HPV Vaccination for Cancer Risk

যৌনরোগের সংক্রমণ ও ক্যানসার রোধে টিকা দেওয়া হবে কিশোরীদের, বয়স পেরোলে কি বাদ? কারা পাবেন

এই এইচপিভি কী, কারা নেবেন এই টিকা, কেনই বা দেওয়া হবে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জেনে নেওয়া উচিত। এই টিকা সম্পর্কে জানাচ্ছেন ক্যানসার চিকিৎসক সন্দীপ গঙ্গোপাধ্যায়।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৮:৫৩
Share:

এইপিভি টিকাদানের প্রকল্প। ছবি: সংগৃহীত।

দেশে হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি) টিকা প্রকল্প চালু করল কেন্দ্রীয় সরকার। ১৪ বছরের কিশোরীদের এই টিকা দেওয়া হবে। রাজস্থানের আজমের থেকে এমনই ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। জরায়ুমুখের ক্যানসার (সারভাইক্যাল ক্যানসার) রুখতে এই পদক্ষেপ করা হল। নির্ধারিত সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলিতে এই টিকা বিনামূল্যে সরবরাহ করা হবে। কিন্তু এই এইচপিভি কী, কারা নেবেন এই টিকা, কেনই বা দেওয়া হবে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জেনে নেওয়া উচিত। এই টিকা সম্পর্কে জানাচ্ছেন ক্যানসার চিকিৎসক সন্দীপ গঙ্গোপাধ্যায়।

Advertisement

জরায়ুমুখের ক্যানসার। ছবি: সংগৃহীত

হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি) কী?

জরায়ুমুখের ক্যানসারের মূল কারণ হল, এক প্রকার সংক্রমণ। আর সেই সংক্রমণের নামই হল হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস ইনফেকশন। এটি সাধারণ যৌনবাহিত সংক্রমণ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)-র মতে, যৌন সম্পর্কে সক্রিয় প্রায় সকলেই তাঁদের জীবনে কোনও না কোনও সময়ে সংক্রমিত হয়ে থাকেন। কিন্তু সেই সব সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা কম। এই সংক্রমণ সাধারণত চিকিৎসা ছাড়াই নিজে থেকে সেরে যায়। তবে, কিছু ক্ষেত্রে, এই সংক্রমণ ক্যানসারের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

Advertisement

চিকিৎসক জানাচ্ছেন, জরায়ুমুখের ক্যানসার প্রতিরোধ করার জন্য এইচপিভি টিকা চালু করা হয়েছে। এত দিন পর্যন্ত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) ১১ বছরের ঊর্ধ্বে সব মেয়েকেই এই টিকার দু’টি ডোজ় দেওয়ার সুপারিশ করত। যাতে ভবিষ্যতে হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস সংক্রমণ এবং জরায়ুমুখের ক্যানসারের ঝুঁকি কমে যায়। সন্দীপের কথায়, ‘‘ভারতের জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এই টিকাটি। খুবই জরুরি পদক্ষেপ এটি।’’ এই টিকা শরীরকে সেই ভাইরাস চিনে ফেলার প্রতিরোধ শেখায় এবং অনেক ক্ষেত্রে গুরুতর অসুখ হওয়া থেকে রক্ষা করে। এই প্রকল্পে গার্ডাসিলের একটি টিকা দেওয়া হবে। এইচপিভি টাইপ ১৬ এবং ১৮ রুখতে সক্রিয় ভূমিকা নেয় এই টিকা। সেই সঙ্গে টাইপ ৬ এবং ১১-এর বিরুদ্ধেও সুরক্ষা প্রদান করবে।

বয়স পেরিয়ে গেলে কি টিকা নেওয়া যাবে?

যাঁদের বয়স ১৪ বছরের বেশি, যাঁরা সময় মতো এই টিকা পাননি, অথবা প্রথম বার যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হয়ে গিয়েছেন, তাঁরা এই টিকা নিতে পারবেন কি না, বা আদৌ কার্যকর হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। চিকিৎসক জানাচ্ছেন, ‘‘তাঁরাও এই টিকা নিতে পারেন। তাঁদের ক্ষেত্রে দুইয়ের বদলে তিনটি ডোজ় দেওয়া উচিত। জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত না হলেও স্ত্রীরোগ চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে এই টিকা নিয়ে নেওয়া উচিত।’’

চিকিৎসক জানাচ্ছেন, কেবল মেয়েরা নয়, কম বয়সি ছেলেদেরও এই টিকা দেওয়া উচিত। কারণ এইচপিভি সংক্রমণ ছেলেদেরও হতে পারে। হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস কেবল জরায়ুমুখের ক্যানসারের কারণ নয়। অনেক ক্ষেত্রে গলা, ঘাড়, যৌনাঙ্গ ইত্যাদির ক্যানসারের ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে এটি। ভবিষ্যতে পুরুষদের ক্ষেত্রে ভারতের জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির অন্তর্ভুক্তিকরণের আশা দেখছেন চিকিৎসক।

কারা এই টিকা নিতে পারবেন না?

অন্তঃসত্ত্বাদের এই টিকা দেওয়া হয় না। যদি কারও প্রথম টিকা নেওয়ার পর গুরুতর অ্যালার্জি হয়ে থাকে, তখন টিকা না নেওয়াই ভাল। যদিও চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েই সমস্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement