তমন্না ভাটিয়া। ছবি: সংগৃহীত।
নেটমাধ্যম খুললেই এখন চোখে পড়বে চটজলদি রোগা হওয়ার হাজারটা ভিডিয়ো। কোনও ভিডিয়োয়ে কোনও বিশেষ ডায়েট মেনে ১ মাসেই ৫ কেজি ওজন কমিয়ে ফেলার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, কোনও ভিডিয়োয়ে আবার উপোস করে থাকার কথা হলা হয়। আর চটজলদি অনেকটা ওজন কমিয়ে ফেলার তাগিদে অনেকেই পুষ্টিবিদের পরামর্শ ছাড়াই ডায়েট করতে শুরু করেন। অভিনেত্রী তমন্না ভাটিয়ার ফিটনেস প্রশিক্ষক সিদ্ধার্থ সিংহ সম্প্রতি তাঁর ইনস্টাগ্রামে রোগা হওয়ার এমন তিনটি জনপ্রিয় কায়দার বিষয়ে সতর্ক করলেন যে, সেগুলি নেটমাধ্যমে জনপ্রিয় হলেও অজান্তেই শরীরের অনেকটা ক্ষতি করে দিতে পারে। জেনে নিন, চটজলদি ওজন জরাতে কোন তিনটি প্রলোভনে পা না বাড়ানোই ভাল।
লো-কার্ব ডায়েট: এই ডায়েটে হয়তো চটজলদি ওজন ঝরে যায়, তবে শরীরে হরমোনের ভারসাম্য একেবারেই বিগড়ে যায়। ভাত-রুটি-চিনি সব একেবারে ছেড়ে দিলে তা শরীরের জন্য মোটেও ভাল নয়। কার্বোহাইড্রেট থেকেই শক্তি পায় শরীর। সমস্ত শারীরবৃত্তীয় কাজ পরিচালনার জন্য প্রতি দিন শরীরে নির্দিষ্ট মাপ অনুযায়ী প্রোটিন, ভিটামিন, ফ্যাট, কার্বোহাইড্রেটের মতো জরুরি উপাদানগুলির জোগান দিতেই হবে। ওজন ঝরানোর ডায়েটে বয়স এবং শারীরিক সুবিধা-অসুবিধা বুঝে ব্যক্তিবিশেষে কার্বোহাইড্রেটের মাত্রা নির্ধারণ করেন পুষ্টিবিদেরা। কিন্তু পুষ্টিবিদের পরামর্শ ছাড়া হঠাৎ খাবারের তালিকা থেকে কার্বোহাইড্রেট সম্পূর্ণ ভাবে বাদ দিয়ে দিলে শারীরিক এবং মানসিক সমস্যা বেড়ে যেতে পারে। ফিটনেট প্রশিক্ষকের মতে, কার্বোহাইড্রেট সম্পূর্ণ ভাবে বাদ না দিয়ে ক্যালোরি বুঝে খান। ডায়েটে অল্প কার্ব আর বেশি করে প্রোটিন রাখলে সমস্যা হওয়ার কথা নয়।
ডিটক্স চায়ে চুমুক: বাজারে এখন ডিটক্স চায়ের ছড়াছড়ি। প্রতিটি সংস্থাই দাবি করে, তাদের চা খেলেই নাকি শরীর থেকে সব রকম বর্জ্য পদার্থ বেরিয়ে যাবে। সিদ্ধার্থের মতে, ডিটক্স চা বলে কিছুই হয় না। কোনও সাপ্লিমেন্টেরই শরীর থেকে বর্জ্য বার করে দেওয়ার মতো ক্ষমতা নেই। সংস্থাগুলির প্রচারের ফাঁদে পা না দেওয়াই ভাল। প্রশিক্ষকের মতে, শরীর ডিটক্স করতে হলে বেশি করে ফাইবার আর প্রোটিন খেতে হবে, বেশি করে চলাফেরা করতে হবে আর পর্যাপ্ত সময় ঘুমোতে হবে।
ঘুমের সঙ্গে আপস: অনেকেই রাতে দেরি করে ঘুমোতে যান আর সকালে ব্যায়াম করবেন বলে তাড়াতাড়ি উঠে পড়েন। সিদ্ধার্থের মতে, ফিটনেসের বিষয়ে ভাবনাচিন্তা করলে সবার আগে ঘুমের দিকে নজর রাখতে হবে। ঘুম ঠিকঠাক না হলেই ভুলভাল খাবারের প্রতি ঝোঁক বাড়ে। শরীরের হজমপ্রক্রিয়া বিগড়ে যায়। ফলস্বরূপ, শরীরের আনাচকানাচে ফ্যাট জমতে শুরু করে। শরীর চাঙ্গা রাখতে চাইলে, রোগা হতে চাইলে তাই ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমোতেই হবে।