Vastu Tips for Home

ঘরের কোণেই শনি-রাহু-কেতুর বাসা! কী ভাবে দূর করবেন অমঙ্গলের ছায়া? মেনে চলুন বাস্তুবিদের পরামর্শ

যদি বাড়ির নির্দিষ্ট কিছু কোণে শনি, রাহু, কেতু এবং মঙ্গলের মতো দুষ্ট গ্রহের অবস্থান থাকে তবে, তার ফলে বাস্তুদোষ তৈরি হয়। পরিবারের সদস্যদের জীবনে এই গ্রহগুলির অশুভ প্রভাব বৃদ্ধি পেতে পারে।

Advertisement

বাক্‌সিদ্ধা গার্গী

শেষ আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬ ১০:৩০
Share:

ছবি: (এআই সহায়তায় প্রণীত)।

বাস্তুশাস্ত্র অনুসারে, বাড়ির বিভিন্ন দিক বা কোণ নির্দিষ্ট কিছু গ্রহ এবং শক্তির দ্বারা প্রভাবিত হয়। শনি, মঙ্গল, রাহু এবং কেতুকে জ্যোতিষশাস্ত্রে দুষ্ট গ্রহ হিসাবে গণ্য করা হয়। যদি বাড়ির নির্দিষ্ট কিছু কোণে বাস্তুদোষ থাকে, তবে পরিবারের সদস্যদের জীবনে এই গ্রহগুলির অশুভ প্রভাব বৃদ্ধি পেতে পারে। বাড়ির কোন কোণে এই গ্রহগুলির বাস এবং কী ভাবে এদের অশুভ প্রভাব দূর করা যায় তা নিয়ে নীচে বিস্তারে আলোচনা করা হল—

Advertisement

বাস্তুমতে, বাড়ির পশ্চিম দিক শনিদেবের প্রভাবাধীন। এই দিকে কোনও ত্রুটি থাকলে কাজে বাধা, আর্থিক ক্ষতি বা দীর্ঘস্থায়ী রোগ দেখা দিতে পারে। পশ্চিম দিকটিকে সব সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখুন। বাড়ির এই অংশে ভারী আসবাবপত্র রাখতে পারেন। প্রতি শনিবার সন্ধ্যাবেলায় বাড়ির পশ্চিম কোণে একটি সর্ষের তেলের প্রদীপ জ্বালান। সম্ভব হলে তার মধ্যে কালো তিল দিতে পারেন। বাড়ির এই দিকে কোনও ভাবেই নোংরা বা আবর্জনা জমতে দেবেন না।

বাড়ির দক্ষিণ দিক মঙ্গলের স্থান হিসাবে পরিচিত। এই দিকে বাস্তুদোষ থাকলে বাড়ির সদস্যদের মধ্যে রাগ, কলহ এবং দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ে। দক্ষিণ দিকে লাল রঙের কোনও শোপিস, ছবি অথবা লাল রঙের যে কোনও সামগ্রীই রাখতে পারেন। সপ্তাহের প্রতি মঙ্গলবার সকালে বাড়ির এই নির্দিষ্ট কোণে বসে হনুমান চালিশা পাঠ করুন। দক্ষিণ দিকে কখনওই জলের উৎস যেমন অ্যাকোয়ারিয়াম বা জলের ট্যাঙ্ক রাখবেন না।

Advertisement

বাস্তুশাস্ত্রে বাড়ির দক্ষিণ-পশ্চিম কোণ বা নৈঋত কোণকে রাহুর স্থান ধরা হয়। এই কোণটি দুর্বল বা নোংরা থাকলে মানসিক চাপ, হঠাৎ বড় ক্ষতি এবং পারিবারিক অশান্তি দেখা দেয়। এই কোণটিকে বাড়ির সবচেয়ে ভারী এবং উঁচু স্থান হিসাবে গড়ে তুলুন। বড় শোয়ার ঘর তৈরি করা বা আলমারি রাখার জন্য এই দিকটি আদর্শ। নৈঋত কোণে কখনওই শৌচালয় বানাবেন না। যদি সে দিকে শৌচালয় থাকে তবে, সেখানে একটি পাত্রে রক সল্ট রেখে দিন এবং নিয়মিত তা পরিবর্তন করুন। রাহুর নেতিবাচক শক্তি দূর করতে এই কোণে চন্দনের সুগন্ধি ব্যবহার করতে পারেন।

বাস্তু অনুসারে বাড়ির উত্তর-পূর্ব কোণ এবং বাড়ির কেন্দ্রস্থল বা ব্রহ্মস্থানে কেতুর প্রভাব থাকে। কেতু আধ্যাত্মিকতার প্রতীক হলেও, এর অশুভ প্রভাবে বিভ্রান্তি এবং একাকিত্ব তৈরি হতে পারে। উত্তর-পূর্ব কোণ এবং বাড়ির একদম মাঝখানের জায়গাটি সব সময় ফাঁকা এবং অত্যন্ত পরিষ্কার রাখুন। এই দিকগুলিতে নিয়মিত গঙ্গাজল ছেটান এবং কর্পূর জ্বালিয়ে রাখুন। বাড়ির উত্তর-পূর্ব দিকে একটি তুলসীগাছ লাগাতে পারেন, যা কেতু এবং অন্য নেতিবাচক শক্তিকে দূরে রাখে।

প্রতি বৃহস্পতিবার অথবা শনিবার ঘর মোছার জলে সামান্য সামুদ্রিক নুন মিশিয়ে ঘর মুছলে রাহু এবং শনির নেতিবাচক প্রভাব অনেকটাই কেটে যায়। রোজ সন্ধেবেলা সারা বাড়িতে কর্পূরের ধুনো দিলে বাড়ির সমস্ত কোণের অশুভ শক্তি দূর হয়। বাড়ির কোনও কোণ যেন সব সময় অন্ধকার না থাকে। বিশেষত সন্ধ্যার পর বাড়ির প্রতিটি কোণে যেন পর্যাপ্ত আলো থাকে, সে দিকে খেয়াল রাখুন।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement