Iran on Nuclear Sites

রাষ্ট্রপুঞ্জের পরমাণু পর্যবেক্ষক দলকে কি পরিদর্শনের অনুমতি দেওয়া হবে? ইরান খারিজ করে দিল ভান্সের দাবি

২০২৪ সালের গত সেপ্টেম্বরে মিশরে আইএইএ-র সঙ্গে চুক্তি সই করেছিল ইরান। ওই চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ইরান তাদের পরমাণু কেন্দ্রগুলিতে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক দলকে যেতে দেবে বলে রাষ্ট্রপুঞ্জের সংস্থাটির তরফে জানানো হয়েছিল।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬ ১৮:২০
Share:

জেডি ভান্স। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

রাষ্ট্রপুঞ্জ নিয়ন্ত্রিত আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-র সঙ্গে শেষ সমঝোতার পথে ইরান হাঁটতে চলেছে বলে সোমবার মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স দাবি করেছিলেন। তাঁর দাবি ছিল, মোজ়তবা খামেনেইয়ের দেশ আইএইএ-র পরিদর্শক দলকে পরমাণু কেন্দ্রগুলি পরিদর্শনের অনুমতি দেবে। কিন্তু মঙ্গলবার সেই সম্ভাবনা সরাসরি খারিজ করেছে তেহরান। ইরান সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘এ সংক্রান্ত নতুন করে কোনও আলোচনা হয়নি।’’

Advertisement

ভান্সের দাবি ছিল, যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে সুইৎজ়ারল্যান্ডে প্রথম দফার আলোচনার পর পূর্বশর্ত হিসাবে, দেশটিতে আবার পরমাণু পরিদর্শকদের প্রবেশের অনুমতি দিতে রাজি হয়েছে তেহরান। তিনি বলেন, ‘‘আইএইএ-র সঙ্গে আজই এ বিষয়ে আলোচনা শুরু হতে পারে।’’ কিন্তু ভান্সের ওই দাবির কয়েক ঘণ্টা পরেই ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম জানিয়ে দেয়, কোনও অবস্থাতেই আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক দলকে পরমাণুকেন্দ্র পরিদর্শনের অনুমতি দেওয়া হবে না। প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের গত সেপ্টেম্বরে মিশরের রাজধানী কায়রোতে আইএইএ-র সঙ্গে চুক্তি সই করেছিল ইরান। ওই চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ইরান তাদের পরমাণুকেন্দ্রগুলিতে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক দলকে যেতে দেবে বলে রাষ্ট্রপুঞ্জের সংস্থাটির তরফে জানানো হয়েছিল। কিন্তু প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানের সরকার পরবর্তী সময়ে অনুমতি দিতে অস্বীকার করেছিল।

এর পরে গত বছরের গত ১৩ জুন রাতে ইরানের রাজধানী তেহরান এবং একাধিক পরমাণুকেন্দ্রে হামলা চালিয়েছিল ইজ়রায়েলি যুদ্ধবিমান। ওই অভিযানের পোশাকি নাম ছিল, ‘অপারেশন রাইজ়িং লায়ন’! ঘটনাচক্রে, ইজ়রায়েলি হামলার দিনকয়েক আগে আইএইএ-র ডিরেক্টর জেনারেল রাফায়েল মারিয়ানো গ্রোসি জানিয়েছিলেন, পরমাণু বোমা নির্মাণের উদ্দেশ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি চালাচ্ছে ইরান। যদিও সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছিল পেজ়েশকিয়ান সরকার। ইজ়রায়েলি হামলার ন’দিন পরে ২২ জুন ইরানের তিনটি পরমাণুকেন্দ্র, ফোরডো, নাতান্‌জ় এবং ইসফাহানে হামলা চালিয়েছিল আমেরিকার বি-২ বোমারু বিমান। ফেলা হয় বাঙ্কার ব্লাস্টার সিরিজের সবচেয়ে শক্তিশালী বোমা জিবিইউ-৫৭। সেই অভিযানের পোশাকি নাম ছিল ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’।

Advertisement

২৪ জুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে যুদ্ধবিরতি হলেও ওয়াশিংটনের দাবি মেনে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করতে রাজি হয়নি তেহরান, যা নিয়ে তখন থেকেই নতুন করে অশান্তির আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল পশ্চিম এশিয়ায়। এর পরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করেছিল পেন্টাগন। তাতে নিহত হয়েছিলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। একই দিনে ইজ়রায়েলও হামলা চালিয়েছিল ইরানে। সেই অভিযানের পোশাকি নাম ছিল ‘অপারেশন রোয়রিং লায়ন’। এর পর পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে প্রত্যাঘাত শুরু করেছিল তেহরান। ইজ়রায়েলও তাদের নিশানায় ছিল। শেষ পর্যন্থ পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় কয়েক দফা আলোচনায় পরে ৮ এপ্রিল অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল ওয়াশিংটন ও তেহরান। ১৭ জুন ট্রাম্প এবং পেজ়েসকিয়ান ১৪ দফা সমঝোতা স্মারকে (মউ) সই করেছিলেন।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement