জাপানি চিজ়কেক যত খুশি খেলেও ওজন বাড়বে না। ছবি: ফ্রিপিক।
দোকানে কাচের শো-কেসে পেস্ট্রি ও ফ্রুট কেকের মাঝে যখন মসৃণ ও ক্রিমরঙা কেকটির উপর নজর পড়ে, তখন ডায়েট বা ক্যালোরির হিসেব নিমেষে হারিয়ে যায়। চিজ়কেককে শুধু মিষ্টির তালিকায় ফেললে ভুল হবে, এটি মিষ্টিপ্রেমীদের ভালবাসাও। কামড় দিলেই মাখনের পুরু পরত ও ক্রিমের মখমলে স্বাদে এক স্বর্গীয় অনুভূতিই হয়। তবে ভাললাগা যতই থাকুক না কেন, ময়দা-চিনি ও মাখনের ঘন প্রলেপের কথা মনে পড়লে, এর থেকে শত হস্ত দূরে থাকার কথাই ভাবেন স্বাস্থ্য সচেতনেরা। এক একটি চিজ়কেকের টুকরো মানেই তাতে ঠাসা শর্করা, ট্রান্স ফ্যাট। খেলেই কোলেস্টেরল বাড়বে অবধারিত ভাবেই।
চিজ়কেকের আসল বৈশিষ্ট্য এর ত্রিস্তরীয় গঠনে— নীচে বিস্কুটের মুচমুচে ক্রাস্ট, মাঝে রেশমের মতো নরম চিজ়ের স্তর এবং উপরে স্ট্রবেরি, ব্লুবেরি বা চকোলেটের টপিং। এই প্রতিটি স্তরের আলাদা আলাদা স্বাদ ও অনুভূতি। আর এই অনন্য স্বাদ থেকে বাধ্য হয়েই বঞ্চিত অনেকে। তবে জাপানি চিজ়কেক কিন্তু সম্পূর্ণ আলাদা। এই চিজ়কেকে ঘন ক্রিমের মতো মখমলে স্বাদটা থাকলেও চিনি-ময়দা বা মাখনের পরত নেই। এটি তৈরি হয় মাত্র তিনটি উপকরণে। স্বাদে ময়দার চিজ়কেককে টক্কর দিতে পারে, আর স্বাস্থ্যগুণে অনেকটাই এগিয়ে। এমন চিজ়কেক খেলে ওজন বাড়বে না, অতিরিক্ত ক্যালোরি জুড়বে না, সুগারও বাড়বে না। তাই নেটমাধ্যমে জাপানি চিজ়কেককে নিয়ে এত আলোচনা। এর জনপ্রিয়তাও দিন দিন বেড়ে চলেছে।
কেন এই খ্যাতি
সাধারণ চিজ়কেকের মতো আঠালো ক্রিমের পরত নেই, এটি স্পঞ্জি। চিনি নেই, অতিরিক্ত মিষ্টিও নেই। আসলে এই কেক তৈরি হয় টক দই নিয়ে। যা হালকা ও স্বাস্থ্যকর। ঘরে পাতা জল ঝরানো টক দই বা গ্রিক ইয়োগার্ট দিয়ে বানানো যায় এই চিজ়কেক। এক পাত্র দই নিয়ে তাতে কয়েকটি বিস্কুট ভেঙে দিয়ে দিতে হবে। ডাইজেস্টিভ বিস্কুটও ব্যবহার করা যেতে পারে। বিস্কুটের স্তরের উপরে দই ঢেলে তাতে আরও কয়েকটি বিস্কুট ভেঙে ভাল করে নেড়ে নিতে হবে। উপর থেকে হালকা কফি পাউডার ছড়িয়ে দিতে হবে। বিস্কুট আনবে মিষ্টি স্বাদ আর কফি রং। পাত্রটি এর পর ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা করতে হবে। জমাট বেঁধে গেলেই তৈরি হয়ে যাবে জাপানি চিজ়কেক। টপিংয়ের জন্য ড্রাই ফ্রুটস দিয়ে দিন উপরে।
কতটা উপকারী
ময়দার বদলে টক দই ব্যবহারের জন্য এমন চিজ়কেকে ট্রান্স ফ্যাট নেই। বদলে আছে প্রোবায়োটিক যা পেটের জন্য ভাল।
দই ক্যালশিয়ামের জোগান দেবে যা হাড়ের গঠন মজবুত করবে। দই দিয়ে তৈরি চিজ়কেক খেলে সুগার বাড়বে না, বরং দাঁত ও হাড়ের স্বাস্থ্য ভাল হবে।
রক্তচাপ যাঁদের বেশি বা উচ্চ কোলেস্টেরলের জন্য কেক-পেস্ট্রি খেতে পারেন না, তাঁদের জন্যও উপকারী জাপানি চিজ়কেক।
দইয়ের প্রোটিন অনেক ক্ষণ পেট ভর্তি রাখে। এমন চিজ়কেক খেলে পেটও ভরবে আর মনও।
দইয়ে থাকা জিঙ্ক ও ভিটামিন ডি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করবে।