ডায়াবিটিসের রোগীদের জন্য সেরা ফল কোনটি? ছবি: সংগৃহীত।
এক ফলে এত গুণ! স্বাস্থ্যরক্ষা, ত্বকচর্চা, কেশচর্চা — সবেতেই ঘরের ছেলে হয়ে উঠছে বিদেশি এই ফল। পুষ্টিগুণের কারণেই স্যালাড ও টোস্টের সঙ্গে এই ‘সুপারফুড’ খাওয়ার চল বেড়েছে। আর এই বিশেষ ফলই নাকি রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য সেরা। নানাবিধ স্বাস্থ্যগুণের নিরিখে অন্য ফলগুলিকে টেক্কা দিয়ে ফেলেছে ইতিমধ্যে। এখন শোনা যাচ্ছে, ডায়াবিটিসের ক্ষেত্রেও আপেল, পেয়ারাকে পিছনে ফেলে দিয়েছে অ্যাভোকাডো। সহমত মধুমেহ রোগের চিকিৎসক আশিস মিত্রও।
অ্যাভোকাডোর গুণাবলি। ছবি: সংগৃহীত
অ্যাভোকাডোর পুষ্টিগুণ কী?
একসময় মধ্য আমেরিকাতেই কেবল ফলানো হত অ্যাভোকাডো। এখন বিশ্বের নানা জায়গায় পাওয়া যায় এটি। অ্যাভোকাডো এমনই এক ফল, যা ফাইবার, ভিটামিন সি, ভিটামিন এ, ভিটামিন বি ৬, নানাবিধ খনিজ, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট (মোনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট), প্রোটিন, অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টে ভরপুর। ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডে পরিপূর্ণ ফলটি স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ভাল। অন্যান্য ফলের চেয়ে এতে ক্যালোরির পরিমাণ একটু বেশি। তবে কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ তুলনামূলক ভাবে কম। অর্থাৎ একটি ফলে সমস্ত গুণের বাহার।
কেন ডায়াবিটিসের জন্য সেরা ফল?
চিকিৎসক জানাচ্ছেন, যে কোনও ফলে মূলত ফাইবার, কার্বোহাইড্রেট, ভিটামিন থাকে। কিন্তু অ্যাভোকাডোতে বাড়তি গুণ হিসেবে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, প্রোটিন ইত্যাদিও মেলে। তাঁর কথায়, ‘‘অ্যাভোকাডো একমাত্র ফল, যেটিতে হার্টের জন্য উপকারী ফ্যাট থাকে। সাধারণত ফ্যাটযুক্ত ফলের অস্তিত্ব বেশি নেই। পাশাপাশি, এটি আরও একাধিক পুষ্টিগুণে ভরপুর। ফলে অনেক ক্ষণ পেট ভর্তি রাখে। ফলে ডায়াবিটিসের রোগীদের জন্য এই ফল বেশ উপকারী। আপনি প্রাতরাশে যদি একটি অ্যাভোকাডো খান, তা হলে ঘন ঘন খিদে পাওয়ার প্রবণতা কমে যায়। এর ফলে রক্তে সুগার নিয়ন্ত্রণে থাকে। ডায়াবিটিসের ওষুধ হিসেবে কাজ করে না, কিন্তু নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।’’
টোস্টের উপর অ্যাভোকাডো মাখিয়ে খেতে পারেন। ছবি: সংগৃহীত
পাউরুটি সেঁকে তাতে মেয়োনিজ় বা চিজ়, মাখন বা জেলি মাখালে তা ডায়াবিটিসের পক্ষে ভাল নয়। চিকিৎসক পরামর্শ দিচ্ছেন, তার চেয়ে বরং অ্যাভোকাডোর নরম অংশের শাঁস মাল্টিগ্রেন পাউরুটিতে মাখিয়ে খাওয়া যায় সকালে। যদিও পাউরুটি খেলে চট করে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে প্রবণতা দেখা যায়। কিন্তু অ্যাভোকাডোতে প্রচুর ফাইবার রয়েছে বলে সেই সমস্যা হবে না।
সাধারণত সকালে মিষ্টি ফল এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। বিশেষ করে ডায়াবিটিসের রোগীদের। সেই তালিকা থেকে বাদ দেওয়া যেতে পারে অ্যাভোকাডোকে। সুগারের রোগীরাও নিশ্চিন্তে এই ফল দিয়ে জলখাবার বানাতে পারেন। সঙ্গে ডিমসেদ্ধ খেলেও উপকৃত হতে পারেন তাঁরা।