ছবি: সংগৃহীত।
দই পেট ঠান্ডা করে জানতেন। কিন্তু দই যে মনও শান্ত করতে পারে জানতেন কি! অথচ দইয়ের সেই ক্ষমতাও আছে। দই পেট ভাল রাখার পাশাপাশি মেজাজ ফুরফুরে রাখতেও কার্যকরী। বিষয়টি খানিক অবাক করার মতো হলেও এর পেছনে বৈজ্ঞানিক যুক্তি রয়েছে।
১. অন্ত্র-মস্তিষ্ক সংযোগ
অন্ত্রকে বলা হয় ‘দ্বিতীয় মস্তিষ্ক’। দইয়ে থাকা প্রোবায়োটিকস অন্ত্রের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়। যখন অন্ত্র শান্ত থাকে, তখন মস্তিষ্কও শান্ত থাকার সংকেত পায়। একে বিজ্ঞানের ভাষায় ‘গাট ব্রেন অ্যাক্সিস’ বলা হয়।
২. সেরোটোনিন উৎপাদন
শরীরের প্রায় ৯৫ শতাংশ সেরোটোনিন বা সুখী হরমোন অন্ত্রে উৎপাদিত হয়। দইয়ের প্রোবায়োটিকস এই হরমোন তৈরিতে সাহায্য করে, যা সরাসরি মানসিক চাপ কমাতে এবং আনন্দ বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।
৩. কর্টিসল হরমোন নিয়ন্ত্রণ
অতিরিক্ত মানসিক চাপের জন্য দায়ী হরমোন হল কর্টিসল। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, নিয়মিত প্রোবায়োটিকসমৃদ্ধ খাবার খেলে রক্তে কর্টিসলের মাত্রা কমে আসে, যা উদ্বেগ কমাতে সাহায্য করে।
৪. প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান
দইয়ে বেশ কিছু উপাদান থাকে যা স্নায়ুতন্ত্রের জন্য উপকারী—
ক্যালসিয়াম: এটি স্নায়ুর সংকেত আদান-প্রদানে সাহায্য করে। ক্যালসিয়ামের অভাব হলে খিটখিটে মেজাজ বা উদ্বেগ তৈরি হতে পারে।
প্রোটিন: দইয়ের প্রোটিন রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখে, যা মেজাজের হঠাৎ পরিবর্তন রোধ করে।
ভিটামিন বি১২: এটি মস্তিষ্কের কার্যকারিতা সচল রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।