(বাঁ দিকে) অরবিন্দ কেজরীওয়াল, রাঘব চড্ঢা (ডান দিকে)। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
পঞ্চায়েত নির্বাচনের পরে এ বার পঞ্জাবে পুরসভার ভোটেও বিপুল জয়ের পথে সে রাজ্যের শাসক দল আম আদমি পার্টি (আপ)। ঘোষিত ফল এবং গণনার প্রবণতা বলছে, পঞ্চনদের তীরে এ বার ১০২টি পুরসংস্থার (৮টি মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন বা পুরনিগম, ৭৫টি মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিল বা পুরসভা এবং ১৯টি নগর পঞ্চায়েত) অধিকাংশই অরবিন্দ কেজরীওয়ালের দলের দখলে আসতে চলেছে।
গত বৃহস্পতিবার ১০২টি পুরসংস্থার ১,৮৯৭টি ওয়ার্ডে ভোটগ্রহণ হয়েছিল। ভোট পড়েছিল প্রায় ৬৪ শতাংশ। মোট ১,৯৭৭টি ওয়ার্ডে ভোট হওয়ার কথা থাকলেও ৮০টি আসনে এক জনের বেশি প্রার্থী মনোনয়ন জমা দেননি। শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘোষিত ফল বলছে, ৬৯৮টি ওয়ার্ডে আপ জয়লাভ করেছে। অন্য দিকে, কংগ্রেস প্রার্থীরা ২৮১টি ওয়ার্ডে বিজয়ী হয়েছেন। নির্দল প্রার্থীরা ২১৭টি ওয়ার্ডে, শিরোমণি আকালি দল (এসএডি)-এর প্রার্থীরা ১৫০টি ওয়ার্ডে জয় পেয়েছেন। এ ছাড়া বিজেপি ৭৯টি, সমাজবাদী পার্টি ১৮টি, বহুজন সমাজ পার্টি (বিএসপি) ছ’টি ওয়ার্ডে জয়ী হয়েছে। অর্থাৎ দলগত ভাবে বিজেপি রয়েছে চতুর্থ স্থানে। প্রসঙ্গত, গত বছরের শেষে পঞ্জাবে পঞ্চায়েত ভোটেওদলগত ভাবে আপ প্রথম এবং বিজেপি চতুর্থ হয়েছিল।
গত মাসেই রাঘব চড্ঢা-সহ আপের সাত জন রাজ্যসভা সাংসদ বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে স্বাতী মালিওয়াল ছাড়া বাকি ছ’জনই পঞ্জাব থেকে সংসদের নির্বাচিত (রাঘব, প্রাক্তন ক্রিকেটার হরভজন সিংহ, দলের অন্যতম সম্পাদক সন্দীপ পাঠক, শিল্পপতি অশোক মিত্তল, রাজেন্দ্র গুপ্ত এবং বিক্রম সাহনে)। সেই ধাক্কা সামলে আপের এই জয় তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন ভোট-পণ্ডিতদের একাংশ। আগামী বছরের গোড়ায় পঞ্জাবে বিধানসভা ভোট হওয়ার কথা। তার আগে এই জয় আপ প্রধান অরবিন্দ কেজরীওয়া এবং পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানকে বাড়তি ‘অক্সিজেন’ জোগাবে বলেই তাঁদের মত। মান শুক্রবার সন্ধ্যায় আপের জয়ের জন্য পঞ্জাবসাবীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। ব্যালটে ভোটগ্রহণ হওয়ায় আটটি পুরনিগম— মোহালি, বঠিন্দা, আবোহর, বারনালা, কপূরথলা, মোগা, বাটালা এবং পঠানকোটে গণনার পূর্ণাঙ্গ ফল শুক্রবার গভীর রাতে প্রকাশিত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।