Smartwatch Health Data

স্মার্টওয়াচের দেওয়া কোন কোন তথ্যে বিস্তর গলদ থাকে? সম্পূর্ণ বিশ্বাস করলেই বিপদ

হাতঘড়িকে চিকিৎসক ভেবে ফেললেই ভুলটা হবে। কব্জিতে বাঁধা ঘড়িতেই এখন ভরসা করেন অনেকে। কতটা ক্যালোরি পুড়ছে, কত কদম হেঁটে মেদ ঝরালেন, রক্তচাপ বাড়ছে না কমছে— ইত্যাদি তথ্য স্মার্টওয়াচেই পাওয়া যায়। তবে সে সব তথ্য কি সম্পূর্ণ ঠিক?

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২২ এপ্রিল ২০২৬ ১৬:২৭
Share:

স্মার্টওয়াচের কোন কোন ডেটায় ভুল থাকে? ফাইল চিত্র।

হাতঘড়িই যেন চিকিৎসক! তবে যে সে হাতঘড়ি নয়, স্মার্টওয়াচ। এখনকার স্মার্টওয়াচ বা ফিটনেস ট্র্যাকারগুলি স্বাস্থ্য বিষয়ক খুঁটিনাটি তথ্য দিতে পারে। রক্তচাপ বাড়ছে না কমছে, সুগার কত, সারা দিনে কতটা ক্যালোরি ঝরালেন, এ সব তথ্য তো দেবেই, এমন অনেক স্মার্টওয়াচ রয়েছে যেগুলি হার্ট অ্যাটাকের আগাম সঙ্কেতও দিতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে। শরীরে কোনও রোগ বাসা বেঁধেছে কি না, তা-ও ধরে দিতে পারে। তবে এই তথ্যগুলি কি সঠিক? সারা দিনে কত পা হাঁটলেন, হৃৎস্পন্দনের হার কেমন আর রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা কত— এই তিন বিষয়েও স্মার্টওয়াচের উপর নির্ভর করেন অনেকেই। তবে গবেষকেরা জানাচ্ছেন, স্মার্টওয়াচের দেওয়া কিছু তথ্যে বিস্তর গলদ থাকে। সেগুলি কী কী, তা জেনে রাখা জরুরি।

Advertisement

শরীরের অন্দরে কী চলছে, তার উপর নজর রাখতে এখন অনেকেই স্মার্ট ওয়াচ বা ফিটনেস ট্র্যাকার কেনেন। শখ করে কেনা হাতঘড়ি বিপদের সময়ে প্রাণ বাঁচিয়েছে, এমন উদাহরণও অনেক। তবে স্মার্টওয়াচের দেওয়া সব তথ্য নির্ভুল নয়। বিশেষ করে যে ডেটাগুলি বেশি দেখা হয়, তাতেই অনেক ভুল থাকে। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা জানাচ্ছেন, স্মার্টওয়াচের দেওয়া কোন কোন ডেটা নির্ভুল হয়।

হৃৎস্পন্দনের হার

Advertisement

ঘড়িটি যিনি পরে রয়েছেন তাঁর নাড়ির গতি দেখে ও ত্বকের নীচে আলো পাঠিয়ে হৃৎস্পন্দনের ওঠানামা কতটা হচ্ছে, তা স্বাভাবিক না কি অস্বাভাবিক, তা বলা সম্ভব নয়। ব্যায়াম করার সময়ে, দ্রুত হাঁটা বা দৌড়োনোর সময়ে এবং বিশ্রাম নেওয়ার সময়ে হৃৎস্পন্দনের হার বদলাবে। কাজেই স্মার্টওয়াচের পক্ষে সম্পূর্ণ নির্ভুল তথ্য দেওয়া সম্ভব নয়।

ক্যালোরি পোড়ার হিসেব

Advertisement

অনেকেই ঘড়ির দিকে তাকিয়ে ভাবেন ৫০০ ক্যালোরি ঝরিয়ে ফেলেছেন একদিনে। এটি সবচেয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য। ক্যালোরি খরচ নির্ভর করে বিপাক হার, হরমোনের ওঠানামা ও শরীরের গঠনের উপরে। স্মার্টওয়াচ কেবল বয়স, ওজন এবং হার্ট রেটের উপর ভিত্তি করে গাণিতিক ধারণা দেয় যা ঠিক না-ও হতে পারে। স্ট্যানফোর্ডের গবেষকেরা জানাচ্ছেন, ক্যালোরি পোড়ার হিসাবে স্মার্টওয়াচ ৪০ থেকে ৮০ শতাংশ ভুল তথ্য দিতে পারে।

রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা

করোনার পর থেকে এই ফিচারটি খুব জনপ্রিয়। কিন্তু কব্জি থেকে অক্সিজেন মাপা ও আঙুল থেকে পালস অক্সিমিটারে অক্সিজেনের মাত্রা মাপা এক নয়। কব্জির হার ও কোষ অনেক বেশি পুরু। ফলে সেখান দিয়ে আলোর প্রতিফলন কম হয়। হাত সামান্য কাঁপলে বা ঠান্ডা থাকলে রিডিং একদম ভুল আসতে পারে।

ঘুমের বিশ্লেষণ

ঘড়ি হয়তো বলছে আপনি ৮ ঘণ্টা ঘুমিয়েছেন, কিন্তু সকালে উঠে দেখলেন ক্লান্ত বোধ করছেন। এর কারণ মস্তিষ্ক কতটা সজাগ, তা ঘড়ি মাপতে পারবে না। কেবল শরীরের নড়াচড়া দেখে তথ্য দেবে। বিছানায় শুয়ে যদি স্থির ভাবে ফোন দেখেন বা বই পড়েন, সে সময়টাকেও ঘুমের হিসাবে ঢুকিয়ে নেবে। ‘স্লিপ সাইকেল’ পরিমাপ করা হাতঘড়ির কর্ম নয়।

রক্তচাপের হিসাব

বর্তমান সময়ে নানা রকম স্মার্টওয়াচ বেরিয়ে গিয়েছে যা রক্তচাপের ওঠানামা ধরতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে রক্তচাপ সঠিক ভাবে পরিমাপের জন্য ধমনীতে চাপ দেওয়া প্রয়োজন যাকে বলে ‘কাফ প্রেসার’। সেটি হাতঘড়ি দিয়ে সম্ভব নয়। তাই স্মার্টওয়াচের তথ্য বিশ্বাস করতে শুরু করলে বিপদে পড়তে পারেন উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশনের রোগীরা।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement