—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
ত্রিপুরায় বিএসএফের গুলিতে এক সন্দেহভাজন বাংলাদেশি পাচারকারী নিহত হয়েছে। রাজ্যের ঊনকোটি জেলার কৈলাসহরের ইরানি থানার অন্তর্গত লাটিয়াপুড়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। ঘটনাচক্রে, বর্তমানে ভারত-বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় সন্দেহভাজন বাংলাদেশিদের জোর করে ফেরত পাঠানোর ঘটনা ঘিরে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। অন্য একটি ঘটনায় আগরতলার লঙ্কামুড়া সীমান্তবর্তী এলাকায় কাঁটাতারের বেড়ার নীচ দিয়ে এক বাংলাদেশি যুবক ত্রিপুরায় ঢুকেছিল। এই ঘটনাকে ঘিরে ওই এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়।
শুক্রবার রাতে কৈলাসহরের লাটিয়াপুড়া এলাকায় পাচারকারীরা সীমান্ত পেরিয়ে ত্রিপুরায় ঢুকেছিল বলে অভিযোগ। ওই সময়ে বিএসএফ জওয়ানেরা তাদের দেখে ফেলে বাধা দেন। বাহিনী সূত্রের দাবি, চোরাকারবারিরা হামলা চালালে বাধ্য হয়ে বিএসএফ-কে গুলি চালাতে হয়। মুজিব আলী নামে এক সন্দেহভাজন বাংলাদেশি পাচারকারী ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। আরও কয়েক জন বাংলাদেশি সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশের দিকে পালিয়ে গিয়েছে বলে জানা যায়। সূত্রের দাবি, নিহত পাচারকারী বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া থানার অন্তর্গত শরীফপুর ইউনিয়নের দত্তগ্রামের বাসিন্দা। ঘটনার পরে বিএসএফ ওই এলাকা থেকে মজুত রাখা বিপুল পরিমাণ বিড়ি উদ্ধার করেছে।
বাংলাদেশের পুলিশ এবং বিজিবি সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছে, মুজিব আলী মৌলভীবাজারের দত্তগ্রাম এলাকার অজিব আলীর ছেলে। তাদের দাবি, মুজিব আলী-সহ বাংলাদেশি চোরাকারবারিদের ছ’-সাত জনের একটি দল ভারতীয় চোরাকারবারিদের সহায়তায় সীমান্ত পিলার ১৮৫২/৫-এস থেকে আনুমানিক ৫০০ গজ ভিতরে ঢুকে চোরাই মাল আনতে গিয়েছিল। তখন বিএসএফের ১৯৯ ব্যাটেলিয়নের লাঠিয়াপুড়া ক্যাম্পের জওয়ানরা পাচারকারীদের বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বাংলাদেশি চোরাকারবারিরা বিএসএফ জওয়ানদের উপরে দেশি অস্ত্র নিয়ে আক্রমণের চেষ্টা চালায়। তখন বিএসএফের গুলিতে নিহত হয় মুজিব আলী।
ঊনকোটি জেলা হাসপাতালের মেডিক্যাল সুপারিন্টেডেন্ট রোহন পাল জানান, শুক্রবার রাতে বিএসএফ ও পুলিশ নিহতের দেহটি হাসপাতালে আনার পরে ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সুরঞ্জন দাসের নেতৃত্বে চিকিৎসক দল ময়না তদন্তের কাজ সম্পন্ন করছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বিএসএফ, স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে