—প্রতীকী চিত্র।
ইলাহাবাদ হাই কোর্টের লখনউ বেঞ্চের আদালত ভবনের ছাদ থেকে ঝাঁপ দেওয়ার চেষ্টা করলেন এক মহিলা। শুক্রবারের ঘটনা। উত্তরপ্রদেশের গোন্ডা জেলার বছর ৩০-এর ওই মহিলার অভিযোগ, তাঁর উপরে দিনের পর দিন গণধর্ষণ চালানোর পাশাপাশি, ধর্ম পরিবর্তনের জন্য জোর দেওয়া হত। এর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হলে, তাঁকে এবং তাঁর সন্তানকে মেরে ফেলার হুমকি দিতে শুরু করে অভিযুক্তেরা। চাপের মুখে শুক্রবার ওই মহিলা আদালতের ছাদে উঠে ঝাঁপ দেওয়ার চেষ্টা করলে, আইনজীবীরা তাঁকে আটকান। মহিলার অভিযোগের ভিত্তিতে নতুন করে তদন্ত হচ্ছে।
নির্যাতিতার অভিযোগ, তাঁকে বিয়ে করার মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে অপহরণ করা হয়। এর পরেই শুরু হয় তাঁর উপরে নানা ভাবে শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন। সেই সঙ্গে চলতে থাকে গণধর্ষণ। মহিলার বয়ান অনুযায়ী, তাঁকে একাধিক বার গণধর্ষণ করা হয়েছিল। এর পাশাপাশি, জোর করে তাঁর ধর্ম পরিবর্তন এবং বিয়ের জন্যও চাপ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
মহিলা আরও জানান, তিনি পরে এক সন্তানের জন্ম দেন। কিন্তু সন্তানের বাবার দায়িত্ব নিতে অস্বীকার করেন অভিযুক্তেরা। এমনকী, তাঁকে যে গ্রামে রাখা হয়েছিল, সেখানকার গ্রামপ্রধান-সহ বেশ কয়েক জন প্রভাবশালী অভিযুক্তদের আড়াল করার চেষ্টা করেন। এই অবস্থায় নির্যাতিতা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ, এর পরেই অভিযুক্তেরা হুমকি দেয়, এই মামলা চালালে তাঁকে ভয়াবহ পরিণতির মুখে পড়তে হবে।
হুমকির মুখে গতকাল সকালে ওই নির্যাতিতা ইলাহাবাদ হাই কোর্টের ছাদে উঠে পড়েন এবং সেখান থেকে ঝাঁপ মারার হুমকি দিতে থাকেন। কাঁদতে কাঁদতে মহিলা জানান, তাঁকে বার বার মামলা তুলে নেওয়ার জন্য জোর করা হচ্ছে। তিনি এ-ও অভিযোগ করেছেন, ভয় দেখাতে তাঁর সন্তানকে ছাদ থেকে ছুড়ে ফেলার হুমকি দেয় অভিযুক্তেরা। এমনকী, শিশুটিকে ছাদ থেকে ঝুলিয়েও রাখা হয়। দোষীদের গ্রেফতার করে উপযুক্ত শাস্তির দাবি তুলেছেন ওই মহিলা।
এই পরিস্থিতিতে এগিয়ে আসেন আইনজীবীরা। তাঁকে সুবিচার দেওয়ার পাশাপাশি, তাঁর সন্তানের সুরক্ষার দিকটিও নিশ্চিত করেছেন তাঁরা। মহিলাকে শান্ত করে ছাদ থেকে নামিয়ে আনা হয়। তবে উত্তেজনার বশে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন তিনি।
স্থানীয় পুলিশ মহিলার এফআইআরের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে। তাঁর সমস্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে