শক্তি সঙ্ঘের মন্ডপ তৈরির কাজ চলছে পুরোদমে। হাইলাকান্দিতে অমিত দাসের তোলা ছবি।
প্রথম পুজোয় দেবী মূর্তি তৈরি করতে খরচ পড়েছিল ১২৫ টাকা। ৫০ বছর পর সেই একই পুজোর মূর্তি তৈরির বাজেট ১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা!
হাইলাকান্দির মডেল টাউনশিপের শক্তি সঙ্ঘের এ বার যে ৫০ বছর পূর্তি, সুবর্ণজয়ন্তী। এক বছর আগে থেকেই শুরু হয়েছে প্রস্তুতি। গত বছরের বিজয়া দশমীর পরদিনই সভা ডেকে গঠন করা হয়েছিল সুবর্ণজয়ন্তী পূজা কমিটি। এবং কাজের শুরু সে দিন থেকেই।
পুজোর এবারের ভাবনা ‘ঐক্যতান’। পুরো পাড়া ঐক্যবদ্ধ হয়ে সুবর্ণজয়ন্তী বর্ষের পুজোর আয়োজন করছে। ৮ থেকে ৮০, মায়ের আরাধনায় সবাই হাতে হাত, কাঁধে কাধ মিলিয়ে কাজ করছেন। পিছিয়ে নেই মেয়েরাও। মণ্ডপ প্রস্তুতি থেকে স্মরণিকা তৈরি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থেকে পুজোর খুঁটিনাটি, আয়োজনে ব্যস্ত সবাই। সর্বজনিন এই পুজো নিয়ে পাড়ায় ব্যস্ততার শেষ নেই।
৫০ বছর আগে, ১৯৬৭ সালে যাঁদের উদ্যোগে এই পুজো শুরু হয়েছিল তাঁদের মধ্যে মাত্র একজনই আজ জীবিত। সেদিনের পুজো পরিচালন সমিতির সভাপতি ছিলেন সুরেশ চন্দ্র গোস্বামী, সহ-সভাপতি ভবতারণ ভট্টাচার্য, সাধারণ সম্পাদক গৌরাঙ্গ গোস্বামী, কোষাধ্যক্ষ পল্লব কুমার রায় প্রমুখ। তাঁদের মধ্যে এখন একমাত্র গৌরাঙ্গবাবু ছাড়া অন্যরা প্রয়াত। প্রবীণদের স্মৃতিচারণাতেই উঠে আসছে পাঁচ দশক আগের কথা। ১৯৬৭ সালে এই পাড়ার বসতি ছিল খুবই কম। হাতে গোনা কয়েকটি পরিবার ছিলেন তখন। সঙ্ঘবদ্ধতাও ছিল অনেক বেশি। বর্তমানে এই এলাকার আয়তন দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ পাড়ার নাম হয়েছে মডেল টাউন। ক্লাবের প্রবীণদের কথায়, পাড়া বেড়েছে, হয়তো একটু ছাড়া ছাড়া ভাবও বেড়েছে। সে কারণেই এ বারে তাঁদের থিম ওই ‘ঐক্যতান’।
প্রথম পুজোয় মূর্তি গড়েছিলেন স্থানীয় মানুষ প্রয়াত হরিপদ দত্ত। প্রথম পুজোর পুরোহিত ছিলেন প্রয়াত রাকেশরঞ্জন ভট্টাচার্য। এলাকার প্রবীণ ব্যক্তিরা জানান, ৫০ বছর আগে, সেদিনের সেই দুর্গাপুজোর জন্য চাঁদা বাবদ সংগ্রহ হয়েছিল ১৯৩০ টাকা। পুজোয় ব্যয় হয়েছিল ১৭২৬ টাকা। এ বারের বাজেট? নির্দিষ্ট অঙ্ক বলতে দ্বিধা কমিটির। তবে প্রতিমাই যেখানে সওয়া লক্ষ, সেখানে মোট বাজেট তো বেশ কয়েক লক্ষ হবেই, বললেন এক সদস্য। এই পুজোয় এ বার শুধু মূর্তি নয়, চমক থাকছে অনেক কিছুতেই।
এবার পুজো কমিটির সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অমলেন্দু নাগকে। সম্পাদক বিপুল দাস। মাস খানেক আগে আনুষ্ঠানিক ভাবে শঙ্খ বাজিয়ে, উলুধ্বনি দিয়ে মণ্ডপের খুঁটি পুজো করা হয়েছে। আয়োজকদের পক্ষে মঞ্জুরি গোস্বামী, দীনেন্দ্র চৌধুরী, রক্তিমাভ দাস প্রমুখ জানান, এবার নবদ্বীপের শিল্পী ভুলুকা সাধুখাঁ ‘হোগলা পাতা’ দিয়ে মন্ডপ তৈরি করবেন। মন্ডপ হবে মন্দিরের আদলে। নবদ্বীপের আলোক-শিল্পী আলোক পাল আলোর রোশনাইয়ের দায়িত্বে। এক চালার মূর্তি গড়বেন শিল্পী হরি পাল। দেবীর যাবতীয় অলংকার আনা হচ্ছে কলকাতা থেকে। শক্তিসংঘের সদস্যরা জানান, সুবর্ণজয়ন্তী বর্ষের পুজোর উৎসব আরম্ভ হয়ে যাবে মহালয়ার দিন থেকেই। সেদিন বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় প্রদর্শিত হবে উত্তর-পূর্বের আট রাজ্যের সাংস্কৃতিক পরম্পরা। এ ছাড়াও, ৫১ জন মহিলা পাঁচ ঘাটের জল ভরে আনবেন। এই জল দিয়েই শুরু হবে বোধনের পুজো।
সুবর্ণজয়ন্তী বর্ষকে স্মরণীয় করতে শক্তি সঙ্ঘ একটি স্মরণিকাও প্রকাশ করবে। ষষ্টি পুজোর দিন স্মরণিকা প্রকাশ হবে। পুজোর ক’টা দিন সন্ধ্যায় থাকবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সব শেষে বিজয়া সম্মিলনী। পুজোর ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে দুঃস্থদের সাহায্য, ছাত্রদের মধ্যে পুস্তক বিতরণ এবং বিভিন্ন ধরণের প্রতিযোগিতারও আয়োজন করা হচ্ছে। শক্তি সঙ্ঘের প্রথম পুজোয় অভিনীত হয়েছিল নাটক। পরিবেশিত হয়েছিল কীর্তন। এ বারও তেমন পরিকল্পনা রয়েছে উদ্যোক্তাদের।