রাফাল যুদ্ধবিমান। ছবি: সংগৃহীত।
মার্কিন গোয়েন্দা রিপোর্টে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল সাত মাস আগেই। এ বার হাতেকলমে প্রমাণ দিল নয়াদিল্লি। ভারতীয় বায়ুসেনার হেফাজতে থাকা ৩৬টি রাফাল যুদ্ধবিমান সংক্রান্ত বায়ুসেনার নথি জানাচ্ছে, ২০২৫ সালের মে মাসে ‘অপারেশন সিঁদুর’-পরবর্তী সংঘাতপর্বে পাকিস্তান এবং চিনের তরফে যে দাবি করা হয়েছিল, তা পুরোপুরি মিথ্যা।
২০১৬ সালের চুক্তি অনুযায়ী ভারতীয় বায়ুসেনাকে ৩৬টি রাফাল যুদ্ধবিমান সরবরাহ করেছিল নির্মাতা সংস্থা দাসো অ্যাভিয়েশন বিমানের মধ্যে ২৮টি সিঙ্গল-সিটার (এক আসনের) যুদ্ধবিমান এবং ৮টি টুইন-সিটার (দুই আসনের) প্রশিক্ষণ বিমান। ২০২০ সালে জুলাই মাস থেকে পর্যায়ক্রমে সেগুলি ভারতে এসে পৌঁছেছিল। সদ্যপ্রকাশিত বায়ুসেনা-নথি জানাচ্ছে, ৩৬টি বিমানই এখন বায়ুসেনার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সেগুলির রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত ভারতীয় বায়ুসেনার ‘ব্রিজ় সাপোর্ট’ নথি প্রকাশিত হয়েছে ‘ইন্ডিয়া টুডে’তে।
জুন মাসে জারি করা ওই নথি জানাচ্ছে, বায়ুসেনার সদর দফতরের তরফে একটি ‘রিকোয়েস্ট ফর প্রপোজ়াল’ (আরপিএফ) অনুযায়ী, পাঁচ মাসের জন্য একটি ব্রিজ় সাপোর্ট প্যাকেজের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। ৩৬টি রাফাল যুদ্ধবিমানকেই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে তাতে। এটিই সেই একই সংখ্যা যা ভারত ২০১৬ সালে ফ্রান্সের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে কেনা হয়েছিল। এর পরে গত বছরের মধ্যপর্বে ভারতীয় নৌসেনার জন্য ২৬টি ‘রাফাল মেরিন’ (রাফাল-এম) যুদ্ধবিমান কেনার ব্যাপারে ফ্রান্সের সঙ্গে চুক্তি সই করেছে ভারত। সেই চুক্তির অঙ্ক ৬৩ হাজার কোটি টাকা।
প্রসঙ্গত, গত বছর নভেম্বরে মার্কিন গোয়েন্দা দফতরের একটি রিপোর্টে জানানো হয়েছিল, ‘অপারেশন সিঁদুর’-পর্বে রাফালের বিরুদ্ধে ভুয়ো প্রচার চালিয়েছিল পাকিস্তান ও চিন। নিরাপত্তা পর্যালোচনা কমিশনের ওই রিপোর্টে বলা হয়েছিল, নিজেদের জে-৩৫ যুদ্ধবিমানের সাফল্য প্রচার করতেই ফ্রান্সের যুদ্ধবিমানটি নিয়ে ভুয়ো খবর রটানো হচ্ছিল বেজিঙেক তরফে। এর জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সহায়তাও নেওয়া হয়েছে। আর সেই কাজে শি জিনপিঙের সরকারকে সাহায্য করেছিল ইসলামাবাদ। ঘটনাচক্রে, কয়েক মাস আগে ভারতীয় সেনা সর্বাধিনায়ক জেনারেল অনিল চৌহান একটি সাক্ষাৎকারে মেনে নিয়েছিলেন, পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘাতের সময়ে ভারতের যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছে। কিন্তু কতগুলি বিমান, বা আদৌ তা রাফাল কি না, তা তিনি স্পষ্ট করেননি।