Craving control

যখন তখন মুখরোচক খাবার খেতে কেন ইচ্ছে করে? বিকেল হলে কেন টানে চপ-তেলেভাজা-ফুচকারা?

ইচ্ছে এতটাই প্রবল যে, মেপে খাওয়ার কথা মাথায় থাকে না। ফলে ডায়েটের বারোটা বাজে। বাড়ে ওজনও। কিন্তু মুখরোচক খাবার খাওয়ার এমন তীব্র ইচ্ছের কারণ কী?

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬ ১১:৩৭
Share:

খাওয়া যখন পেট ভরানোর নয়! গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

পেট একদম ভরা, খিদে পায়নি মোটেই। তবু মনে হল, একুট নোনতা বিস্কুট খেলে ভাল হত। কিংবা এক টুকরো চকোলেট বা একখানি জিলিপি, ফুচকা, তেলেভাজা, কিছু না হলে ঝুরিভাজা, চিপস। বিকেল হলেই রোজ এমন ইচ্ছে চাগাড় দিয়ে ওঠে। অথবা সন্ধ্যায়। কাজ সেরে বাড়ি ফেরার পরে মনে হয়, মুখরোচক কিছু না খেলে মেজাজটা ভাল হচ্ছে না মোটেই। সেই ইচ্ছে এতটাই প্রবল যে, মেপে খাওয়ার কথা মাথায় থাকে না। ফলে ডায়েটের বারোটা বাজে। বাড়ে ওজনও। কিন্তু মুখরোচক খাবার খাওয়ার এমন তীব্র ইচ্ছের কারণ কী?

Advertisement

পেট ভরা থাকলেও কেন খেতে ইচ্ছে করে?

খিদে মূলত দু’রকমের। এক, হোমিয়োস্ট্যাটিক খিদে। দুই হেডোনিক খিদে।

Advertisement

হোমিয়োস্ট্যাটিক খিদেই হল আসল খিদে। শরীরের যখন শক্তির প্রয়োজন হয় এবং পেট খালি থাকে, তখন মস্তিষ্ক খাবার খাওয়ার সঙ্কেত দেয়। তাতেই চাগাড় দিয়ে ওঠে খিদের বোধ।

অন্য দিকে, হেডোনিক খিদে পেতে পারে পেট পুরোদস্তুর ভরা থাকলেও। কারণ, তখন শক্তির জোগান পেতে খিদে পায় না। তখন খাবার খাওয়া হয় মনকে আনন্দ দিতে।

মুখরোচক খাবার মস্তিষ্কের ‘রিওয়ার্ড সেন্টার’ অর্থাৎ যেখানে পুরস্কার পাওয়ার মতো আনন্দ হয়, সেই অংশকে উদ্দীপিত করে। তাতে ডোপামিন হরমোনের ক্ষরণ বাড়ে। যা সেই মুহূর্তে এক রকমের ভাল লাগার অনুভূতি ছড়িয়ে পড়ে শরীরে ও মনে। সেই অনুভূতির টান এতই তীব্র যে, পেট ভর্তি আছে কি নেই, সেই অনুভূতিকে পাত্তাই দেয় না মস্তিষ্ক।

বিকেল বা সন্ধের দিকে ওই ইচ্ছে বাড়ে কেন?

বিকেলের পরে ওই মুখরোচক খাওয়ার ইচ্ছের নেপথ্যে মূলত ৪টি কারণ রয়েছে।

১। দুপুরের খাবার হজম হয়ে যাওয়ার পরে রক্তে গ্লুকোজ়ের মাত্রা স্বাভাবিক ভাবেই কিছুটা নেমে যায়। শরীর তখন এমন খাবার খোঁজে। যা দ্রুত এনার্জি দেবে।

২। সকাল থেকে টানা কাজ করার পর মস্তিষ্ক বিকেলে কিছুটা ক্লান্ত হয়ে পড়ে। সারা দিনের পরিশ্রমের পর শরীরও চায় একটু আরাম করতে। মুখরোচক খাবার খেলে মস্তিষ্কে সেরোটোনিন নামক ফিল-গুড হরমোন বাড়ে, যা সাময়িক ভাবে ক্লান্তি ও মানসিক চাপ দূর করে।

৩। কিছুটা অভ্যাসের জন্যও এমন হতে পারে। অনেকেরই ছোট থেকে অভ্যাস থাকে বিকেলে জলখাবার খাওয়ার। সেই অভ্যাসের কারণেও অবচেতন মন মুখরোচক কিছু খুঁজতে পারে।

৪। আরেকটি বৈজ্ঞানিক কারণ হলো সেন্সরি-স্পেসিফিক স্যাশিয়েটি। ধরুন, দুপুরে ভাত, ডাল, মাছ খেয়েছেন। তাতে ওই নির্দিষ্ট স্বাদের জন্য মন তৃপ্ত হয়েছে। কিন্তু মস্তিষ্ক জানে, বিকেল হলে বাকি যে সব স্বাদ, যেমন মুচমুচে খাবার বা টক-ঝাল-মিষ্টি খাবার খাওয়ার সময় হবে। ফলে তখন নতুন স্বাদের জন্য পেট জায়গা বানিয়ে নেয়।

কী ভাবে লাগাম টানবেন ইচ্ছেয়?

বিকেলের ওই ধরনের খাবার খাওয়ার ইচ্ছে কমাতে চাইলে কয়েকটি কৌশল নিতে পারেন—

১। বিকেল হওয়ার আগেই কিছু প্রোটিন, ভিটামিন সমৃদ্ধ ছোট ছোট খাবার, যেমন নানা রকমের বাদাম, খেজুর, ফল, ছোলা সেদ্ধ বা টকদই খেতে পারেন। এগুলো যেমন দীর্ঘ ক্ষণ পেট ভর্তি রাখে, তেমনই শরীরে সেরোটেনিন তৈরি করতে সাহায্য করে। যা মন ভাল রাখে। ফলে, উল্টো পাল্টা খাওয়ার ইচ্ছে কমে।

২। বিকেলের দিকে এক গ্লাস জলও খেয়ে নিতে পারেন। অনেক সময় জলের অভাবও শরীরে খিদের বোধ চাগিয়ে তোলে।

৩। গ্রিন টি–তে রয়েছে এলথিয়ানিন। যা মস্তিষ্কে সেরোটেনিন এবং ডোপামিনের মাত্রা বাড়িয়ে মন ভাল রাখে। এতেও অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার ইচ্ছে কমে।

৪। লেবুর রস, জিরেগুঁড়ো দেওয়া এক গ্লাস ছাতুর শরবত খেয়ে নিন ৪টে নাগাদ। এতে শরীর যেমন হাইড্রেটেড থাকবে তেমনই ছাতুর ফাইবার আর প্রোটিন খিদের বোধ বাড়তে দেবে না।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement