গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
নিস্তব্ধ হাসপাতালের দেওয়ালে ধাক্কা খাচ্ছে এক অসহায় বাবার আর্তনাদ।
৩৮ বছরের রামিজ় খান জম্মু ও কাশ্মীরের পুঞ্চে লাইব্রেরি অ্যাসিস্ট্যান্টের চাকরি করেন। স্ত্রী উরুসা ও ১২ বছরের দুই যমজ সন্তান জ়ায়ান ও উরওয়া ফাতিমাকে নিয়ে ছিল তাঁর ভরা সংসার। ছিল, কারণ গত ৭ মে পাকিস্তানি হামলায় প্রাণ গিয়েছে জ়ায়ান ও উরওয়ার। সেই হামলাতেই গুরুতর জখম হয়ে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় জম্মুর সরকারি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন রামিজ়। দুই সপ্তাহ পরে যখন তাঁর জ্ঞান ফেরে, তখনও তাঁর ঠোঁটের ডগায় ছিল দুই সন্তানের কুশল প্রশ্ন। শুক্রবার সন্ধ্যায় সত্যিটা তাঁকে জানানো হয়, তার পরেই আর্তনাদ করে কেঁদেওঠেন রামিজ়।
জম্মুর সরকারি হাসপাতালের নার্স লুথরা শর্মা আনন্দবাজারকে জানিয়েছেন, “জ্ঞান ফেরার পর থেকেই বার বার রামিজ় জিজ্ঞাসা করছিলেন তাঁর দুই সন্তানের কথা। আমরা দ্বিধায় ছিলাম সত্যিটা তাঁকে জানাব কি না। তার পর যখন জানানো হল, পুরো হাসপাতালযেন নিশ্চুপ হয়ে গিয়েছিল রামিজ়ের কান্নায়।” লুথরার মতোই রামিজ়ের চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা আর এক চিকিৎসক রাজেশ কল জানিয়েছেন, “রামিজ়ের যন্ত্রণা চোখে দেখা যায় না। সন্তানের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরে ওর হাহাকারে আমিও চোখের জল আটকাতে পারিনি।” রাজেশ আরও জানান, রামিজ়ের এখনও চিকিৎসা চলছে। তাঁর স্ত্রী উরুসা কোনও রকমে প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন।
গত এপ্রিল মাসেই জ়ায়ান ও উরওয়ার ১২ বছরের জন্মদিন ধুমধাম করে পালন করেছিলেন রামিজ় ও উরুসা। কাশ্মীরের কালানি চাকথ্রু গ্রামের পৈতৃক ভিটে ছেড়ে পুঞ্চের মণ্ডী এলাকায় থাকতে শুরু করেছিলেন তাঁরা। স্বামী স্ত্রীর স্বপ্ন ছিল, ছেলে-মেয়েকে ভাল স্কুলে পড়ানোর। জ়ায়ান ও উরওয়াদু’জনেই অত্যন্ত মেধাবী ছিল বলে পরিজনের দাবি। পাকিস্তানের গোলাবর্ষণ তাদের পরিবার থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গেল। পুঞ্চের যে স্কুলে ওই দুই বালক-বালিকা পড়ত, সেই স্কুলের আর এক পড়ুয়াও নিহত হয়েছে গোলাবর্ষণে। শোকস্তব্ধ শিক্ষক-শিক্ষিকা, পড়ুয়া ওঅশিক্ষক কর্মীরা।
প্রশাসন সূত্রে খবর, পাকিস্তানের গোলাবর্ষণে ব্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলির মধ্যে অন্যতম পুঞ্চ। অন্তত ১৩ জন মানুষের প্রাণ গিয়েছে সেই হামলায়, তাদের মধ্যেচার জন শিশু। গুরুতর জখম ৫০ জনেরও বেশি। রামিজ়-উরুসার দুই সন্তান ওই হামলায় নিহতদের কনিষ্ঠতম।
দুই সন্তানের সুস্থ ও উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন বুকে নিয়ে জীবন গুছিয়ে নিচ্ছিলেন রামিজ়। পাকিস্তানের গোলাবর্ষণের পরে এখন সেখানে স্রেফ দগদগে ক্ষত।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে