Eosinophilia

মরসুম বদলে অ্যালার্জি, কেউ ভোগেন পেটের সমস্যাতেও, রক্তের কোন উপাদানটি বেশি থাকলে এমন হয়?

শ্বাসকষ্ট মানেই রোগ নয়, এটি রোগের লক্ষণ। আবার অ্যালার্জি বা নানা ধরনের চর্মরোগও এক বিশেষ রোগের লক্ষণ হতে পারে। রক্তের একটি উপাদান বেশি থাকলে এ রোগটি হয়। ভোগেন অনেকেই।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১০ জুন ২০২৬ ১৬:৫২
Share:

কেন হচ্ছে এত অ্যালার্জি, পেটের রোগও, নেপথ্যে রক্তের এক উপাদানই দায়ী। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

ঠান্ডা না লেগেও সর্দি-কাশি হওয়া, মরসুম বদলালেই অ্যালার্জি— এমন সমস্যা অনেকেরই হয়। নাক দিয়ে অনবরত জল পড়তে থাকা, হাঁচি এক বার শুরু হলে নাগাড়ে চলতে থাকার সমস্যাও হতে থাকে। সে সঙ্গে ভোগায় পেটের সমস্যা। কী থেকে এমন হয়, তা বোঝা যায় না বেশির ভাগ সময়েই। চিকিৎসকেরা বলছেন, রক্তে একটি বিশেষ উপাদানের মাত্রা বেশি থাকলে এমন নানাবিধ সমস্যা হতে থাকে। যাঁর শ্বাসকষ্ট, হাঁপানির মতো টান হয়, তাঁর আবার তীব্র ডায়েরিয়াও হয়। একই সঙ্গে কনট্যাক্ট ডার্মাটাইটিসের মতো চর্মরোগও হতে দেখা যায়। এ সবের জন্যই দায়ী রক্তের ‘ইউসিনোফিল’।

Advertisement

ইউসিনোফিলের ওঠাপড়াই ব্যতিব্যস্ত করে শরীরকে

রক্তে যে বিভিন্ন ধরনের শ্বেতকণিকা থাকে, তার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হল ইউসিনোফিল। এটি শরীরের সুরক্ষা কবচের একটি অংশও বটে। প্রত্যেকের শরীরেই রোগ প্রতিরোধী নানা কোষ থাকে, যার একটি হল ইউসিনোফিল। রক্তে এর মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কম বা বেশি হওয়া—উভয়ই শরীরে নানা সমস্যার সৃষ্টি করে।

Advertisement

অস্থিমজ্জা থেকে তৈরি হয় ইউসিনোফিল। সুস্থ মানুষের রক্তে মোট শ্বেতকণিকার মাত্র ১ থেকে ৪ শতাংশ ইউসিনোফিল থাকে। সাধারণত প্রতি মাইক্রোলিটার রক্তে এই কোষের পরিমাণ ৫০০-র মধ্যে থাকলে ভাল। এর চেয়ে বেশি হলে যে রোগটি হয়, তার নাম ‘ইউসিনোফিলিয়া’। যদি প্রতি মাইক্রোলিটার রক্তে এই কোষের সংখ্যা ৫ হাজার ছাড়িয়ে যায়, তখন সিভিয়ার ইউসিনোফিলিয়া হয়। এতে রোগীর শরীরে মারাত্মক প্রদাহ হতে থাকে, ফুসফুস সংক্রমিত হয়।

দেশের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেল্‌থ থেকে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, ইউসিনোফিলের মাত্রা হঠাৎ বেড়ে গেলে শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা দেবে। সম্পূর্ণ সুস্থ ব্যক্তিরও হাঁপানির মতো টান উঠবে, সেই সঙ্গে নাক দিয়ে জল পড়া বা শুকনো কাশির লক্ষণ দেখা দেবে। অ্যালার্জিক রাইনাইটিসের মতো রোগের কারণও হতে পারে বর্ধিত ইউসিনোফিল। আবার নানা রকম চর্মরোগের নেপথ্যেও থাকে এই কোষের ভূমিকা। ইউসিনোফিলিয়া হলে সামান্য কারণেই অ্যালার্জির সমস্যা বেড়ে যেতে পারে। বিভিন্ন ওষুধ থেকেও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া শুরু হয় শরীরে।

কখন তা ভয়াবহ?

ইউসিনোফিলের মূল কাজ হল শরীরে ঢোকা পরজীবী বা ভাইরাস-ব্যাক্টেরিয়াকে নাশ করা। মূলত সংক্রমণ থেকে শরীরকে বাঁচানোই এর কাজ। কিন্তু যদি ইউসিনোফিলের পরিমাণ বেড়ে যায়, তখন উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি হয়। পরজীবী নাশের বদলে তা সংক্রমণের মাত্রাকে আরও বাড়িয়ে তোলে। শ্বাসনালিতে জমে গিয়ে ঘন ঘন শুকনো কাশি, শ্বাসকষ্ট, হাঁপানির মতো অসুখকে ডেকে আনে। শরীরের যে অঙ্গে বর্ধিত ইউসিনোফিল কোষ জমা হতে থাকে, সেই অঙ্গেই প্রদাহ তৈরি করে। আর সে প্রদাহের মাত্রা এতটাই বেশি হয়, যে তা থেকে আরও নানা রোগের লক্ষণ দেখা দিতে থাকে।

অন্ত্রে ইউসিনোফিলের মাত্রা বেড়ে গেলে ডায়েরিয়া সারতে চায় না, পেটে যন্ত্রণা হয়, ওজন কমতে থাকে, বমি ভাব হয় সর্ব ক্ষণ।

ত্বকের সমস্যা, , র‍্যাশ, চুলকানি, কনট্যাক্ট ডার্মাটাইটিসের লক্ষণ দেখা দেয়।

বিকেলের দিকে হালকা জ্বর আসা, রাতের বেলা অতিরিক্ত ঘাম হওয়া এবং পেশিতে ও অস্থিসন্ধিতে ব্যথা হতে থাকে।

হাইপার-ইউসিনোফিলিক সিন্ড্রোম আরও মারাত্মক অবস্থা যেখানে ইউসিনোফিলের মাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে গিয়ে হৃৎপিণ্ড, লিভার বা স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি করে।

নিয়ন্ত্রণের উপায়?

১) ঘরোয়া পথ্যে এই সমস্যার সমাধান হতে পারে। আদা ও তুলসীর রস নিয়মিত খেলে ইউসিনোফিলের মাত্রা কমবে। রোজ সকালে এক চামচ আদার রসের সঙ্গে তুলসীপাতার রস ও মধু মিশিয়ে খেলে শ্বাসনালির প্রদাহ কমে এবং অ্যালার্জি কমতে থাকে।

২) নিমপাতা প্রাকৃতিক ভাবে অ্যান্টি-প্যারাসাইটিক। কাঁচা হলুদ ও নিমপাতা একসঙ্গে বেটে বা নিম-হলুদ ভেজানো জল ফুটিয়ে খেলে পেটের ক্ষতিকর পরজীবী নষ্ট হবে। এতে বমি ভাব, ডায়েরিয়া কমে যাবে।

৩) এক গ্লাস ঈষদুষ্ণ জলে এক চামচ অ্যাপল সাইডার ভিনেগার মিশিয়ে দিনে এক বার পান করলে শরীরের পিএইচ মাত্রা ঠিক থাকে। এটি প্রদাহও কমাবে।

৪) খাবারের তালিকায় সামুদ্রিক মাছ, তিল, তিসি, আখরোটের মতো খাবার রাখতে হবে। ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড আছে এমন খাবার খেলে ইউসিনোফিলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement