২২ ফুটের কলম মণিপুরে

২৩ বছর বয়সে ২২ ফুট লম্বা বাঁশের কলম তৈরি করে গিনেস বুকে নাম তুলতে সচেষ্ট মণিপুরের জিনখানপাউ ভুয়ানলাম ওরফে গিয়াপাউ। ছোট থেকেই পরিবার চালানোর ভার তাঁর কাঁধে এসে পড়ে। বাঁশের ব্যবসায় হাত পাকিয়েছিলেন তিনি।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৪ জুলাই ২০১৬ ০৩:১৩
Share:

২৩ বছর বয়সে ২২ ফুট লম্বা বাঁশের কলম তৈরি করে গিনেস বুকে নাম তুলতে সচেষ্ট মণিপুরের জিনখানপাউ ভুয়ানলাম ওরফে গিয়াপাউ। ছোট থেকেই পরিবার চালানোর ভার তাঁর কাঁধে এসে পড়ে। বাঁশের ব্যবসায় হাত পাকিয়েছিলেন তিনি। তখন থেকে ইচ্ছে, অন্য রকম কিছু করে তাক লাগিয়ে দেবেন। সেই চিন্তা থেকেই দীর্ঘতম কলম তৈরির কাজে হাত দেন।

Advertisement

কলমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসে চূড়চাঁদপুরের বাসিন্দা গিয়াপাউ জানান, ভাল করে জ্ঞান হওয়ার আগেই তাঁর মা, বোন, ঠাকুমাদের ছেড়ে বাবা অন্য কোথাও ঘর বাঁধেন। দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়ে সংসার চালাতেন মা। ২০০৩ সালে তিনিও মারা যান। মারা যান ঠাকুমাও। মামা তাঁর লেখাপড়া চালাতেন। সাউথ পয়েন্ট স্কুলের প্রধানশিক্ষক নিঃখরচায় পড়ারও ব্যবস্থা করে দেন। দশম শ্রেণি উত্তীর্ণ হওয়ার পর রোজগারের আশায় কাজে নামতে হয় তাঁকে। বন্ধ হয় লেখাপড়া। আশপাশে প্রচুর বাঁশ। তাই বাঁশ থেকে কলম ও ছাইদান তৈরি করা শুরু করেন কিশোর গিয়াপাউ। তার তৈরি বাঁশের সামগ্রী দ্রুত জনপ্রিয় হয়। ২০০৮ সালে মামাবাড়ির পাশেই অস্থায়ী ঝুপড়িতে ‘ঝৌগাম ব্যাম্বু ওয়ার্কস’ নামে বাঁশজাত সামগ্রীর কারখানা খুলে ফেলেন গিয়াপাউ। কাজে লাগান বোনকেও।

বাঁশের ছোট কলম তৈরি করতে করতেই তাঁর মাথায় আসে বিশ্বের সবচেয়ে বড় কলম তৈরি করলে কেমন হয়! খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, বিশ্বের সবচেয়ে বড় কলমের দৈর্ঘ্য ১৮ ফুট। তা লোহার তৈরি।

Advertisement

গিয়াপাউ আড়াইশো টাকা দিয়ে একটি ড্রাগন বাঁশ কিনে ফেলেন। ১৮০ দিন ধরে সেই বাঁশ খোদাই করে ঢাকনা-সহ ২৩.০৩ ফুট দীর্ঘ (ঢাকনা ছাড়া ২২.১ ফুট) ও প্রায় পাঁচ ইঞ্চি ব্যাসের কলম তৈরি করে ফেলেন তিনি। কলমটির ওজন দাঁড়িয়েছে ১৮ কিলোগ্রাম। রিফিলটি দশ ফুট লম্বা। কলম তৈরির পরে তিনি গিনেস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সেখান থেকে বলা হয়, প্রথমে সরকারি কর্তাদের উপস্থিতিতে কলমটি জনসমক্ষে এনে মাপতে হবে। সেই ছবি ও ভিডিও পাঠাতে হবে গিনেস কর্তৃপক্ষের কাছে।

সেই মতো চূড়চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলাশাসক লাংখানপাউ গুইতে, ডিএফও ও অন্যান্য সরকারি কর্তার উপস্থিতিতে তাঁর কলমটি দু’জন ইঞ্জিনিয়ার মেপে দেখেন। পরে দশজন মিলে তাঁর কলমটি তুলে ধরে, তা দিয়ে লেখেন।

Advertisement

মামা, বোন, প্রয়াত মা-ঠাকুমা ও অন্য সব শুভানুধ্যায়ীকে ধন্যবাদ জানিয়ে গিয়াপাউ বলেন, ‘‘প্রথম ধাপের কাজ শেষ। আশা করি গিনেস বুকের প্রতিধিনিরা শীঘ্রই মণিপুরে এসে আমার কলমকে বিশ্বের বৃহত্তম হিসেবে স্বীকৃতি দেবেন।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement