মিষ্টি স্বাদের এই ফলের কী কী উপকারিতা রয়েছে? ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।
বিশ্বের দরবারে ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা অর্জন করছে চিনের এই ফল। কেবল জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া নয়, ইউরোপ, আমেরিকা ও এশিয়ার অন্যান্য দেশেও এক সময়ে সুপারফুড হিসেবে চিহ্নিত হতে শুরু করল টম্যাটোর মতো দেখতে ফলটি। স্বাদে মিষ্টি, রঙে কমলা পারসিমন এখন ভারতের ফলের বাজারেও জায়গা করে নিচ্ছে। বিদেশি এই ফলের প্রতি আকর্ষণ বেড়েছে স্বাস্থ্যসচেতনদের। কী এর উপকারিতা, কাদের জন্য নিরাপদ না-ও হতে পারে? উত্তর দিচ্ছেন দিল্লির বসন্ত কুঞ্জের গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট এবং হেপাটোলজিস্ট শুভম বৎস।
ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিয়ো করে পারসিমনের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেন চিকিৎসক। ফলের উপকারিতা সম্পর্কে জানাতে গিয়ে শুভম বলছেন, ‘‘পারসিমন ভারতের পরবর্তী সুপারফ্রুটের তকমা পেতে পারে। এই ফলের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে ধীরে ধীরে অবগত হচ্ছে এই দেশ।’’
পারসিমন ফল। ছবি: সংগৃহীত।
পারসিমন ফলের কোন কোন উপকারিতার কথা বলছেন চিকিৎসক?
· পুষ্টিগুণে ভরপুর এই ফল। ভিটামিন এ, সি, ই, কে-তে পরিপূর্ণ। পাশাপাশি পটাশিয়াম, কপার ও ম্যাঙ্গানিজ়েরও ভাল উৎস এই ফল।
· জলে দ্রবণীয় ও অদ্রবণীয় ফাইবার ভর্তি রয়েছে পারসিমনে। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণ রাখার পাশাপাশি মলত্যাগের কাজ সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন করতে সাহায্য করে।
· পারসিমনে উপস্থিত ক্যারোটিনয়েড এবং ফ্ল্যাভোনয়েড হার্টের ধমনীর সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এলডিএল অর্থাৎ ক্ষতিকারক কোলেস্টেরল কমিয়ে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে। ফলে হার্টের জন্য এই ফল খুবই উপকারী।
· এই ফলে ট্যানিন এবং পলিফেনল রয়েছে বলে প্রদাহ নাশ করতে সাহায্য করে।
· মিষ্টি স্বাদের ফল হলেও ডায়াবিটিসের রোগীদের জন্য এই ফল ক্ষতিকর নয়। এই ফলের ফাইবার রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা রোধ করে।
পারসিমনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কী?
অতিরিক্ত পরিমাণে পারসিমন খেয়ে ফেললে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ, পরিমিত মাত্রায় এই ফল খেতে হবে।