...জন্মেছি এই দেশে

গোড়াতেই একটা কথা স্পষ্ট করে বলি। প্রথমত, আমি বা আমার স্ত্রী কিরণ, কারও দেশ ছাড়ার কোনও ইচ্ছে নেই। আমরা কখনও এমন করিনি, ভবিষ্যতেও করব না। যাঁরা এর উল্টো মানে করছেন, তাঁরা হয় আমার সাক্ষাৎকারটি দেখেননি।

Advertisement
শেষ আপডেট: ২৬ নভেম্বর ২০১৫ ০৪:০৮
Share:

গোড়াতেই একটা কথা স্পষ্ট করে বলি। প্রথমত, আমি বা আমার স্ত্রী কিরণ, কারও দেশ ছাড়ার কোনও ইচ্ছে নেই। আমরা কখনও এমন করিনি, ভবিষ্যতেও করব না। যাঁরা এর উল্টো মানে করছেন, তাঁরা হয় আমার সাক্ষাৎকারটি দেখেননি। নয়তো আমি যা বলেছি, উদ্দেশ্যপূর্ণ ভাবে তার বিকৃতি ঘটানোর চেষ্টা করছেন। ভারত আমার দেশ, আমি দেশকে ভালবাসি। এ দেশে জন্মেছি বলে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি। এ দেশেই আমি থাকব।

Advertisement

দ্বিতীয়ত সাক্ষাৎকারে আমি ঠিক যা যা বলেছি, এখনও তা-ই বলছি।

যাঁরা আমায় ভারত-বিরোধী আখ্যা দিচ্ছেন, তাঁদের জানাচ্ছি, আমি ভারতীয় বলে গর্বিত। তার জন্য কারও অনুমোদন বা সিলমোহরের প্রয়োজন নেই আমার।

Advertisement

মনের কথা বলার অপরাধে যাঁরা আমার বিরুদ্ধে কটূক্তি করছেন, দুঃখের সঙ্গে বলতে বাধ্য হচ্ছি, তাঁরা আসলে আমার বক্তব্যকেই সত্যি প্রমাণ করছেন।

যাঁরা আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাঁদের ধন্যবাদ। আমাদের এই অনন্য সুন্দর দেশের যা কিছু সত্যিকার অভিজ্ঞান, সেই সব কিছু আগলে রাখতে হবে। এ দেশের সংহতি, এ দেশের বৈচিত্র্য, অন্যকে আপন করে নেওয়ার ঐতিহ্য, অসংখ্য ভাষা-সংস্কৃতি-ইতিহাস, এ দেশের সহিষ্ণুতা, একান্তবাদের ধারণা, এ দেশের ভালবাসা, সংবেদনশীলতা আর হৃদয়ের শক্তিকে আমাদের রক্ষা করতে হবে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি কবিতা দিয়ে আমার বক্তব্য শেষ করছি।

এটা সত্যিই প্রার্থনা:

চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির,

জ্ঞান যেথা মুক্ত, যেথা গৃহের প্রাচীর

আপন প্রাঙ্গণতলে দিবসশর্বরী

বসুধারে রাখে নাই খণ্ড ক্ষুদ্র করি,

যেথা বাক্য হৃদয়ের উৎসমুখ হতে

উচ্ছ্বসিয়া উঠে, যেথা নির্বারিত স্রোতে

দেশে দেশে দিশে দিশে কর্মধারা ধায়

অজস্র সহস্রবিধ চরিতার্থতায়—

যেথা তুচ্ছ আচারের মরুবালুরাশি

বিচারের স্রোতঃপথ ফেলে নাই গ্রাসি,

পৌরুষেরে করে নি শতধা; নিত্য যেথা

তুমি সর্ব কর্ম চিন্তা আনন্দের নেতা—

নিজ হস্তে নির্দয় আঘাত করি, পিতঃ,

ভারতেরে সেই স্বর্গে করো জাগরিত।

জয় হিন্দ,

আমির খান

আমিরকে সমর্থন রহমানের

অসহিষ্ণুতা প্রসঙ্গে আমির খানকে এ বার সমর্থন জানালেন সঙ্গীত পরিচালক এ আর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘‘আমিরের সঙ্গে নিজেকে মেলাতে পারছি। কয়েক মাস আগে এক অভিজ্ঞতা হয়েছিল আমার।’’ ইরানি সিনেমা ‘মহম্মদ: মেসেঞ্জার অব গড’ ছবির সঙ্গীত পরিচালনা করায় বিপুল সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল রহমানকে। মুম্বইয়ের কট্টরপন্থী মুসলিম সংগঠন ‘রাজা অ্যাকাডেমি’ তাঁর বিরুদ্ধে ফতোয়া জারি করেছিল। একই সময় দিল্লি এবং উত্তরপ্রদেশে বাতিল করে দেওয়া হয়েছিল রহমানের সব ক’টি অনুষ্ঠান। রহমানকে সে সময় ‘ঘর ওয়াপসি’-র ডাক দিয়েছিল বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। তাঁকে হিন্দুধর্মে পুনর্ধমার্ন্তরণের পরামর্শও দিয়েছিল তারা। রহমান জানিয়েছেন, সে সময় ‘আতঙ্কিত’ ছিলেন তিনি।

অ্যাপ ডিলিট!

স্মার্টফোন থেকে একটি অনলাইন বেচাকেনার সংস্থার অ্যাপ ডিলিট করে গত কাল রাত থেকে আমির খানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছিলেন সংস্থার বহু গ্রাহক। অনলাইন বেচাকেনা সংস্থাটির ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর খোদ আমির খান। টুইটারে এক গ্রাহক তাই লেখেন, ‘‘যত দিন না আমিরকে সরাচ্ছ, তত দিন তোমাদের থেকে কিছু কিনব না।’’ গ্রাহকদের অসন্তুষ্টি নিয়ে বুধবার মুখ খুলেছেন কর্তৃপক্ষ। সংস্থাটির কর্ণধার জানিয়ে দিয়েছেন, আমির যা বলেছেন তা ওঁর ব্যক্তিগত মতামত। এর সঙ্গে সংস্থার কোনও যোগ নেই।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement