করার পরে দেখা গিয়েছে, সে জায়গায় আরও এক প্রোটিন বিএমপি (বোন মরফোজেনেটিক প্রোটিন) সক্রিয় হয়ে উঠেছে। বিএমপি-র কাজ হল নতুন দাঁত তৈরিতে সাহায্য করা। অর্থাৎ, একটি ওষুধ একই সঙ্গে দুই কাজ করবে। ‘ইউএসএজি-১’ প্রোটিনকে থামিয়ে দেবে এবং বিএমপি প্রোটিনকে সক্রিয় করে তুলে দাঁত গজাতে সাহায্য করবে।
ইঁদুর ও বেজি জাতীয় প্রাণীর উপরে প্রথম পরীক্ষা করে এই গবেষণায় সাফল্য পাওয়া গিয়েছিল। ২০২৪ সাল থেকে মানুষের উপরেও পরীক্ষা শুরু হয়েছে। গবেষকেরা জানাচ্ছেন, দাঁত প্রতিস্থাপনের পদ্ধতি খুবই যন্ত্রণাদায়ক। সে দাঁত কত দিন স্থায়ী হবে, তা বলাও যায় না। বাঁধানো দাঁত সংরক্ষণ করার ঝক্কি অনেক। সে জায়গায় যদি প্রাকৃতিক ভাবে দাঁত গজায়, তা হলে তো কথাই নেই। ফোকলা হাসি হাসার আর প্রয়োজন হবে না। বার্ধক্যেও ৩২ পাটি দাঁত নিয়ে দিব্যি চওড়া হাসি হাসতে পারবেন বয়স্কেরা।